News update
  • Mayoral candidates' Eid greetings to Kalapara residents on social media      |     
  • Dhaka moves for new $4-4.5 bn IMF programs, drops current one     |     
  • Up to 13 million set to leave Dhaka for Eid despite rainy weather     |     
  • ATM Cash Shortage Hits Dhaka Customers During Eid Break     |     
  • Measles Claims 17 More Lives in 24 Hours     |     

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা পালন করছেন ১৫ লাখের বেশি মুসলমান

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ধর্মবিশ্বাস 2026-05-26, 8:12am

hj_1-b7a9a57a39c28fb4f719ce7926b2ef081779761557.jpg




ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হজের আনুষ্ঠানিকতা আজ সোমবার (২৫ মে) শুরু হয়েছে।

হজ পাসপোর্ট ফোর্সের কমান্ডার সালেহ বিন সাদ আল-মুরব্বা গত শুক্রবার জানান, সৌদি আরবের বাইরে থেকে ১৫ লাখেরও বেশি হজযাত্রী মক্কায় সমবেত হয়েছেন।

ইরান যুদ্ধের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই হজ পালনের জন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দলে দলে দেশটিতে জড়ো হয়েছেন।

মিসরীয় হজযাত্রী সামিয়া আব্দুল মোনেইম বলেন, তিনি হজ করার সুযোগ পাওয়ায় আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। সামর্থ্য ও শারীরিক সক্ষমতা সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হলেও হজ করা ফরজ।

গতকাল রোববার মক্কায় আব্দুল মোনেইম বলেন, আমি এক আশীর্বাদ-বেষ্টিত ও আনন্দঘন পরিস্থিতিতে আছি। এটা সত্যিই এক অবর্ণনীয় অনুভূতি। মানে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, আমি আল্লাহর রহমতের মধ্যে আছি।

প্রথম দিনে হাজিরা মসজিদে হারামে পবিত্র কাবা তাওয়াফ এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাঈ করেন। এরপর তারা মক্কার অদূরে মরুভূমি এলাকায় মিনায় তাঁবুতে অবস্থান করেন। মক্কায় প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে হজের এসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন হাজিরা।

হজযাত্রীদের জন্য হজ গভীর আবেগের। এটি তাদের কাছে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও অতীতের পাপ মোচনের সুযোগ। হজযাত্রীরা পাঁচ দিন ধরে হজের আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন।

প্রচণ্ড তাপ উপেক্ষা

মুসলমানদের কেউ কেউ একদিন হজ পালনের আশায় ও প্রার্থনায় বহু বছর কাটান, কেউ আবার হজের জন্য টাকা জমান এবং অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকেন।

প্রচণ্ড রোধ-গরম থেকে বাঁচতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সময় অনেক হাজি ছাতা ব্যবহার করছেন। কেউ কেউ আবার হাতপাখা ব্যবহার করছেন। তাদেরকে সতেজ রাখতে পানির বোতল বিতরণ করছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। এ ছাড়া বড় পাখা থেকে কুয়াশার মতো পানি ছিটানো হচ্ছে।

হজযাত্রীদের কেউ কেউ বলেছেন, ইরান যুদ্ধের এই উত্তেজনার সময়ে নিজেদের দৃঢ় বিশ্বাস থেকে হজের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। এই সুযোগ পাওয়ার জন্য তারা (আল্লাহর কাছে) অপরিসীম কৃতজ্ঞ বলে জানিয়েছেন।

হজ বিভিন্ন জাতি, বর্ণ, ভাষা ও অর্থনৈতিক শ্রেণির বিপুল মুসলমানকে একত্রিত করে, যা সবার মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে।

আগামীকাল মঙ্গলবার হজের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে হাজিরা আরাফাতের ময়দানে সমবেত হবেন। সেখানে তারা আল্লাহর প্রশংসা করবেন, ক্ষমা প্রার্থনা করবেন এবং দোয়া করবেন। অনেক হাজি প্রিয়জনদের কাছ থেকে প্রার্থনার অনুরোধ নিয়ে আরাফাতে আসেন এবং অশ্রুসিক্ত চোখে আল্লাহর দরবারে হাত তোলেন।

এদিকে, সৌদি সরকার হজযাত্রীদের জন্য তাপ থেকে সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রতিবেদনে বলা হয়, মক্কায় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মদিনায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। সেই সঙ্গে উন্মুক্ত এলাকাগুলোতে আর্দ্রতার মাত্রা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত থাকবে এবং ধূলা মিশ্রিত বাতাস বইবে।

সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পবিত্র স্থানগুলোর মধ্যে যাতায়াতের সময় তাপজনিত ক্লান্তি, হিটস্ট্রোক ও পানিশূন্যতা প্রতিরোধের উপায় হিসেবে হজযাত্রীদের নিয়মিত ছাতা ব্যবহারের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, ছাতা শুধু ছায়াই দেয় না, এটি হজযাত্রীদের চারপাশের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমিয়ে দেয় এবং হজের আচার-অনুষ্ঠান চলাকালীন শারীরিক চাপও কমায়।

সৌদির আবহাওয়া কর্মকর্তারা হজযাত্রীদের ভ্রমণের আগে নিজেদের যানবাহন পরীক্ষা করে নিতে, নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলতে এবং পানিশূন্যতা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এ বছর মক্কায় প্রায় ১৬ লাখ হজযাত্রীর সমাগম হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সৌদি আরবের ইসলামি বিষয়, দাওয়াহ ও নির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, তারা ১০৪টি দেশ থেকে আমন্ত্রিত ২ হাজার ৫০০ হজযাত্রীর জন্য আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দুই পবিত্র মসজিদ (মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববি) কর্তৃপক্ষ পরিচালিত অতিথিদের হজ, ওমরাহ ও পরিদর্শন কর্মসূচির আওতায় এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সোদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোর আশপাশের অত্যাধুনিক রোগনির্ণয় ও জরুরি সরঞ্জাম সমৃদ্ধ মেডিকেল ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসক ও মেডিকেল পেশাজীবীদের পরিচালিত এই ক্লিনিকগুলো দিন-রাত চালু থাকে। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো হজযাত্রীরা যেন নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন।