
ডাক বিভাগের মোবাইলে আর্থিক সেবার কোম্পানি (এমএফএস) নগদ–এ বিনিয়োগ ইস্যুতে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের সঙ্গে বৈঠকে করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে বিদেশি কিছু বিনিয়োগকারীর জন্য নগদের আর্থিক মূল্য নির্ধারণে অডিট করার অনুমোদন চেয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি গভর্নরকে চিঠি দেন ব্যারিস্টার আরমান।
নগদে বিনিয়োগের ব্যাপারে ব্যারিস্টার আরমানের আগ্রহ বিভিন্ন মহলে বড় ধরনের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে গভর্নরকে এমন বিনিয়োগের বিষয়ে চিঠি দেয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
তবে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানান, ডাক বিভাগের এমএফএস ‘নগদ’-এ বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে একটি বিদেশি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় নেয়া বিদেশি বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই কোম্পানিটি আগ্রহ দেখায়।
এ বিষয়ে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ায় ‘নগদ’-সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের নীতিগত পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
আর ব্যারিস্টার আরমান বলেন, দেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেও সরকার আগ্রহী।
এর আগে নগদ বিক্রির জন্য গত বছর প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এ জন্য কৌশলগত অংশীদার চেয়ে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কৌশলগত অংশীদারের লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অভিজ্ঞ আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে গত বছরের ৩১ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ আবেদন চাওয়া হয়। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এক সভায় নগদকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরই ডাক বিভাগ থেকে বিডার কাছে এ প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
তবে গত ১১ সেপ্টেম্বর নগদ বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যে পদক্ষেপ শুরু করেছিল, সেটি স্থগিত করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ সংক্রান্ত একটি রায় দেন। আদালতের রায়ে বলা হয়, নগদে প্রশাসক নিয়োগের বৈধতা নিয়ে মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এ সম্পর্কিত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা সরকারের হাতে নেই।
ব্যারিস্টার আরমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। তিনি ২০১৬ সালে গুমের শিকার হয়ে দীর্ঘ আট বছর ‘আয়নাঘর’-এ বন্দি ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর মুক্তি পান তিনি। এরপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার আরমান। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য জমা দেয়া হলফনামায় তিনি নিজের সর্বমোট সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি টাকা উল্লেখ করেছিলেন।
আরমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নগদে বিনিয়োগ করবে বিদেশিরা। মূলত তারাই সব ঠিকঠাক করবে। আমি এখন তাদের স্থানীয় প্রতিনিধি হিসেবে যোগাযোগ করেছি, তারা এলে তখন মূল আলোচনা শুরু হবে।’
এদিকে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দেশি-বিদেশি চারটি কোম্পানি নগদে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকে।