
বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় তিনি সৌদি সরকারের শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন এবং বাংলাদেশ–সৌদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার। তিনি স্মরণ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থাপনের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা হয়। ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়ার ঐতিহাসিক সৌদি সফরের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
উভয় পক্ষ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য জোরদারে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি, সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। দুই দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে ১৯৭৯ সালে প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করেছিল সৌদি আরব। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদি আরবের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে টেকসই প্রত্যাবাসনে সমর্থন কামনা করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি সমন্বিত ও বিস্তৃত অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালে সৌদি আরব বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ৭ লাখ ৫০ হাজার কর্মভিসাসহ মোট ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে। দেশটিতে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দক্ষ ও অর্ধদক্ষ কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে একই দিন রাষ্ট্রদূত নবনিযুক্ত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রতিমন্ত্রী সৌদি যুবরাজের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত ভিশন ২০৩০–এর সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন।