সুন্দরবনের মধু ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পাওয়ায় দেশ-বিদেশে এর চাহিদা বেড়েছে। ব্যস্ত সময় পার করছেন সাতক্ষীরার মধু প্রসেসিং সেন্টারের কর্মীরা। আনন্দিত মধু সংগ্রহকারী মৌয়াল ও ব্যবসায়িরা। তবে দাদন ব্যবসায়ীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে অল্প সুদে সরকারি ঋণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসক বলেছেন, সুন্দরবনের মধু জিআই সনদ পাওয়া গর্বের। ফলে রফতানি সহজ হবে। তিনি জানান, বিসিক শিল্পনগরীতে আধুনিক মধু প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মৌয়ালদের জন্য ঋণের ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের মোট আয়তন ১০ হাজার বর্গকিলোমিটার, যার ৬৬ শতাংশই বাংলাদেশে। আয়তন ও উৎপাদনের দিক থেকেও বাংলাদেশের অংশে মধু বেশি হওয়ায় জিআই সনদ পেয়েছে বাংলাদেশ।
জিআই সনদ পাওয়ায় কর্মসংস্থান দ্বিগুণ বেড়েছে বলে জানান সাতক্ষীরা মধু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘দেশে যেমন চাহিদা বেড়েছে, তেমনি রফতানি তিন গুণ বাড়বে। এ খাতে এখন আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।’
মৌয়ালরা জানান, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ করতে হয়। দাদন ব্যবসায়ীদের কড়াল থাবা থেকে বাঁচতে সরকারি সহায়তায় সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা খুবই জরুরি।
বন বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে শুধু সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকেই আহরিত হয়েছে ১ হাজার ২২৭ কুইন্টাল মধু। এতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১৯ লাখ ৬৪ হাজার ৭০০ টাকা। পাশাপাশি ৩৬৭ কুইন্টাল মোম আহরণ থেকে রাজস্ব এসেছে ৮ লাখ ৯ হাজার ৩৩০ টাকা। চলতি বছর এই রাজস্ব আরও বাড়বে বলে আশা করছে বন বিভাগ। সময়।