Speakers at a discussion meeting on Kashmir and the future of South Asia held in Dhaka on Thursday
দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন-র উদ্যোগে ২৭ অক্টোবর ২০২২ রোজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০.৩০ ঘটিকায় ‘কাশ্মীর ও আগামীর দক্ষিণ এশিয়া’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা ঢাকার শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। সঞ্চালনা ও সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থার সভাপতি কে.এম রকিবুল ইসলাম রিপন।
কাশ্মীর সংকট দক্ষিণ এশিয়া তথা সারা বিশ্বের জন্য হুমকি স্বরূপ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান ইরান । তিনি বলেন, ২৭শে অক্টোবর সারা বিশ্বে ‘কালো দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়, কারণ পঁচাত্তর বছর আগে এই দিনে ভারত কোনো আইনি যুক্তি ছাড়াই জোরপূর্বক জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। কাশ্মীরিদের যে বিশেষ স্বায়ত্বশাসন (আর্টিকেল ৩৭০) তা রদ করে ভারত এই অঞ্চলকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিলের পর থেকে ২০২২ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনীর গুলিতে উপত্যকাটির ৪৩৯ জন স্বাধীনতাকামী নিহত হয়েছে। জানুয়ারিতেই গুলিতে ২২ জন নিহত হয়েছে। ভারত সরকারকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাম্প ছেড়ে কাশ্মীরের জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। কাশ্মীরি জনগণের প্রতি বঙ্গবন্ধুর যে সমর্থন তা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণের উচিৎ কাশ্মীরিদের পাশে দাঁড়ানো। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গণভোট অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাশ্মীর সংকটের সমাধান করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক এডভোকেট মো: রহিম বলেন, কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের উভয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অধিকাংশ মুসলিম এবং তারা নিয়মিত নির্যাতিত হচ্ছে। এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ সকল রাষ্ট্রের জনগণের সোচ্চার হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে সার্ক-কে কার্যকরী করার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বারোপ করেন। কাশ্মীরের মানবাধিকার লংঘন বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা কাশ্মীরের অধিবাসীদের মানবাধিকার সংরক্ষণ এবং সংঘাতমুক্ত কাশ্মীর প্রতিষ্ঠার জন্য জাতিসংঘ এবং ভারতের ভূমিকার উপর গুরুত্ব দেন। তিনি কাশ্মীরিদের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন আর্টিকেল ৩৭০ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ভারতকে কাশ্মীরি জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।
কৃষক দল নেতা মো: শাহজাহান বলেন, ভারতকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গণতন্ত্র চর্চার আহ্বান জানান। তিনি কাশ্মীরিদের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন আর্টিকেল ৩৭০ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ভারতকে কাশ্মীরি জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে।কাশ্মীরিরা তাদের নিজের বাড়িতে বন্দী, তাদের নিজস্ব জমিতে এলিয়েন, এবং তাদের নিজস্ব রাস্তায় স্বাধীনভাবে চলতে পারছে না। ভারতীয় দখলদার বাহিনী দখলকৃত অঞ্চলটিকে বিশ্বের বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত করেছে। কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী জনগোষ্ঠীর পাশে দেশের সরকার এবং রাজনৈতিক দল সমূহকে সহায়তা করার আহ্বানও জানান তিনি। জাতিসংঘের মাধ্যমে গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরীদের মতামত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিৎ বলে তিনি মনে করেন। মানবাধিকার সংরক্ষন এবং দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীল শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের কথা বলেন এবং সেখানে যুব সমাজের দুর্দশা ও তাদের উপর সশস্ত্র বাহিনীর নির্মমতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন যে, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ কাশ্মীরে নির্বিচার হত্যাকান্ড, গুম, নির্যাতন ইত্যাদি মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কাজের জন্য ভারতকে দায়ী করেছে এবং নিন্দা জানিয়েছে।
জাগপা নেতা আসাদুর রহমান খান বলেন, কারফিউ, অবৈধ আটক, খুন, সুপরিকল্পিত হত্যা, অবরোধ, বসতবাড়িতে আগুন, নির্যাতন, গুম, ধর্ষন, মুসলিম নারীদের উপর নির্যাতন এবং নকল এনকাউন্টারের মাধ্যমে হত্যা কাশ্মীরের নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে উঠেছে। এসব মৃত্যু এবং নির্যাতন বন্ধের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজ এবং জাতিসংঘের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেন। কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিকে স্তব্ধ করার জন্য ১৯৪৭ সাল থেকে লক্ষাধিক মানুষ হত্যা করে ভারত পৃথিবীর ভূসর্গ কাশ্মীরকে পরিণত করেছে মুসলমানদের বধ্যভূমিতে। কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী জনগোষ্ঠীর পাশে দেশের সরকার এবং রাজনৈতিক দল সমূহকে সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, বিজেপি কাশ্মীর তথা ভারতের মুসলমানদের নির্যাতন করছে সাথে শোষণ করছে বাংলাদেশকেও। তাই এখনই প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভারতের আগ্রাসন নীতিকে প্রতিহত করা। এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, যুগ্ন- আহ্বায়ক ওমর ফারুক পাটোয়ারী,কবির,বিএনপির নেতা মিয়া আনোয়ার, শাহজাহান মিয়া। - সংবাদ বিজ্ঞপ্তি