
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মতো দেশের পর এবার আইসিবিএম বা আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ‘এলিট ক্লাবে’ নাম লেখালো এরদোয়ানের তুরস্ক। শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি গতিতে ছুটে চলা এই ক্ষেপণাস্ত্রের নাম ‘ইলদিরিমহান’।
তুরস্ক চাইলে নিমিষেই ধূলিসাৎ হতে পারে ইউরোপ, এশিয়া বা আফ্রিকার যেকোনো প্রান্ত। আঙ্কারায় উন্মোচিত হলো এমনই এক শক্তিশালী অস্ত্রের। প্রথমবার বিশ্ব দেখল তুরস্কের তৈরি প্রথম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’, যার অর্থ বজ্রপাত।
জানা যায়, ক্ষেপণাস্ত্রটির রেঞ্জ ৬ হাজার কিলোমিটার। সবচেয়ে বড় আতঙ্ক এর গতি। বলা হচ্ছে, শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ বেশি গতিতে ছুটে চলা এই দানবকে রুখতে পারবে না বর্তমান বিশ্বের কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
তবে শুধু ইলদিরিমহান নয়, তুরস্কের সাহা-২০২৬ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে সামরিক মাস্টারমাইন্ড সেলচুক বায়রাক্তার উন্মোচন করেছেন নতুন তিন ধরনের কামিকাজে ড্রোন। এগুলো দলবদ্ধভাবে আক্রমণ করে যেকোনো শক্তিশালী রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। তুরস্কের বার্তা স্পষ্ট, যুদ্ধে তারা এখন আর কারও মুখাপেক্ষী নয়।
বর্তমানে রাশিয়ার সারমাত বা উত্তর কোরিয়ার হোয়াসং-২০’র রেঞ্জ অনেক বেশি হলেও, তুরস্কের এই সংযোজন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল কম্পন।
বিশেষ করে ইরান ও ইসরাইলের চলমান উত্তেজনার মাঝে তুরস্কের এই পেশিশক্তি প্রদর্শন ওয়াশিংটন থেকে তেহরান সবার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কেবল আক্রমণ নয়, তুরস্কের সুরক্ষায় এবার ১৫০টি কম্পোনেন্টের বিশাল স্টিল ডোম মোতায়েন করা হচ্ছে। মানে তুরস্ক এখন একইসাথে দুর্ভেদ্য এবং আক্রমণাত্মক।
জানা গেছে, ২০২৬ সালের শেষ দিকে সোমালিয়ার উপকূলে হতে পারে এই ক্ষেপণাস্ত্রের চূড়ান্ত পরীক্ষা। প্রশ্ন উঠেছে, ড্রোন দিয়ে বিশ্বজয়ের পর তুরস্কের এই আইসিবিএম মিশন কি মুসলিম বিশ্বের জন্য নতুন নেতৃত্বের সিগন্যাল?