News update
  • Climate Risks Threaten Nearly 90m Displaced People: UNHCR     |     
  • Midterm Election Results: One of Biggest Reversals in US History     |     
  • Republicans face midterm backlash over Trump's economic policies, Poll reveals     |     
  • Waterlogging in Kumarkhali: Potential farm loss Tk35 crore annually     |     
  • Substitute Ibrahim powers Bangladesh to 1-0 win over Bhutan in SAFF     |     

নভেম্বরে সড়ক, নৌ ও রেলপথে ৪৮৬ দুর্ঘটনা, ঝরেছে ৫৮২ প্রাণ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংগঠন সংবাদ 2024-12-17, 2:54pm




সারা দেশে সড়ক, নৌ ও রেলপথে ৪৮৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে গত নভেম্বর মাস জুড়ে। এসব দুর্ঘটনায় ৫৮২ জন নিহত এবং ৮১৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু সড়ক দুর্ঘটনাই ঘটেছে ৪১৫টি, যেখানে ঝরে গেছে ৪৯৭টি প্রাণ। এছাড়া আহত হয়েছেন ৭৪৭ জন।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ সংক্রান্ত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছেন গণমাধ্যমগুলোতে।

এতে বলা হয়েছে, বহুল প্রচারিত ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ-পথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বরে রেলপথে ৬৪টি দুর্ঘটনায় ৭৯ জন নিহত, ৪৩ জন আহত হয়েছে। এছাড়া নৌ পথে ৭টি দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌ-পথ মিলে সর্বমোট ৪৮৬টি দুর্ঘটনায় ৫৮২ জন নিহত এবং ৮১৯ জন আহত হয়েছে।

এই সময়ে ঘটে যাওয়া ৪১৫টি সড়ক দুর্ঘটনার ১৬৭টিই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, যেখানে ১৯২ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আহত হয়েছেন ১১১ জন। যা মোট দুর্ঘটনার ৪০.২৪ শতাংশ, নিহতের ৩৮.৬৩ শতাংশ ও আহতের ১৪.৮৬ শতাংশ।

নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এ মাসে ঢাকায় ১০৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২৯ জন নিহত ও ২৬৪ জন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহে। এ বিভাগে ২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ৪৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব অনুযায়ী, সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ২৫৩ জন চালক, ১১৬ জন পথচারী, ১১৮ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৭ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক, ৬৭ জন নারী, ৩৫টি শিশু, সাংবাদিক ৭ জন, ১ জন চিকিৎসক, ১০ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং ০২ জন মুক্তিযোদ্ধার পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছেন সেনাবাহিনীর ২ সদস্য, ১৬৭ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ১০৫ জন পথচারী, ৫৫ জন নারী, ২৭টি শিশু, ৪৫ জন শিক্ষার্থী, ২১ জন পরিবহন শ্রমিক, ১৩ জন শিক্ষক, ০১ জন চিকিৎসক, ২ জন সাংবাদিক, ২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ৮ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

দুর্ঘটনায় পতিত যানবাহনের মধ্যে ৩০ দশমিক ১০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২২ দশমিক ১০ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৬ দশমিক ১৫ শতাংশ বাস, ২০ দশমিক ৫৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস। মোট দুর্ঘটনার ৫০ দশমিক ১২ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২১ দশমিক ৬৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮ দশমিক ৩১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনা, ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ বিবিধ কারণে ঘটা ঘটনা, শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনে সংঘর্ষের ঘটনা।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত নভেম্বরে মোট দুর্ঘটনার ৩০ দশমিক ৮৪ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে ও ২২ দশমিক ৮৯ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে ও ১ দশমিক ৪৫ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে এবং ০ দশমিক ৭২ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে হয়েছে।

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরিভিত্তিতে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মতো ছোট ছোট যানবাহন আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতে অবাধে চলাচলের জন্য আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ, যানবাহনের ডিজিটাল পদ্ধতিতে ফিটনেস প্রদান, ধীরগতির যান ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা, সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা ও মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

এছাড়া রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা, সড়ক পরিবহন আইন যথাযথভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা, উন্নতমানের আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা, মেয়াদোত্তীর্ণ গণপরিবহন ও দীর্ঘদিন যাবত ফিটনেসহীন যানবাহন স্ক্র্যাপ করার উদ্যোগ নিতে হবে বলেও জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। আরটিভি