
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, ক্যাম্পাসগুলোতে পায়ে পাড়া দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মাত্রাতিরিক্ত কোনো কিছুই মানুষ সহ্য করবে না এবং যারা অরাজকতা করছে তাদের জন্য সময় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে যশোর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ছাত্রশিবির যশোর জেলা পূর্ব শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই ক্যাম্পাসে চলমান অস্থিরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে যারা নির্যাতিত হয়েছে এবং যাদের সাংবাদিকরা ঢাল হয়ে বাঁচিয়েছে, এখন তারাই সেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা অকৃতজ্ঞ হয়, আল্লাহ তাদের পছন্দ করেন না। সাংবাদিকরা ছাত্রদলকে ক্যাম্পাস থেকে বের হতে সাহায্য করত, আর এখন তারা ২০ জন সাংবাদিককে পিটিয়েছে। এটা কতটা অমানসিক এবং স্পর্ধার কাজ।
ক্যাম্পাসে ছাত্রশিবিরের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, আমরা ধৈর্য ধারণ করছি। এর মানে এই নয় যে আমাদের গায়ে শক্তি নাই। আমরা কিছু বলছি না দেখে এটাকে আমাদের দুর্বলতা ভাবা হচ্ছে।
তিনি ক্রিকেটের উপমা টেনে বলেন, ‘ফাস্ট বোলাররা যেমন গতি বাড়াতে রানআপ নেয়ার জন্য পেছনে যায়, ছাত্রশিবিরও এখন সেই অবস্থানে আছে। অতিরঞ্জিত কিছু করলে সাধারণ মানুষ তা মেনে নেবে না।’
ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি অভিযোগ করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে 'আদু ভাই'দের (অছাত্রদের) সিট দেয়া হচ্ছে, যা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করছে। তিনি বলেন, এমন ছাত্রদের সিট দেয়া হচ্ছে যাদের বয়স প্রভোস্টের চেয়েও বেশি। যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতারা বিশেষ বিবেচনায় হলে সিট পাচ্ছে।
তিনি আরও দাবি করেন যে, ছাত্রশিবির ছাত্র সংসদ নির্বাচনে জেতার পর ক্যাম্পাসে কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর গায়ে হাত দেয়নি এবং মাদক ও গেস্টরুম সংস্কৃতি নির্মূল করেছে।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, গুম অধ্যাদেশ বাতিল, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল এবং ব্যাংক রেগুলেশন নিজেদের মতো কাস্টমাইজ করে সরকার দেশের অর্থনৈতিক ও আইনি কাঠামো ধ্বংস করছে। এসব অপকর্ম ঢাকতেই ক্যাম্পাসগুলোতে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ছাত্রশিবির যশোর জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি এম মিনারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মাদরাসা সম্পাদক হাফেজ ইসমাইল হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর, সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।