News update
  • Death Sentence in Ramisa Murder Case     |     
  • Govt Drafts New Model for $1tn Economy by 2034     |     
  • Middle East Conflict Hits Bangladesh Labour Market     |     
  • Millions face growing hunger as Iran conflict fuels food crisis: UN     |     
  • Bus plunges into Padma from pontoon at Daulatdia     |     

সরকারের সিদ্ধান্তে নিম্ন আয়ের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বস্তি

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বিদ্যুৎ 2026-06-07, 1:22pm

treyrtyu-a3fb139279871c8e7c5a15694ae2e5f11780816942.jpg




দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সরকার ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ বিদ্যুৎ মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার করায় নিম্ন আয়ের লাখো মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। সরকারের এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল ও শ্রেণি-পেশার গ্রাহকরা।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ কমাতে গত ৩ জুন গণশুনানির মাধ্যমে সব শ্রেণির গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে খুচরা পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। এর ফলে আবাসিক গ্রাহকদের লাইফলাইন ও প্রথম ধাপ বা শ্রেণির বিদ্যুতের মূল্যহারও পরিবর্তন করা হয়।

পরিবর্তিত হার অনুযায়ী, লাইফলাইন গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে ৬৯ পয়সা বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। একইভাবে প্রথম ধাপের গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিট দাম ৫ টাকা ২৬ পয়সা থেকে ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়।

গাইবান্ধা, ফেনী ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লাইফলাইন অর্থাৎ ৫০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীরা মূলত নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক পরিবারের সদস্য। তাদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল সাধারণত ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে থাকে। অন্যদিকে প্রথম ধাপের, অর্থাৎ ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের মাসিক বিল গড়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মূল্য সমন্বয় কার্যকর হলে উভয় শ্রেণির গ্রাহকের বিল বেড়ে যেত।

পরে সরকারের পক্ষ থেকে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে বিইআরসির কাছে এই দুই শ্রেণির গ্রাহকের দাম না বাড়ানোর আবেদন জানায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো)। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মূল্য সমন্বয়ের একদিন পর লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখে বিইআরসি। ফলে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্রাহক মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব থেকে মুক্ত থাকছেন।

এ বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট এবং দেশের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বাইরে রেখেছে সরকার। 

তিনি জানান, দাম সমন্বয়ের পরও বিদ্যুৎ খাতে সরকারকে বছরে প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী গ্রামের পল্লি বিদ্যুৎ গ্রাহক মাইদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতি মাসে আমার প্রায় ৩০০ টাকার মতো বিদ্যুৎ বিল আসে। দাম বাড়লে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য অতিরিক্ত খরচ বহন করা কঠিন হতো। আগের মূল্যহার বহাল রাখায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন টেলিফোনে গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের বাড়িতে কয়েকটি বাতি, ফ্যান, একটি ফ্রিজ ও পানির মোটর রয়েছে। মাসে প্রায় ৫০০ টাকা বিল আসে। দাম বাড়লে বিল আরও বেড়ে যেত। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে আমরা উপকৃত হয়েছি।

যশোরের ঝিকরগাছার বিদ্যুৎ গ্রাহক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেন, আমাদের মতো সীমিত আয়ের পরিবারের জন্য বিদ্যুতের দাম না বাড়ানো ভালো সিদ্ধান্ত। এতে মাসিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।

লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য আগের মূল্যহার বহাল রাখাকে যৌক্তিক বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন।

তিনি বলেন, পুরো চাপ শুধু গ্রাহকদের ওপর দেওয়া ঠিক নয়। নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎ খাতকে টেকসই করতে সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, সচেতনভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার এবং সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকরা অতিরিক্ত ব্যয় কিছুটা হলেও কমাতে পারেন।

বিদ্যুতের দাম সমন্বয়কে ‘অপরিহার্য’ উল্লেখ করে ড. ইজাজ হোসেন বলেন, দাম সমন্বয়কে আমি মূলত সমর্থন করি, কারণ এটি অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সমন্বয় হয়নি। তবে দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ তুলে ধরা উচিত ছিল।