
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮৮ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দেড় হাজার জনেরও বেশি। রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় লা গুয়াইরা রাজ্যসহ বিভিন্ন এলাকায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং অনেক ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। খবর বিবিসির।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২, আর মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প। এটি ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে। রাজধানী কারাকাস ও লা গুয়াইরায় বহু আবাসিক ভবন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ভবন ছেড়ে রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে আসছেন।
কারাকাসের এক বাসিন্দা বলেন, মনে হচ্ছিল অনেকক্ষণ ধরে পুরো পৃথিবী নড়ছিল। জীবনে এমন অভিজ্ঞতা কখনও হয়নি।
আরেক বাসিন্দা লিয়েন্ডার জানান, বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি পরিবার নিয়ে পুরো রাত রাস্তায় কাটিয়েছেন।
জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জাতীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ভূমিকম্পে ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, যার বেশিরভাগই লা গুয়াইরা অঞ্চলে অবস্থিত।
হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, দুটি ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১৩৮টি আফটারশক (পরাঘাত) রেকর্ড করা হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন করে ভবন ধসের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।
রদ্রিগেজ বলেন, দেশ বর্তমানে একটি বড় জাতীয় সংকটের মুখোমুখি এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, স্পেন, কাতার এবং জাতিসংঘের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক এসব দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারে স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।
এদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২০ কোটি মার্কিন ডলারের (২০০ মিলিয়ন ডলার) একটি জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ অপসারণে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা চালুরও ঘোষণা দিয়েছে সরকার, যাতে দ্রুত অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অত্যন্ত ব্যাপক হওয়ায় মৃতের সংখ্যা কয়েক হাজারেও পৌঁছাতে পারে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
ভেনেজুয়েলার সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং অস্থায়ী আশ্রয় নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।