News update
  • Woman killed, 4 of her family missing in Meghna boat capsize     |     
  • State can never be strong keeping citizens powerless: PM at UNGA     |     
  • Trump welcomes Xi in Washington as US-China trade truce extended     |     
  • Prevention at heart of govt’s healthcare reform: PM     |     
  • Death toll rises to 11 following typhoon-induced downpours in Japan     |     

মিশরে বাংলাদেশি কর্মী নিয়ে সুখবর দিল দূতাবাস

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক প্রবাস 2026-09-25, 2:32pm

img_20260925_143003-4320dc8604c547bc6c9d523789edae6c1790325140.jpg




মিশরে কর্মরত বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিকদের দক্ষতা, নিষ্ঠা ও কর্মমানের প্রশংসা করে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় পোশাক কারখানা। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতাও চেয়েছে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মিশরের মোনুফিয়া ফ্রি জোনে অবস্থিত এলিগেন্স অ্যাপারেলস ফ্যাক্টরি পরিদর্শনকালে এ আগ্রহের কথা জানায় কারখানা কর্তৃপক্ষ। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কায়রোস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) গৌতম কুমার দে এবং শ্রম সচিব মো. জাকির হোসেন কারখানাটি পরিদর্শন করেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এলিগেন্স অ্যাপারেলসে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে দুই শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিক। কারখানাটিতে উৎপাদিত পোশাক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও বহুজাতিক ক্রেতার কাছে রপ্তানি করা হয়।
পরিদর্শনকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতা, দায়িত্বশীলতা, পরিশ্রম ও কাজের মানের প্রশংসা করে। বাংলাদেশি কর্মীদের কাজে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে তারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে। এ জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

ওয়ার্ক পারমিট বন্ধ, তবু বৈধ হওয়ার সুযোগ
মিশরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সরকারি পর্যায়ে ওয়ার্ক পারমিটভিত্তিক ভিসা চালু না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দেশটিতে নতুন করে বাংলাদেশি শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ সীমিত। তবে দেশটিতে আগে থেকেই বসবাসরত বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ার বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দূতাবাস-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে মিশরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি শ্রমিককে বৈধতার আওতায় আনার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত অবস্থায় থাকা অনেক বাংলাদেশি কর্মী বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।
এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও কর্মমানের প্রতি মিশরীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে পোশাকশিল্পে বাংলাদেশি কর্মীদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কর্মীদের কল্যাণে গুরুত্ব দূতাবাসের
এলিগেন্স অ্যাপারেলস পরিদর্শনের সময় দূতাবাসের কর্মকর্তারা কারখানায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তারা কর্মপরিবেশ, আবাসন, সুযোগ-সুবিধা এবং কর্মক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবাসনসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও তারা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ থেকে আরও কর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করা হয়। পাশাপাশি বর্তমানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
দূতাবাসের পরিদর্শনে সন্তুষ্ট কর্মীরা
এ সময় কারখানাটিতে কর্মরত বাংলাদেশি প্রোডাকশন ম্যানেজার হোসেন ও প্রোডাকশন সুপারভাইজার মাসুদ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কর্মস্থল পরিদর্শনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তারা বলেন, দূতাবাসের কর্মকর্তারা সরাসরি কর্মস্থলে এসে বাংলাদেশি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলায় তারা আনন্দিত। কর্মীদের স্বার্থ ও কল্যাণের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য তারা দূতাবাসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থে নিয়মিত পরিদর্শন
পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত) গৌতম কুমার দে বলেন, মিশরে যেসব প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি কর্মীরা কাজ করছেন, সেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত পরিদর্শন করা হবে। বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ, কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দূতাবাস কাজ করে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি কর্মীদের দক্ষতা ও সুনাম যেন মিশরে আরও বৃদ্ধি পায় এবং দেশটিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হয়, সে বিষয়ে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।
এলিগেন্স অ্যাপারেলস ফ্যাক্টরি পরিদর্শনকে মিশরে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে দূতাবাসের সরাসরি যোগাযোগ আরও জোরদার এবং সম্ভাব্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র চিহ্নিত করার একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।