News update
  • GK irrigation pump station being redesigned as Ganges water levels fall     |     
  • New School Curriculum to Launch in 2028     |     
  • Iran Halts Israel Strikes, Warns of New Action     |     
  • Bangladesh Trade Deficit Rises $8bn in Five Years     |     
  • New BSEC chairman commits to IPO reform, digitalisation     |     

শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিল ভারত

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক খবর 2023-08-19, 7:36am

resize-350x230x0x0-image-236202-1692399246-12a9335e366342b9cf56b46b3349d31f1692409012.jpg




বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার পাশে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো এক কূটনৈতিক বার্তায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দেশটি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সম্প্রতি একাধিক মন্তব্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে সহমত নয় ভারত। জি২০ বৈঠকের আগে কূটনৈতিক বার্তায় বাংলাদেশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল দিল্লি। খবর ডয়চে ভেলের।

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে জানা যায়, কূটনৈতিক নোটে ভারত জানিয়েছে, বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনার সরকার দুর্বল হয়ে পড়লে ভূরাজনৈতিক দিক থেকে তা ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র কারও পক্ষেই সুখকর হবে না। কেননা ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনার সরকার দুর্বল হয়ে পড়লে জামায়াতের মতো সংগঠনের ক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করে ভারত।

এদিকে জামায়াতকে একটি রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তুলনা করে। কিন্তু ভারত মনে করে জামায়াত একটি উগ্র মৌলবাদী সংগঠন। ভারতের কূটনৈতিক বার্তায় একথা স্পষ্ট করা হয়েছে।

প্রতিবেদকনে আরও বলা হয়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। বাংলাদেশে জামায়াতের মতো সংগঠন শক্তিশালী হলে নিরাপত্তা সমস্যার মুখে পড়বে ভারতের সীমান্ত। এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে জামায়াতের মতো সংগঠনের নিবিড় যোগ আছে বলেই মনে করে ভারত।

কূটনৈতিক বার্তায় ভারত জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের মতো ভারতও চায় বাংলাদেশে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি যে মন্তব্যগুলি করেছে তা বর্তমান হাসিনা সরকারের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করে ভারত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্তা ডয়চে ভেলেকে জানান, আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল দিল্লি ঘুরে যাওয়ার পরেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এবিষয়ে আলোচনা হয়েছে ভারতীয় প্রশাসনের।

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লিতে জি২০-র বৈঠক শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও জি২০-র বৈঠকে আসবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের নির্বাচন এবং উপমহাদেশের ভূরাজনীতি নিয়ে সমান্তরাল বৈঠক হতে পারে জানা গেছে। জি২০-র মঞ্চকে এবিষয়ে আলোচনার জায়গা হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে ভারত।

আফগানিস্তানের প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটি সরিয়ে নিয়েছে, ভারত তাতে সন্তুষ্ট নয়। এর ফলে উপমহাদেশ অঞ্চলে অস্থিরতার আশঙ্কা বেড়েছে। তালেবান উপমহাদেশের ভূরাজনীতিতে একটি বড় 'থ্রেট' বলে মনে করছে ভারত।

পাশাপাশি ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ভারতের চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন যারা বানচাল করার চেষ্টা করবে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সে দেশে ঢুকতে দেবে না। ভারত মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি সরাসরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানো। ভারত এই নীতিকে ভালো চোখে দেখছে না। তাই বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক ভিসা নীতির সমালোচনা করেছে ভারত।

জি২০ বৈঠকে বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনায় এই সবকটি বিষয়ই উঠে আসতে পারে বলে মনে করছে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জন্ম থেকেই আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মসৃণ। যখনই দেশটিতে অন্য সরকার ক্ষমতায় এসেছে, দুই দেশের সম্পর্ক ততটা মসৃণ থাকেনি। তাই ভারত সবসময়ই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সরকারকে গুরুত্ব দেয়।

তিনি আরও মনে করেন, ভূরাজনৈতিক দিক থেকেও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সরকার দেখতে চায় ভারত। কেননা, ভারত মনে করে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় থাকলে দুই দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত থাকে। তথ্য সূত্র আরটিভি নিউজ।