
বাংলাদেশে জমিসংক্রান্ত বিরোধ সাধারণ। অনেক সময় এমন হয়, কারো হাতে বৈধ দলিল থাকলেও রেকর্ডে নাম নেই বা বাস্তবে জমি দখল করা নেই। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকা বা জমির খোঁজখবর না রাখা ব্যক্তিরা এই সমস্যায় পড়ে থাকেন।
আইন অনুযায়ী, জমি ফিরে পাওয়ার জন্য দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়: মালিকানা প্রমাণ করা এবং দখল পুনরুদ্ধার করা। যদি আপনার কাছে দলিল থাকে কিন্তু নামজারি হয়নি এবং রেকর্ডে অন্য কারোর নাম থাকে, তাহলে আদালতের মাধ্যমে মালিকানা প্রমাণ করতে হবে।
যেখানে মামলা করবেন তা নির্ভর করে সময়সীমার ওপর। সরকারি খতিয়ান প্রকাশের দুই বছরের মধ্যে রেকর্ড সংশোধন করতে চাইলে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে (LST) আবেদন করতে হবে। দুই বছরের বেশি সময় হয়ে গেলে বা বিষয়টি তখন জানা না থাকলে সহকারী জজ আদালতে ‘ঘোষণামূলক মামলা’ করতে হয়। এখানে আদালতের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রমাণ করা যে আপনি প্রকৃত মালিক, যদিও রেকর্ডে আপনার নাম নেই।
মালিকানা প্রমাণ হওয়ার পর দখল পুনরুদ্ধারের জন্য ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ধারা ৮ অনুসারে জেলা প্রশাসকের অফিসে গঠিত ভূমি প্রতিকার আদালতে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার সময় আদালতের আদেশ ও প্রয়োজনীয় দলিলসহ নির্ধারিত ফরম জমা দিতে হয়। ম্যাজিস্ট্রেট যাচাই ও তদন্ত শেষে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন।
সুতরাং, দলিল থাকলেও জমি পাওয়ার আশা শেষ নয়। সঠিক আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আদালতের নির্দেশনা মেনে আপনি আপনার জমির মালিকানা ও দখল উভয়ই ফিরিয়ে নিতে পারেন।