News update
  • Board of Peace quietly met with UNRWA, ex-agency chief says     |     
  • Man arrested with cocktail ingredients, 9,000 masks in Keraniganj     |     
  • Anthrax detected in 3 of 11 people tested in Rangpur     |     
  • Woman killed, 4 of her family missing in Meghna boat capsize     |     
  • State can never be strong keeping citizens powerless: PM at UNGA     |     

জাপানে কঠোর হচ্ছে নিয়ম, বাংলাদেশিসহ অনিশ্চয়তায় লাখো অভিবাসী

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক প্রবাস 2026-09-25, 10:13pm

4841-2609251256-7ce1a7f55802d604ebbc677129c3eef11790352791.jpg




জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন নিয়ে বছরের পর বছর কাটানো বিদেশিদের সামনে এখন তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পেতে কঠোর শর্ত, জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ এবং আর্থিক সক্ষমতার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিদেশিদের নিয়ে দেশটির জনমতেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশিসহ জাপানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস ও কর্মরত অনেক অভিবাসী এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

কাজের সূত্রে প্রায় আট বছর আগে জাপানে পাড়ি জমান বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রকৌশলী আবদুল। বর্তমানে উত্তর টোকিওতে বাংলাদেশি স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। জাপানে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি ও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দুটির আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হলে দেশটি ছাড়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি।

আলজাজিরাকে আবদুল বলেন, ভবিষ্যতে জাপান সরকার নিয়ম আরও কঠোর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। এ কারণে এখন থেকেই জাপানের বাইরে কাজের সুযোগ খুঁজতে শুরু করেছেন। নিজের আসল নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, “দুটি আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হলে আমাকে সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের পরিবারের বার্ষিক আয় জাপানের গড় আয়ের চেয়ে বেশি—এমন প্রমাণ দিতে হবে। এপ্রিল থেকে জমা দেওয়া আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও এই শর্ত প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের জাপানি ভাষায় দক্ষতা দেখাতে হবে এবং ৩০ বছরের পেনশন প্রদানের সমপরিমাণ সঞ্চয় থাকার শর্তও থাকছে।

জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সি জানিয়েছে, বিদেশিদের স্বনির্ভরভাবে জীবনযাপন করতে হবে এবং অন্যের ওপর বোঝা হয়ে পড়ার ঝুঁকি ছাড়াই স্থিতিশীল জীবন নিশ্চিত করতে হবে।

জাপানে ১৪ বছর ধরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিক সারাহ নেলকিনও নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্ন। স্থায়ী বসবাসের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি জাপানের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এর অর্থ হবে মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করা। কারণ জাপান দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয় না।

এদিকে মেইকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রিসা হাগিওয়ারা মনে করেন, নতুন নীতির ফলে জাপানের অভিবাসনব্যবস্থা আরও “নির্বাচিত ও শর্তসাপেক্ষ” হয়ে উঠছে। অথচ জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে দেশটির বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৫ জনে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে বিদেশি গ্রহণের বিরোধিতা ২০২৪ সালের ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে।

আবদুল ও নেলকিন দুজনেই বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে অনলাইনে বিদেশিদের প্রতি বিরূপ মনোভাব বেড়েছে। নেলকিনের ভাষায়, বহু বছর জাপানের জন্য কাজ করার পরও বিদেশিদের “কখনোই যথেষ্ট নয়”—এমন মনোভাবের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের।

জনসংখ্যা সংকট ও শ্রমিকের ঘাটতির মধ্যে বিদেশিদের ওপর জাপানের নির্ভরতা বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সুযোগ কতটা সহজ রাখা হবে—এই প্রশ্নই এখন দেশটির অভিবাসননীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। সূত্র: আলজাজিরা