
সবার জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ গঠতে বিএনপির পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেল দলটির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এবার বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পালা। সবার জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য সমাজ গঠতে পরিকল্পনা আছে বিএনপির। তাই বলেছিলাম ‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান’।
জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ আর স্বাক্ষর করা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়ার কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে ইনসাফ ভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অঙ্গীকারবদ্ধ বিএনপি।
সরকার গঠন করলে দেশে যেকোনো মূল্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে জানিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন,
মা ও আমি বিচার বিভাগের নির্যাতনের শিকার৷ তাই কারও যেন আর বিচার বিভাগের নির্যাতনের শিকার না হতে হয়। যেকোনো মূল্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে সরকারে গেলে।
‘মা-বাবার ভরণপোষণ আইন কার্যকর করা হবে। নারীদের কর্মসংস্থান তৈরি করা হবে। নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পরিবার প্রধান নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। শিক্ষার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে’, যোগ করেন তারেক রহমান।
সরকারে গেলে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগ নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা হবে। বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হবে৷ বেসরকারি খাত উন্নয়নে সার্বিক নীতিগত সুবিধা দেয়া ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। ব্যাংক খাতে সুশাসন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার যৌক্তিককরণ এবং আস্থা ফিরিয়ে আনার কার্যকর নীতি গ্রহণ করা হবে। পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। শিল্পখাতে বিনিয়োগ সহজ করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস বাস্তবায়ন করা হবে।
‘বিদু্ৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াট উন্নীত করা এবং সঞ্চালনা লাইন ২৫ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে সম্প্রসারণ করা হবে। বাংলাদেশকে এআই হাব এবং হার্ডওয়্যার উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড গড়ে তোলা ও সৃজনশীল অর্থনীতির উন্নয়নে জিডিপির ১ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জন এবং পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় ১৫ শতাংশ কর জিডিপি অনুপাত অর্জন করা। নিরাপদ টেকসই ঢাকার জন্য মনোরেল চালু, নারীদের নিরাপত্তায় নারীবান্ধব বাস চালু, ইলেকট্রিক ভেহিকাল সম্প্রসারণ করা হবে’, যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন,
ধর্ম যারা যার রাষ্ট্র সবার মূলনীতির ভিতে প্রত্যকে ধর্মাবলম্বী নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করা। উপাসনালয়ের প্রধানদের মাসিক সম্মানি, উৎসব ভাতা দেয়া এবং খতিব, ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হবে।
‘পাহাড় ও সমতলের নৃগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করা। গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণে জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড গঠন করা হবে’, যোগ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।