
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিতর্কিত সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র চাপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। বিভিন্ন কনফেডারেশনগুলো থেকে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। এমনকি ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও করা হচ্ছিল।
বিতর্কিত সেই সিদ্ধান্ত থেকে সড়ে আসলেও সমালোচনা এবং চাপ যেন পিছু ছাড়ছে না। সম্প্রতি আবারও বিবৃতি দিয়েছে উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি। ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি যখন জোরালো হচ্ছে, ঠিক তখনই তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তা ফিফার জন্য বড় ধরনের ভুল হবে বলে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ফিফা যদি সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বিবেচনা করে, তবে তারা একটি ভয়ংকর ভুল করবে।’
ইনফান্তিনোর প্রশংসা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘সে (ইনফান্তিনো) একজন অসাধারণ মানুষ। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপটি সে এমন সফলভাবে পরিচালনা করেছে, যা অতীতের যেকোনো আসরের চেয়ে চার গুণ বেশি সফল। ইনফান্তিনো চলে গেলে এই টুর্নামেন্ট আর কখনো এত সফল বা লাভজনক হতে পারবে না!’
এদিকে ইনফান্তিনোর ওপর চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা), এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা (কনকাকাফ) নিজেদের মধ্যে আলাদা ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে, এই তিন কনফেডারেশন ইনফান্তিনোকে সম্মানজনকভাবে পদত্যাগ করার সুযোগ দিতে চায় এবং আগামী মার্চের নির্বাচনে তাকে আর প্রার্থী না হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
মূলত ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামের একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। এর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় ছিল, এই কোম্পানির প্রায় ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা।
তবে চারদিক থেকে তুমুল বিরোধিতার মুখে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হন তিনি। এরপর থেকেই ইনফান্তিনোর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি ওঠে। উয়েফা, এএফসি ও কনকাকাফের প্রধানরা যৌথভাবে একটি খোলা চিঠি দিয়ে এই পুরো বিষয়ের স্বাধীন তদন্ত দাবি করেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ফুটবলে নেতৃত্ব কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি ক্ষমতা ধরে রাখার বা ক্ষমতা দাবি করার বিষয়ও নয়। এটি সেই ফুটবল পরিবারের প্রতি সেবার দায়িত্ব, যারা একজন নেতার ওপর আস্থা রেখে তাকে দায়িত্ব অর্পন করেছে।’
আগামী মার্চে ফিফা সভাপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় সংস্থার অনাস্থার মুখে ইনফান্তিনোর ভবিষ্যৎ যখন অন্ধকারে, ঠিক সেই মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন গোটা পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে।