
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে ১৫ হাজারের বেশি ভুল চিহ্নিত করেছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। এসব ভুল সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। একই সঙ্গে ইতিহাসের সঠিক ও নির্ভুল তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছে বিশেষজ্ঞ দল।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে গত মার্চে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি এরই মধ্যে পাঠ্যবইয়ের ১৫ হাজারের বেশি ভুল চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ভাষাগত দুর্বলতা, বানান ভুল, ছবির ত্রুটি এবং ইতিহাসের তথ্যগত অসঙ্গতি।
শিক্ষাক্রম পরিমার্জন কমিটির সদস্য অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘ভুলগুলো বিষয়ভিত্তিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো তিনটি ভলিউম আকারে এনসিটিবির কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি বইয়ে লাল কালি দিয়ে সংশোধনগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে।’
পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধে যার যে ভূমিকা, তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিষয়ও পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এনসিটিবি জানিয়েছে, ভুল সংশোধনের পর পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক ফাতিহুল কাদির বলেন, ‘ভুল সংশোধন ও মানোন্নয়নের যেসব পরামর্শ এসেছে, সেগুলো কম্পিউটারে সংযোজন করা হচ্ছে। এরপর প্রুফ দেখে ভাষা, তথ্য, উপযোগিতা, যৌক্তিকতা ও নির্ভুলতার বিষয়গুলো নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।’
শিক্ষকদের মতে, বাংলা ও ইংরেজি সংস্করণের অনেক বইয়ে তথ্যগত অমিল রয়েছে। এসব বিষয়ও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে। উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বলেন, ‘এনসিটিবির অনুমোদিত বইগুলো শিক্ষার্থীদের খুব মনোযোগ দিয়ে পড়তে হয়। তাই বইয়ে থাকা ভুল সংশোধনের পাশাপাশি সর্বশেষ তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।’
প্রাথমিক স্তরের ৩৬টি এবং মাধ্যমিক স্তরের ৯৭টি পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজে অংশ নিয়েছেন ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ। শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে নির্ভুল পাঠ্যবই তৈরি করতে হবে। আর সে জন্য গবেষকদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও পরিমার্জন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।