News update
  • Stocks end week sharply lower as DSE, CSE indices tumble     |     
  • 'Not all collections in the road transport sector is extortion': Sk Rabiul     |     
  • Zubaida, Zaima take iftar with orphan students     |     
  • Dhaka ranks second among world’s most polluted cities Friday     |     
  • Dhaka to maintain ties with all countries with dignity     |     

রমজানের প্রথম জুমা আজ, ফজিলতপূর্ণ এই দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ধর্মবিশ্বাস 2026-02-20, 11:00am

dffgrterte-458bb98d9771834aded0c38a934fd1f11771563656.jpg




পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম জুমা আজ (২০ ফেব্রুয়ারি)। রহমতের দশকের দ্বিতীয় রোজায় পড়েছে বরকতময় এ জুমা। 

ইসলামে জুমার দিনটি হলো সপ্তাহের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। এ দিনটির গুরুত্ব ও মর্যাদা এত বেশি যে, পবিত্র আল-কোরআনে ‘জুমা’ (জমায়েত) নামে একটি স্বতন্ত্র সুরাই আছে। কোরআনের ৬২ নম্বর এই সুরায় জুমার নামাজের গুরুত্ব বর্ণনা করে আল্লাহ বলছেন, ‘হে বিশ্বাসীরা! জুমার দিন যখন নামাজের জন্য ডাকা হয়, তখন তোমরা আল্লাহকে মনে রেখে তাড়াতাড়ি করবে ও কেনাবেচা বন্ধ রাখবে। এ-ই তোমাদের জন্য ভালো; যদি তোমরা বোঝো।’ (সুরা জুমা, আয়াত: ৯)

অন্যদিকে ইসলামে সর্বশ্রেষ্ঠ মাস হলো রমজান। এটি শুধুমাত্র রোজা রাখার মাস নয়, বরং একে কেন্দ্র করে নানা ধরনের ইবাদত এবং আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ ও তাওবা করার সুযোগ রয়েছে। রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্ত মহান আল্লাহর অনুগ্রহে ভরপুর। এ মাসে একেকটি ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বেড়ে যায়। রমজানে প্রতিটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব হয় ৭০টি ফরজ ইবাদতের সমান; আর প্রত্যেকটি নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজ ইবাদতের সমান। 

আজ একদিকে যেহেতু জুমার দিন; আর অপর দিকে পবিত্র মাহে রমজান— এ কারণে আজকের এই দিনটি মুসলমানদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্ববহ ও ফজিলতপূর্ণ। আর এই দিনটিকে ঘিরে মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের জন্য বিশেষ কিছু আমলও আছে।

পবিত্র কোরআনে জুমার দিন মসজিদে দ্রুত গমনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, হে মুমিনরা! জুমার দিন নামাজের আজান হলে তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো, তা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝো। এরপর নামাজ শেষ হলে ভূপৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (জীবিকা) অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সুরা : জুমা, আয়াত : ৯-১০)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত— রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা, এক রমজান থেকে পরবর্তী রমজান মধ্যবর্তী সময়ের পাপ মোচন করে; যদি সেই ব্যক্তি সব ধরনের কবিরা গুনাহ থেকে বিরত থাকে। (মুসলিম শরিফ, হাদিস : ২৩৩)

অন্য হাদিসে নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যাক্তি জুমার দিন গোসল করে এবং যথাসম্ভব উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে, তেল মেখে নেয় অথবা সুগন্ধি ব্যবহার করে, তারপর মসজিদে যায়, মানুষকে ডিঙ্গিয়ে সামনে যাওয়া থেকে বিরত থাকে, তার ভাগ্যে নির্ধারিত পরিমাণ নামাজ আদায় করে, ইমাম যখন খুতবার জন্য বের হন তখন চুপ থাকে, তার এ জুমা এবং পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ বুখারি শরিফ; হাদিস: ৯১০)

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, জুমার দিনে এমন একটা সময়ে রয়েছে, যাতে আল্লাহর বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায় আল্লাহ তাই দেন। অতএব তোমরা আছরের শেষ সময়ে তা তালাস করো। (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৮, নাসাঈ, হাদিস : ১৩৮৯)

অন্যত্র আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, পবিত্র রমজানের একটি রাত বরকত ও ফজিলতের দিক থেকে হাজার মাস থেকেও উত্তম। এ মাসের রোজাকে আল্লাহ তাআলা ফরজ করেছেন এবং এর রাতগুলোয় আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোকে নফল ইবাদত রূপে নির্দিষ্ট করেছেন। যে ব্যক্তি রমজানের রাতে ফরজ ইবাদত ছাড়া সুন্নত বা নফল ইবাদত করবে, তাকে এর বিনিময়ে অন্যান্য সময়ের ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব প্রদান করা হবে। আর যে ব্যক্তি এ মাসে কোনো ফরজ আদায় করবে, সে অন্যান্য সময়ের ৭০টি ফরজ ইবাদতের সমান পুণ্য লাভ করবে। (বায়হাকি)

এ হাদিসের আলোকে বোঝা যায় জুমার দিনের বিশেষ যে আমলগুলো সারা বছরই অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ, রমজানে সেগুলোর সওয়াবও বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই রমজানে জুমার দিন বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জুমার দিনের বিশেষ আমলগুলো পালন করুন :

১. জুমার নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে ভালোভাবে গোসল করুন। দাঁত ব্রাশ/ মিসওয়াক করুন, সম্ভব হলে সুগন্ধী ব্যবহার করুন এবং উত্তম পোশাক পরিধান করুন।

২. জুমার নামাজের জন্য দ্রুত মসজিদে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করুন। ইমাম খুতবা শুরু করার আগে অবশ্যই মসজিদে উপস্থিত হোন। ইমামের কাছাকাছি বসার চেষ্টা করুন। তবে মসজিদে পৌছতে দেরি হলে অন্যদের কষ্ট দিয়ে কাতার ডিঙ্গিয়ে সামনে যাবেন না; যেখানে জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই বসে পড়ুন।

৩. মনযোগ দিয়ে খুতবা শুনুন। খুতবার সময় কথা বলবেন না। অন্য কাউকে চুপ থাকতে বলার প্রয়োজন হলে ইশারায় বলুন। উত্তমরূপে জুমার নামাজ আদায় করুন।