ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন এবং উন্মুক্ত মাঠে ঈদ জামায়অত অনুষ্ঠানের সুযোগ করে দেয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব এবং ছাত্র মজলিস। তবে একইসঙ্গে ঈদ র্যালি বা আনন্দ মিছিলে বিভিন্ন মূর্তি প্রদর্শনকে পৌত্তলিকতার অনুপ্রবেশ উল্লেখ করে এর তীব্র সমালোচনা করেছে সংগঠন দুটি।
মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে নিন্দা জানানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক করা হয়।
খেলাফতের যুব মজলিসের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঈদ আনন্দ মিছিলে মূর্তির ব্যবহার এবং পৌত্তলিকতার অনুপ্রবেশের জঘন্য ও গভীর ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ জাহিদুজ্জামান, সভাপতি পরিষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আশরাফ ও জাকির হুসাইন স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঈদ উৎসব এসেছে মক্কার পৌত্তলিকতার বিলুপ্তির মাধ্যমে ইসলামের বিজয়কে স্মরণ করিয়ে দিতে। সেই পবিত্র উৎসবে পৌত্তলিকতার ছোঁয়া লাগানো চরম অনৈসলামিক, বিভ্রান্তিকর এবং ঈদের মূল চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
তারা বলেন, ঈদের আনন্দের মধ্যে শিরক প্রবেশ করানো স্পষ্টতই ইসলামের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। যারা ঈদের উৎসবে মূর্তি বহন এবং পৌত্তলিকতার মিশ্রণ ঘটিয়েছেন, তারা মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ, সভাপতি পরিষদ সদস্য আশরাফুল ইসলাম সাদ ও মাহদী হাসান শিকদার এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘ এক যুগ পর বাংলাদেশের মানুষ মুক্ত স্বাধীন অবস্থায় স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পেরেছে। মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ যথাযথভাবে পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা ছিল বলে আমরা মনে করি।
তবে ঈদ আনন্দ মিছিলে মূর্তির উপস্থিতির নিন্দা জানিয়েছেন নেতারা। তারা বলেন, একটা বিষয় আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি যে, কিছু আয়োজনে ইসলামের মৌলিক আদর্শ ও মূল্যবোধের পরিপন্থী উপকরণ সংযোজন করা হচ্ছে। বিশেষত, পৌত্তলিকতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত মূর্তি ও প্রাণীর ভাস্কর্য ইসলামের তৌহিদি চেতনার বিপরীত। যা মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় চেতনায় আঘাত হেনেছে। আমরা আগামীতে যেকোনো জাতীয় আয়োজনে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠীর বোধ ও বিশ্বাসের বিপরীত কার্যক্রম থেকে সরকারকে বিরত থাকার জোর দাবি জানাই।