
এপ্রিল মাসের প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই মিরপুরে গতির ঝড় তুলেছিলেন নাহিদ রানা। গতকাল (২০ এপ্রিল) শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নাহিদের গতির তোপে বিধ্বস্ত হয়েছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্লান্তিকে পাশ কাটিয়ে একই গতিতে বল করে গেছেন তিনি, যা বিস্মিত করেছে অনেককেই। ম্যাচের পর এই ফাস্ট বোলার জানিয়েছেন, উন্নত ফিটনেসই তাকে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও ধারাবাহিক পারফর্ম করতে সাহায্য করছে।
২৩ বছর বয়সী নাহিদ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩২ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ৬ উইকেটের দারুণ জয় এনে দিয়েছে। এই জয়ে সিরিজে সমতাও ফেরে। ১০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট শিকার করলেন তিনি।
৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে, যেখানে অনুভূত তাপমাত্রা ছিল আরও বেশি, সেখানে আগুন ঝরানো গতিতে বল করে কিউই ব্যাটারদের ভোগান নাহিদ। পুরো স্পেলে একটি বল ছাড়া সবসময়ই তিনি ১৪০ কিমি/ঘণ্টার বেশি গতিতে বল করেছেন। একমাত্র ধীরগতির বলটি ছিল নিক কেলিকে করা ১১২ কিমি/ঘণ্টার একটি স্লোয়ার ডেলিভারি।
ম্যাচ শেষে নাহিদ বলেন, 'প্রথমে আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ আমাকে ফিট রেখেছেন। দ্বিতীয়ত, ফিটনেস নিয়ে আমি অনুশীলনের বাইরে এবং অনুশীলনের সময়ও কাজ করি। ফিটনেস ট্রেইনারদের সঙ্গে কথা বলি কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়, যেন ম্যাচে বল করার সময় কখনো ক্লান্ত না লাগে। অফ টাইমে জিম, দৌড় বা নিজেকে ফিট রাখার জন্য যা যা দরকার, আমি সেগুলো করার চেষ্টা করি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি সবসময় এমনভাবে পারফর্ম করতে চাই যাতে দলের উপকার হয়। সেটা একটি স্পেল হতে পারে, একটি ওভারও হতে পারে। যদি একটি ভালো ওভার করেও দলকে জেতাতে পারি, সেটাই আমার জন্য আনন্দের। আমার কাছে উইকেটের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলকে জেতাতে পারছি কি না।'
নিজের ভয়ংকর হয়ে ওঠা ইয়র্কার নিয়েও কথা বলেন নাহিদ, যা এখন তার শর্ট অব লেংথ বোলিংয়ের সঙ্গে বাড়তি অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, 'সময় নিয়ে আমি নিজের স্কিল উন্নত করার চেষ্টা করছি। শনের (বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইট) সঙ্গে হোক বা বাংলাদেশের কোচদের সঙ্গে, আমি কাজ করছি। অনুশীলনে ইয়র্কার ঠিকভাবে করতে পারলে, তারপর সেটি ম্যাচে প্রয়োগ করার চেষ্টা করি।'
তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট ও ভবিষ্যতের বড় ম্যাচের জন্য তাকে সংরক্ষণ করা নিয়ে আলোচনার মাঝেও নাহিদ ছিলেন নির্ভার।
তিনি বলেন, 'ইনজুরি আগে থেকে বলে আসে না। তবে যেমন বললেন, বিসিবি'র ফিজিও এবং ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট টিম আমরা কত ম্যাচ খেলছি, সেগুলো অবশ্যই নজরে রাখে।'