News update
  • First cruise ship crosses Strait of Hormuz since war began     |     
  • MDBs stress co-op support global stability amid uncertainty     |     
  • PM opens first Hajj flight, visits Ashkona camp     |     
  • River ports asked to hoist cautionary signal No 1     |     
  • Oil prices drop 9% & Wall Street rallies to a record after Iran reopens Hormuz     |     

বিয়ের সানাই বাজা বাড়িতে এখন কান্নার রোল

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক দূর্ঘটনা 2026-03-12, 11:25pm

d4a55ce8c35f4657c6eeb565a2ded87d6b28875f9530b500-911335c0a09a54abde1e2fd5eefb79041773336331.jpg




একদিন আগেও যে বাড়িতে বাজছিল বিয়ের সানাই, হাসি-আনন্দে মুখর ছিল আঙিনা, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই বাড়িতেই এখন বুকফাটা কান্না। আনন্দের আলো নিভে গিয়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া.

বাগেরহাটের মোংলা-রামপাল সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোদের মধ্যে নববধূসহ চার জনের বাড়ি খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নে।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় কয়রার মেয়ে মিতু আক্তারের সঙ্গে মোংলার যুবক সাব্বিরের বিয়ে হয়। সারাদিনের আয়োজন, আত্মীয়-স্বজনের ভিড়, হাসি-আনন্দ আর নতুন সংসারের স্বপ্নে ভরে উঠেছিল পুরো বাড়ি। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বরপক্ষের সদস্যরা রাতটিও কাটান কনের বাড়িতেই। রাতভর চলেছে গল্প, আড্ডা, হাসি আর ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা। কেউ জানতো না, এই আনন্দের রাতের পরই অপেক্ষা করছে এমন নির্মম পরিণতি।

বৃহস্পতিবার সকালে আসে বিদায়ের সেই আবেগঘন মুহূর্ত। বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজনের চোখের জলে ভেজা বিদায় নিয়ে নতুন জীবনের পথে পা বাড়ান নববধূ মিতু। বিয়ের সাজে, স্বপ্নভরা চোখে বরের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন একটি মাইক্রোবাসে। একই গাড়িতে ছিলেন তার বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদাসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য। কিন্তু নিয়তি যেন ওত পেতে ছিল পথেই। বাগেরহাটের রামপাল এলাকায় পৌঁছাতেই একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় বিয়ের গাড়িবাহী মাইক্রোবাসটির। মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় গাড়ি। এক নিমিষেই নিভে যায় কয়েকটি তাজা প্রাণের প্রদীপ।

এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বর সাব্বিরসহ নববধূ মিতু আক্তার, তার বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা, নানী আনোয়ারাসহ মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আনন্দের যাত্রা পরিণত হয় শোকের যাত্রায়।

দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে পড়ে কয়রার আমাদি ইউনিয়ন। যে বাড়িতে একদিন আগেও বিয়ের গান বাজছিল, ছিল আনন্দের কোলাহল, সেই বাড়িতেই এখন শুধুই স্বজন হারানোর আহাজারি।

প্রতিবেশীরা বলছেন, সকালেও যে মেয়ে বিয়ের সাজে বিদায় নিয়েছিল, বিকেলের মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর শুনে কেউ যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না। পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহত নববধূ মিতু আক্তার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। স্বপ্ন ছিল নতুন সংসার, নতুন জীবন, নতুন ভবিষ্যৎ। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস-বিয়ের সাজই হয়ে উঠলো তার জীবনের শেষ সাজ।