News update
  • Trump claims Iran won’t close Hormuz strait again     |     
  • Trump says Israel ‘prohibited’ from bombing Lebanon     |     
  • Iran, US say Strait of Hormuz is fully open to commercial vessels     |     
  • WHO, UNICEF Urge Bangladesh to Keep E-Cigarette Ban     |     
  • Nearly 900 Rohingya Dead or Missing in Sea Crossings     |     

চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত আবদুল্লাহ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক রাজনীতি 2026-04-14, 11:52pm

ryhtrertwerwe-cea33a2a4e150c2678bfda95818595531776189139.jpg




চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা এম মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। একপর্যায়ে তাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকার ‘এইচ এম ভিলা’ নামের একটি বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় যান। তার আগমনকে ঘিরে এলাকার বাসিন্দা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই খবরটি আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদল, জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও ছাত্রজনতা বাসার সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। 

তারা জানতে চান, কী উদ্দেশ্যে তিনি ওই বাসায় এসেছেন এবং সেখানে কোনো ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল কি না। তারা জানতে চান, কেন তিনি স্বৈরাচারের দোসর হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করতে এসেছেন, পরীক্ষিত দোসরের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্য কী, এবং আওয়ামী লীগের একজন নেতার বাসায় তার উপস্থিতির কারণ কী। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসার সামনে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ উচ্চস্বরে স্লোগান দেন এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে লক্ষ্য করে নানা প্রশ্ন তোলেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বাইরে এসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ মূলত ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

এদিকে রাত ৮টায় এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে তারা দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন। বৈঠকে উভয় নেতাই আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’ 

জানা গেছে, এম মনজুর আলমের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় আওয়ামী লীগের মাধ্যমে। তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ছিলেন এবং টানা চারবার চসিকের ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। 

২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তৎকালীন মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রেপ্তার হলে তিনি প্রায় দুই বছর ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১০ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন মনজুর আলম। ওই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি মহিউদ্দিন চৌধুরীকে প্রায় এক লাখ ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তবে ২০১৫ সালের চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনের দিনই কারচুপির অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন এবং রাজনীতি থেকে স্থায়ী অবসরের ঘোষণা দেন। যদিও পরবর্তীতে তাকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় দেখা যায়। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্রও সংগ্রহ করেছিলেন।

সবশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর কখনো বিএনপির আবার কখনো এনসিপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টায় রয়েছেন মনজুর আলম।