
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় (ইউএসএফ) অধ্যয়নরত দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ড ঘিরে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আদালতের নথি ও প্রসিকিউটরদের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
আদালতের নথি বলছে, লিমনকে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। একইভাবে বৃষ্টিকেও পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা তদন্তকারীদের। এমনকি প্রমাণ মুছে ফেলতে অভিযুক্ত চ্যাটজিপিটিরও সহায়তা নিয়েছে বলে তথ্য উঠে এসেছে।
সিসিটিভির ফুটেজ, ডিজিটাল ট্র্যাকিং এবং ফরেনসিক পরীক্ষায় উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র। ফ্ল্যাটে রক্তের দাগ, ব্যক্তিগত জিনিসপত্রের অবস্থান এবং বিভিন্ন আলামত ঘটনাটিকে আরও স্পষ্ট করেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, চ্যাটজিপিটি সার্চ হিস্ট্রি ও ভৌত প্রমাণ মিলিয়ে এটি ছিল অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত অপরাধ।
প্রসিকিউটরদের দাবি, মামলার প্রাথমিক প্রমাণই অভিযোগের ভয়াবহতা তুলে ধরছে। গত শনিবার জামিলের সাবেক রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে আদালতে হাজির করা হয়। আসন্ন প্রি-ট্রায়াল ডিটেনশন শুনানিতে তাকে জামিন ছাড়া আটক রাখার আবেদন জানানো হবে। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, এমন অভিযুক্ত মুক্ত থাকলে তা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে বক্তব্য পরিবর্তন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি দিচ্ছেন, এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার হত্যাকাণ্ড।
এদিকে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জামিলের সাবেক রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে তোলা হবে আদালতে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন আইনজীবীরা।
গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লিমনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি অভিযুক্ত হিশামের রুমমেট ছিলেন, যিনি নিজেও ইউএসএফ-এর প্রাক্তন ছাত্র। এ ঘটনায় এখনও বৃষ্টির মরদেহ পাওয়া যায়নি।