News update
  • Pakistan Welcomes Bangladesh’s Interest in Makkah Pact     |     
  • Nepal Floods Highlight Rising Glacier Risks in Himalayas     |     
  • Deadly floods cause widespread destruction in China, Nepal     |     
  • 80 maunds (3 tons) of hilsa caught in one net in the Bay     |     
  • Glacier collapse likely caused Nepal-Tibet flood, scientists say     |     

পর্তুগালকে বেদনায় নীল করে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ফুটবল 2026-07-07, 8:11am

img_20260707_081231-2b7fa02985fbd384f9194242cfa2ffee1783390379.jpg




পর্তুগালকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করলো স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে মিকেল মেরিনোর গোলে ১-০ গোলের জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে চলে যায় স্পেন।

শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে বিদায় নিয়েছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডালাসে গোল পাচ্ছিলো না দুই দলের কেউই। মনে হচ্ছিল খেলা অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে গড়াবে। কিন্তু সব হিসাব পাল্টে দিয়ে ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হলে অতিরিক্ত ৬ মিনিটের প্রথম মিনিটেই গোল করে ম্যাচের ডেডলক ভাঙার পাশাপাশি স্পেনকে কোয়ার্টার ফাইনালে তোলেন মিকেল মেরিনো।

৩ মিনিটে মিডফিল্ডে বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত প্রতিআক্রমণে ওঠেন স্পেনের মিকেল ওয়ারাজাবাল। একাই বল নিয়ে প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে ঢুকে গোলমুখে শট নিলেও দারুণ সেভ করে পর্তুগালকে রক্ষা করেন ডিয়েগো কস্তা। এরপরই ডান প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে যান লামিনে ইয়ামাল। তার নিখুঁত ক্রস বক্সের মাঝখানে পৌঁছালেও সেখানে কোনো স্প্যানিশ খেলোয়াড় না থাকায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে পর্তুগাল। শেষ পর্যন্ত বিপদমুক্ত করে বল ক্লিয়ার করে দেয় তাদের রক্ষণভাগ।

৮ মিনিটে দানি ওলমোর দারুণ থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন মিকেল ওয়ারাজাবাল। তিনি মাটিতে রাখা শট নিলেও বল অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। লাইনসম্যানও অফসাইডের পতাকা তোলেননি। অর্থাৎ বল জালে জড়ালে গোলটি বৈধই হতো। ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো সুযোগ হাতছাড়া করলো স্পেন।

১২ মিনিটে সুযোগ আসে পর্তুগালের সামনে। বল জিতে ডানদিকে থাকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে পাস দেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে তীক্ষ্ণ কোণ থেকে ডান পায়ে শট নেন রোনালদো, তবে দারুণ এক সেভে স্পেনকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।

১৬ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে বল নিয়ে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে যান লামিনে ইয়ামাল। ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বাম পায়ের বাঁকানো শট নিলেও অসাধারণ সেভ করেন ডিয়েগো কস্তা। তবে বিপদ তখনও কাটেনি। ফিরতি বলে ঝাঁপিয়ে পড়েন অ্যালেক্স বায়েনা। তিনি কাছাকাছি থেকে আরেকটি শট নিলেও আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান কস্তা। পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে নিজের উপস্থিতির জানান দিলেন পর্তুগালের গোলরক্ষক।

৩০ মিনিটে দারুণ এক আক্রমণ সাজায় স্পেন। মার্ক কুকুরেয়ার পাস পেয়ে পেদ্রি লম্বা বল তুলে দেন পর্তুগালের পেনাল্টি বক্সে। সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন পাও কুবার্সি ও দানি ওলমো। ওলমো শেষ পর্যন্ত শট নিতে না পারলেও স্পেনের খেলোয়াড়দের তাৎক্ষণিক সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সঠিক সময়ে এগিয়ে এসে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সম্ভাব্য বিপদ ঠেকিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক ডিয়েগো কস্তা।

দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেক দেন রেফারি ৬৮ মিনিটে। ততক্ষণ পর্যন্ত ম্যাচের ডেডলক ভাঙতে পারেনি দুই দলের কেউই। ম্যাচ চলতে থাকে গোলশূন্য সমতায়। বিরতির পর ৭১ মিনিটে জয়ের সন্ধানে শেষ মুহূর্তে জোড়া পরিবর্তন আনেন পর্তুগাল কোচ রোবের্তো মার্তিনেজ। জোয়াও ফেলিক্স ও জোয়াও ক্যানসেলোকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয়েছে রাফায়েল লেয়াও ও ডিয়োগো দালোটকে। ম্যাচের শেষ দিকে আক্রমণে গতি বাড়িয়ে জয়সূচক গোল আদায় করতেই এই পরিবর্তন করেছেন পর্তুগালের কোচ।

৭৩ মিনিটে ফ্রি-কিক পায় স্পেন। বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শট নেন লামিনে ইয়ামাল। বল লক্ষ্যভেদী হলেও অসাধারণ দক্ষতায় সেটি কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন পর্তুগালের গোলরক্ষক ডিয়েগো কস্তা। কর্নার থেকে স্পেন আর কোনো বিপদ তৈরি করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বল ক্লিয়ার করে বিপদমুক্ত হয় পর্তুগালের রক্ষণভাগ।

একের পর এক আক্রমণে স্পেনের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে পর্তুগাল। ৭৬ মিনিটে প্রথমে দূর থেকে শট নেন ভিতিনিহা। তবে স্পেনের ডিফেন্ডাররা সেটি ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বল পেয়ে তৎক্ষণাৎ শট নেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। সংকীর্ণ কোণ থেকে মার্ক কুকুরেয়াকে কাটিয়ে গোলমুখে বল পাঠালেও সেটি গিয়ে লাগে সাইড নেটে। ফলে অল্পের জন্য গোলের দেখা পায়নি পর্তুগাল।

ম্যাচের ডেডলক ভাঙে ৯০ মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার পর। ৬ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ের খেলা হওয়ার ঘোষণা আসলেই স্পেনের হয়ে গোল করেন মিকেল মেরিনো। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটেই গোল করেন তিনি। বদলি হিসেবে নেমেই ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন মিকেল মেরিনো।

স্পেনের এই মিডফিল্ডার নিখুঁত সময়ে দুই সেন্টার-ব্যাকের মাঝের ফাঁকা জায়গায় দৌড়ে ঢুকে পড়েন। সতীর্থের পাস পেয়ে ঠান্ডা মাথায় নিচু শটে বল জড়িয়ে দেন জালের নিচের কোণায়। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড়ের গোলে কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু পেয়ে উচ্ছ্বাসে ভাসে স্পেন।

অতিরিক্ত সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে অল্পের জন্য সমতায় ফিরতে পারেনি পর্তুগাল। ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে উঁচুতে লাফিয়ে হেড করেন বার্নার্দো সিলভা। তবে তার প্রচেষ্টা সামান্য ব্যবধানে গোলবারের ওপর দিয়ে বাইরে চলে যায়। শেষ মুহূর্তে সমতার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে হতাশ হতে হয় পর্তুগালকে।

শেষ পর্যন্ত আর সমতা ফেরাতে ব্যর্থ হয় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল। ফলে নিজের শেষ বিশ্বকাপে হতাশ হয়েই বিদায় নিতে হলো তাকে।