News update
  • PM Urges New BCS Officers to Serve People with Honesty     |     
  • EC Plans First-Phase Elections in 1,050 Union Parishads     |     
  • Rohingya crisis now a security concern for Bangladesh: Shama     |     
  • Hasina Is a Convict, Legal Steps Underway to Bring Her Back     |     
  • Nearly 300 families perish in road crashes in 6 years 10 months: RSF     |     

শ্রমিকদের সুরক্ষায় ৩ কনভেনশনে বাংলাদেশের স্বাক্ষর

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংগঠন সংবাদ 2025-10-23, 7:38am

rewrwerqweqw-325ac0574539424bbf3a52425f0b58ad1761183534.jpg




শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিনে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বুধবার (২২ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে এই স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। কনভেনশনগুলোতে অনুসমর্থন পত্রে স্বাক্ষর করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

কনভেনশনগুলো হলো পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কনভেনশন, ১৯৮১ (নং-১৫৫); কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মান উন্নয়নে প্রচারণামূলক কাঠামো কনভেনশন, ২০০৬ (নং-১৮৭) এবং কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা ও হয়রানি প্রতিরোধ বিষয়ক কনভেনশন, ২০১৯ (নং-১৯০)। এর মধ্যে কনভেনশন ১৮৭ ও কনভেনশন ১৫৫ হলো আইএলও’র মৌলিক কনভেনশন, যা ২০২২ সালে সংস্থাটি কর্তৃক গৃহীত হয়। এই তিনটি কনভেনশন অনুস্বাক্ষরিত হওয়ায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে আইএলও’র ১০টি মৌলিক কনভেনশন অনুস্বাক্ষরকারী দেশ হলো।

এই অর্জন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের ইতিহাসে আজকের দিনটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির কথা স্মরণ করে বলেন, সেই ঘটনার পর তৎকালীন সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও যা করার কথা ছিল তার কিছুই হয়নি, শুধু ‘হচ্ছে, হবে’ করেই চলছিল। তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন, আমরা বললাম যে ‘হচ্ছে-হবে’ আর নয়, এটা আমরা করেই যাব।

প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই শ্রম অধিকার তার প্রথম দৃষ্টি ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, কাগজে সই করেই কাজ শেষ না, কাজ কেবল শুরু। যে ওয়াদা করলাম সেটা পালন করতে হবে। কনভেনশন কী কথা বলা আছে, কোন অধিকারের কথা আছে সেটা সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। সবাইকে সচেতন করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর পরিশ্রমের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন এই দিনটিকে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন উল্লেখ করে বলেন, এটি তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তিনি প্রধান উপদেষ্টার সার্বক্ষণিক নির্দেশনা এবং সবার দিনরাত পরিশ্রমের ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে জানান।

এ কাজে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশে আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কনভেনশন স্বাক্ষর করায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনোন। তিনি কনভেনশনগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার, শ্রমিক ও আইন প্রয়োগকারীদের সঙ্গে মিলে আইএলও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।

পাশাপাশি, শ্রম আইন সংস্কার কমিশনের বেশ কিছু সুপারিশ বাস্তবায়নেও সহযোগিতা দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। এছাড়া, তিনি আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি শ্রম সনদ (লেবার চার্টার) গ্রহণেরও পরামর্শ দেন।