
চীনের শীর্ষ কূটনীতিকের সাথে একটি বৈঠক এবং ইউক্রেন সম্পর্কিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এখন স্বস্থিবোধ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্য আগামী সপ্তাহে তিনি মধ্য এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়া সফর করবেন। একই সময়ে, চীন এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ঐ অঞ্চল সফর করবেন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের অধিকার সম্পর্কিত অনড় অবস্থান নিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির সময়ে এই সফরে যাচ্ছেন ব্লিংকেন।
নয়া দিল্লিতে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সাথে ব্লিংকেনের আলোচনার সম্ভাবনা সম্পর্কে একেবারে মুখ বন্ধ করে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। তবে, তিনজনই ভারতের রাজধানীতে জি-টুয়েন্টি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রক শুধু বলেছে যে সেখানে কোনো বৈঠক নির্ধারিত নেই।
আশা করা হচ্ছে সম্প্রসারিত জি-টুয়েন্টি বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা।বিশেষ করে, ইউক্রেন সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ উন্নয়শীল দেশগুলোর খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি প্রধান্য পেতে পারে আলোচনায়।
দিল্লি সফরের আগে ব্লিংকেন কাজাখস্তানের রাজধানী আশতানা সফরে যাবেন।সেখানে তিনি নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার পাশাপাশি, তথাকথিত সি-ফাইভ প্লাস ওয়ান গ্রুপের একটি বৈঠকে যোগ দেবেন। এই গ্রুপটি সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের অংশ কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে গঠিত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেই বৈঠকে তিনি “মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেবেন”। এই শব্দবন্ধ তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে সমর্থন করার প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। তথ্য সূত্র ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলা।
পিলখানা ট্র্যাজেডি দিবস শনিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি)। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর ও বর্তমান বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত হয় এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড। এদিন কিছু বিপদগামী বিদ্রোহী বিডিআর সদস্য ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা ছাড়াও নারী ও শিশুসহ আরও ১৭ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এদিকে, বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর-বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তরে ১৪ বছর আগে হত্যাযজ্ঞের মামলা হাইকোর্টে নিষ্পত্তির পর এবার আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় আছে।
আপিলের সার সংক্ষেপ জমা দেওয়ার প্রেক্ষিতে চলতি বছরেই এ মামলার আপিল শুনানি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।
বিডিআর ট্র্যাজেডির ঘটনায় করা দুই মামলার মধ্যে হত্যাযজ্ঞের মামলার বিচার কাজ হাইকোর্টে সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে, এই দুটি মামলার মধ্যে হত্যাযজ্ঞের বিচারকাজ হাইকোর্ট বিভাগে সম্পন্ন হয়েছে। অপরদিকে, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলা এখনও নিম্ন আদালতে বিচারাধীন আছে।
হত্যাযজ্ঞের মামলায় ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর রায় দেন বিচারিক আদালত।
এতে ১৫২ জনের ফাঁসি, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর ২৭৮ জন খালাস পান।
নিয়ম অনুযায়ী ডেথ রেফারেন্স আসে হাইকোর্টে। আপিল করেন আসামিরা। কয়েকজন খালাসপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ শুনানি শেষে রায় দেয়। এতে ফাঁসি বহাল থাকে ১৩৯ জনের। যাবজ্জীবন দণ্ড দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে। ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। খালাস পান ৪৫ জন।
২০২০ সালের ৮ জানুয়ারি প্রকাশ হয় ওই রায়ের ২৯ হাজার ৫৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি। এর মধ্যে ১১ হাজার ৪০৭ পৃষ্ঠার রায় বিচারপতি শওকত হোসেন লিখেছেন। ১৬ হাজার ৫৫২ পৃষ্ঠার রায় লিখেছেন বিচারপতি মো. আবু জাফর সিদ্দিকী। আর ১ হাজার ১০০ পৃষ্ঠার রায় লিখেছেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার।
উচ্চ আদালতের মামলায় খালাস পাওয়া ও সাজা কমে যাওয়া ৮৩ জনের ক্ষেত্রে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
আসামিপক্ষও লিভ টু আপিল করেছে আপিল বিভাগে।
এ ব্যাপারে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় অনেকের ফাঁসি হয়। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে, সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও আপিল করে। পরে হাইকোর্ট বিভাগের রায়ে অনেকের সাজা কমেছে, অনেকের বহাল আছে।
তিনি বলেন, হাইকোর্টে রায়ে যাদের সাজা বহাল আছে তাদের মধ্যে ৩৩ জন আপিল বিভাগে আপিল করেছে। এরপর আসামিপক্ষ আপিলের সারসংক্ষেপ জমা না দেওয়ায় শুনানি করা যাচ্ছিলো না। তাদের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার জন্য আমরা একটি ফাইল করেছি। এবার ৩৩টি ফাইল আসবে। এরপর তাদের যে সময় দেওয়া হবে সেই সময়ের মধ্যে যদি তারা সারসংক্ষেপ জমা না দেয় তাহলে তাদের আপিল ডিসমিস হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি এ বছরই মামলাটির শুনানি করতে পারবো। তথ্য সূত্র আরটিভি নিউজ।