News update
  • Political division undermining fight against ‘economic security emergency’     |     
  • Unilateral sanctions expand amid eroding multilateralism     |     
  • Padma Barrage work to open next Jan-Mar: Water Minister     |     
  • BSF's attempt to push-in 12 through Satkhira border foiled     |     
  • Govt Reviewing 101 MoUs, Agreements Signed With India     |     

সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে সুখবর দিলেন অর্থমন্ত্রী

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক জনসম্পদ 2026-07-30, 10:57am

img_20260730_105507-2a33ae4cb537ebd0c48315a87a354b9c1785387449.jpg




সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণা নিয়ে এখনো কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তা শিগগিরই মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন করলে শুরু হবে প্রজ্ঞাপন জারির কাজ। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বুধবার (২৯ জুলাই) সচিবালয়ে এ কথা জানান।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সুপারিশ প্রায় চূড়ান্ত করেছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

এ কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি দল ১২-১৬ জুলাই ঢাকায় এসে অর্থমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে গেছে। দলটি এ সময় রাজস্ব আহরণে জোর দেওয়ার পরামর্শ দেয়। পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থ সংস্থানের উৎস সম্পর্কে জানতে চায়।

সাত কিস্তিতে পাওয়ার জন্য আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচি ছিল ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে। পাঁচ কিস্তি পাওয়ার পর এটি আর এগোয়নি। তবে সংস্থাটির সঙ্গে ৪০০ কোটি ডলারের বেশি নতুন ঋণ কর্মসূচির আলোচনা চলছে। আগামী অক্টোবরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠেয় বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় এ নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা।

অর্থমন্ত্রীর কাছে গত বুধবার প্রশ্ন ছিল, নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করলে কি আইএমএফের কাছ থেকে নতুন ঋণ পাওয়া যাবে না? জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতনকাঠামোর কোনো সম্পর্ক নেই। কাজ চলছে। বেতনকাঠামো হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারি হতে বেশি সময় লাগবে না।’

দুই দিন পর পর বেতনকাঠামো নিয়ে কথা বলতে চান না জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে একেক গণমাধ্যম একেকভাবে সংবাদ প্রচার করছে। করুক। আমি একবারেই কথা বলব।’

অর্থ বিভাগের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা নিয়ে আইএমএফ সরাসরি কিছু বলেনি, বলার এখতিয়ারও রাখে না। তারা অর্থের সংস্থান নিয়ে জানতে চেয়েছে এবং বাস্তবায়ন করতে চাইলে রাজস্ব আহরণে সরকার যেন জোর দেয়—সে কথা বলেছে।

অষ্টম বেতন কমিশনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে এ বছরের ২১ জানুয়ারি। কমিশন প্রধান সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খান।

বিদ্যমান গ্রেড ২০টি বহাল রেখে কমিশন বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করে জাকির আহমেদ খান কমিশন। এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। আর সর্বোচ্চ বেতনকাঠামো নির্ধারিত ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয় নির্ধারিত ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বর্তমানে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে বাড়তি ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার দরকার পড়বে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়।

সুপারিশ বাস্তবায়নে নাসিমুল গনি কমিটি প্রথমে তিন অর্থবছরে ও পরে দুই অর্থবছরে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের খসড়া সুপারিশ করে। শেষ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মূল বেতন এবং পরের অর্থবছরে ভাতা দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন কমিটির সদস্যরা।

এদিকে ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে বলে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি বলেন, প্রায় ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই বেতনকাঠামোতে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এ সময়ে মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় খুব বেশি নয়।

বাজেটের ‘পরিচালন ও উন্নয়ন বাজেটের সম্পদের ব্যবহার’ অংশে ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় যা ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি। এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্য রাখা হয়েছে বলে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।