News update
  • Restoring trust in Allah, Caretaker Govt; good governance, employment, no-revenge BNP's key election pledges      |     
  • ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর জানবেন যে ৪ পদ্ধতিতে      |     
  • Sri Lanka urges Pakistan to reconsider India match     |     
  • Centre of World Cup storm Mustafizur lands PSL deal with Lahore     |     

৩৪ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের রাস্তা পার করান এক শিক্ষক

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বিবিধ 2026-01-10, 9:46am

erter45343-2b438d1954442c15dfe398157e8649c21768016773.jpg




চীনের একটি স্কুলে প্রতিদিনের সকাল শুরু হয় এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য দিয়ে। স্কুল গেটের সামনে সাদা গ্লাভস ও প্রতিফলক ট্রাফিক জ্যাকেট পরা এক ব্যক্তি হাতের ইশারায় গাড়ি থামাচ্ছেন, আবার শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পার করাচ্ছেন। দূর থেকে দেখলে তাকে ট্রাফিক পুলিশ মনে হলেও বাস্তবে তিনি একজন শিক্ষক-স্কুলটির উপপ্রধান শিক্ষক।

এই মানুষটির নাম উ বিন। বয়স ৬০। তিনি চীনের হাংঝৌ শহরের হাংঝৌ ১৪ নম্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উপপ্রধান শিক্ষক। টানা ৩৪ বছর ধরে, প্রতিদিন সকালবেলা প্রায় এক ঘণ্টা সময় তিনি স্কুল গেটের সামনে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাস্তা পার হতে সহায়তা করছেন।

ভোর থেকে শুরু হয় দায়িত্ব

বিদ্যালয়টি অবস্থিত ব্যস্ত লংতেং রোডের পাশে, যেখানে রয়েছে আট লেনের সড়ক। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী স্কুলে প্রবেশ করে। এই সময় যান চলাচলও থাকে সবচেয়ে বেশি।

এই ভিড় সামলাতে উ বিন আসেন আরও আগে। প্রতিদিন সকাল ৬টা ১০ মিনিটে তিনি স্কুলে পৌঁছান। নাশতা শেষে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে যান দায়িত্ব পালনে। বৃষ্টির দিনে নিরাপত্তা টিমের জন্য ছাতা, বুট ও জ্যাকেটের ব্যবস্থাও করেন তিনি নিজেই।

দায়িত্ব পালনকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উ বিন বলেন, এক সেকেন্ডের অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। এটা অভিভাবকদের প্রতি দায়িত্বহীনতা।

সবাই চেনে, কিন্তু পরিচয় জানে না

প্রতিফলক জ্যাকেট ও সাদা গ্লাভসে তাকে দেখে খুব কম মানুষই বুঝতে পারেন, এই ব্যক্তি স্কুলের উপপ্রধান শিক্ষক। প্রতিটি লেন তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন, সঠিক সময়ে গাড়ি থামান এবং দ্রুত শিক্ষার্থীদের রাস্তা পার করান।

শীতকালে কুয়াশার কারণে দায়িত্ব আরও কঠিন হয়ে ওঠে। তখন দৃশ্যমানতা কমে যায়, গাড়ির সংখ্যাও বেড়ে যায়। এ সময় উ বিন আরও সতর্ক থাকেন। তার আশঙ্কা-একটি গাড়িও যেন চোখের আড়ালে না চলে যায়।

শিক্ষক পরিচয়ের বাড়তি দায়িত্ব

শুধু ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নয়, স্কুল গেটের সামনে কোনো ঝামেলা হলে তিনিই হয়ে ওঠেন মধ্যস্থতাকারী। অনেক অভিভাবকই তার সাবেক শিক্ষার্থী।

হাসতে হাসতে তিনি বলেন, আমি সামনে এলেই সবাই শান্ত হয়ে যায়। কেউ আর তর্ক করতে চায় না।

যেভাবে শুরু

এই দায়িত্বের শুরু ১৯৯১ সালে। তখন উ বিনের বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর। শুরুতে তিনি চেয়েছিলেন, সকালে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের মুখ ও নাম চিনে নিতে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্কুল গেটে দাঁড়িয়ে থাকা তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে যায়।

কিছু বছর তাকে ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। কুয়াশায় ঢাকা শহর পেরিয়ে সময়মতো স্কুলে পৌঁছেছেন শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনের জন্য।

৩৪ বছরে একটিও দুর্ঘটনা নয়

দীর্ঘ এই সময়ে সবচেয়ে বড় অর্জন- একজন শিক্ষার্থীরও কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

উ বিন বলেন, আমি ভয় থেকেই কাজটা করে গেছি। শিশুরা কয়েক সেকেন্ডে রাস্তা পার হয়। কিন্তু যদি কিছু ঘটে যায়, সেটা একটি পরিবারের আজীবনের ট্র্যাজেডি হয়ে যায়।

শারীরিক কষ্টের মাঝেও দায়িত্ব

অনেকেই জানেন না, উ বিন দীর্ঘদিন ধরে অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিসে ভুগছেন। এতে তার মেরুদণ্ড ও কোমরের জয়েন্টে প্রদাহ হয়েছে। তীব্র পিঠব্যথা সত্ত্বেও তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যাননি।

এই গল্প ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক অভিভাবক পার্কিং ও ট্রাফিক নিয়মে আরও সচেতন হয়েছেন। তরুণ শিক্ষক ও কর্মীরাও স্বেচ্ছায় তার দলে যোগ দিয়েছেন।