News update
  • Trump Extends Iran Ceasefire, Seeks Time for Talks     |     
  • SSC and Equivalent Exams Begin Nationwide     |     
  • US, Iran Signal War Readiness as Talks Hang in Balance     |     
  • Bangladesh, EU Push for FTA, Investment Pact Talks     |     
  • Over 1.14cr workers sent to Middle East in 22 years     |     

গ্রিনল্যান্ড ‘দখলে’ অনড় ট্রাম্প

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-01-15, 11:57am

r4t543534543-122e4ecc07d744d16a77e0336da155bf1768456647.jpg

১৪ জানুয়ারি গ্রিনল্যান্ডের নুউকের একটি ভবনে গ্রিনল্যান্ডের পতাকা লাগানো হয়েছে। ছবি: এএফপি



গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে বৈঠক শেষে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান বদলাতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন।

স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বৈঠক শেষে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আমেরিকার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারিনি। এটা পরিষ্কার যে প্রেসিডেন্ট গ্রিনল্যান্ড দখলের ইচ্ছা পোষণ করছেন।

লার্স লোক্কে রাসমুসেন ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান মোটজফেল্ট আশা করেছিলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনা কিছুটা কমবে। কিন্তু বৈঠকে মূল মতবিরোধগুলো দূর হয়নি। বরং দুই পক্ষ একটি ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়, যা গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে।

রাসমুসেন বলেন, আমাদের দৃষ্টিতে এই গ্রুপের কাজ হওয়া উচিত—মার্কিন নিরাপত্তা উদ্বেগ কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তা খুঁজে দেখা। একই সঙ্গে ডেনমার্ক রাজ্যের লাল দাগগুলোও সম্মান করা।

গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোটজফেল্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা চান তারা, তবে তার মানে এই নয় যে গ্রিনল্যান্ড ‘যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায়’ চলে যেতে চায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গ্রিনল্যান্ড সরকারের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টও দ্বীপটির আদিবাসীদের মতামতের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছে। এক পোস্টে তারা লেখে, আমাদের কেন জিজ্ঞেস করা হচ্ছে না? সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৬ শতাংশ গ্রিনল্যান্ডবাসী যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায়।

ইউরোপের মিত্ররা আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের মতে চীন ও রাশিয়া পশ্চিমা স্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। কিন্তু এসব প্রস্তাবও ট্রাম্পকে তার অবস্থান থেকে সরাতে পারেনি।

বুধবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আবারও বলেন, ‘জাতীয় নিরাপত্তার’ স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের মালিক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি প্রশ্ন তোলেন, ডেনমার্ক আদৌ কোনো আগ্রাসন প্রতিহত করতে পারবে কি না।

ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়, ডেনমার্কের নিরাপত্তার জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমস্যা হলো—রাশিয়া বা চীন যদি গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চায়, ডেনমার্কের করার মতো তেমন কিছুই নেই, আর আমাদের করার মতো সবকিছুই আছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ডেনমার্কের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ আছে এবং তিনি বৈঠক সম্পর্কে পরে বিস্তারিত ব্রিফ পাবেন।

বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে প্রায় ১৫০ জন সেনা সদস্য অবস্থান করছেন। বিদ্যমান চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সেখানে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়াতে পারে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক অ্যালান ফিশার বলেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো নিয়ে আলোচনা করতে রাজি। কিন্তু ট্রাম্প বলছেন, যদি গ্রিনল্যান্ড পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে এর চেয়ে কম কিছুই তিনি গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। তিনি যত দ্রুত সম্ভব যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চান।