News update
  • Bangladesh Has 1.584m Tonnes of Fertiliser in Surplus      |     
  • July Uprising crimes: Obaidul Quader, six others get death penalty     |     
  • School relocation row halts Gaibandha char children’s learning     |     
  • REHAB president's post declared vacant over loan default     |     
  • China criticises idea it is in 'malicious competition' over AI     |     

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর দ্রুত হওয়া উচিত: দীনেশ ত্রিবেদী

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক খবর 2026-08-17, 10:56am

img_20260817_105625-45cf0aac7af3d37f5616a9cccff17feb1786942599.jpg




প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আরও দ্রুত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক ও নিবিড় যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার যেকোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা ইউএনবির।

রাজধানীর বারিধারায় আয়ারল্যান্ডের অনারারি কনসাল মাসুদ জামিল খান ও কেট জারো খানের আয়োজিত এক নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে ভারতীয় হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত কেবল সীমান্তই ভাগাভাগি করে না, বাস্তবে অভিন্ন স্বপ্নও ভাগাভাগি করে। 

দুই দেশের সম্পর্কে বিদ্যমান সমস্যার সমাধান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বৈঠকের মাধ্যমেই কেবল সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব এবং আমি অত্যন্ত আশাবাদী।’ তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের মানুষের হৃদয় খুব কাছাকাছি এবং তিনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি ‘সোনালি অধ্যায়’ দেখতে চান।

ভারতীয় দূত বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত দুটি সার্বভৌম দেশ। তিনি বলেন, ‘আমাদের চ্যালেঞ্জ আছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। আর যদি কোনো চ্যালেঞ্জ না থাকে, তাহলে সেটি গণতন্ত্র নয়। গণতন্ত্র যতই বিশৃঙ্খল হোক না কেন..’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নিজেদের জায়গা প্রয়োজন। আমাদের মতপার্থক্য আছে। আমাদের মধ্যে বিতর্ক আছে। সেটি ঠিক আছে। কিন্তু যতক্ষণ আমাদের লক্ষ্য একই থাকে, অর্থাৎ আমরা চাই শুধু এই দুই দেশের মানুষ নয়, সারা বিশ্বের মানুষ মর্যাদা, সম্মান এবং একে অপরের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা নিয়ে বেঁচে থাকুক। আর আমরা সেটিই অর্জনের চেষ্টা করছি। আমি আন্তরিকভাবে চাই...... আমার মূল লক্ষ্য হলো ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি সোনালি সময় প্রতিষ্ঠা করা।’

এই লক্ষ্য অর্জনে তার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, ‘আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’ দূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের নেতা’ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও একইভাবে জনগণের নেতা। তিনি বলেন, ‘দুজনই জনগণের নেতা এবং তাদের উদ্দেশ্যও একই। আর এ কারণেই আমি বহুবার গণমাধ্যমে, যেখানে আমাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, বলেছি যে এমন দুই নেতা যখন একসঙ্গে বসেন এবং পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন এমন কোনো সমস্যা বা ইস্যু নেই, যা আলোচনা করা যায় না এবং যার সমাধান করা যায় না।’

অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সাবেক কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এবং সাবেক বেসামরিক ও প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতে অংশীদারত্ব এগিয়ে নেওয়া এবং বাংলাদেশ-ভারতের ব্যতিক্রমী বন্ধুত্বের বন্ধনকে আরও লালন করতে একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বীকার করি, অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর প্রতিষ্ঠিত জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগই এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রকৃত স্পন্দিত হৃদয়।’

ত্রিবেদী দুই দেশকে অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাণিজ্য ও যোগাযোগ থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত তাদের অংশীদারত্ব এগিয়ে নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আসুন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বের এই অসাধারণ বন্ধনকেও আমরা অব্যাহতভাবে লালন করি এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির লক্ষ্যে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি।’

সম্পর্কের ভিত্তি তুলে ধরে হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশ স্বাধীনতা সংগ্রামের অভিন্ন ইতিহাসের বন্ধনে আবদ্ধ এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের ভিত্তির ওপর তাদের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। ত্রিবেদী বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের কারণে আমাদের বন্ধন গভীরভাবে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের এই দৃঢ় ভিত্তির ওপর আমাদের সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে।’

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছি। আমাদের আমন্ত্রণ রয়েছে। আমরা ইতিবাচকভাবে বিশ্বাস করি, দুই নেতা যদি একসঙ্গে বৈঠক করেন, তাহলে আলোচনা হবে। গণতন্ত্রে সমস্যা থাকবেই। সমস্যা না থাকলে সেটি গণতন্ত্র নয়। তবে জনগণের একমাত্র ইস্যু হলো ভালো সম্পর্ক। ভালো সম্পর্ক থাকলে সেটি সবার জন্যই উইন-উইন পরিস্থিতি।’