News update
  • Quota reform: Students plan march to Bangabhaban tomorrow     |     
  • 3 major political party leaders in Barishal rally against hydraulic horns      |     
  • Hamas says 71 killed in Israeli strike on Gaza humanitarian zone     |     
  • Indian citizen dead, 12 injured in Bagerhat bus collision     |     
  • Emergency workers uncover dozens of bodies in Gaza after Israeli assault     |     

চশমা ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন না করলে হতে পারে বিপদ

চশমার লেন্স কেনো গুরুত্বপূর্ণ আপনার সুস্থ ও সুন্দর দৃষ্টির জন্য

মতামত 2024-07-07, 9:21pm

dr-93b147af4534203ac6a60c4bee29e7f91720365703.png

Dr. Mohd Mizanur Rahman



ডক্টর মোঃ মিজানুর রহমান , পিএইচডি 

চোখ আমাদের শরীরের এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। চোখের মাধ্যমে আমরা পৃথিবীকে দেখতে পাই এবং এর সাহায্যে আমাদের দৈনন্দিন কাজগুলি সম্পন্ন করি। কিন্তু যদি দৃষ্টি সমস্যায় ভুগি, তখন আমাদের জীবনে বড় সমস্যা দেখা দেয়। এই দৃষ্টি সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চশমার লেন্স ব্যবহৃত হয়। বর্তমান যুগে চশমা আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনা, কম্পিউটার কাজ, মোবাইল ব্যবহার, এমনকি সাধারণ দৈনন্দিন জীবনের কাজেও চশমার প্রয়োজন হয়। কমবেশি অনেকেই দৃষ্টির সমস্যার কারণে কিংবা সুরক্ষার জন্য চশমা ব্যবহার করে থাকেন, , আবার কেউ কেউ সূর্য থেকে রক্ষা পেতে সানগ্লাস ব্যবহার করেন। । কিন্তু আমরা কি জানি, ছোট থেকে বড়, অনেকেই চোখের সমস্যা সমাধানে চশমা ব্যবহার করেন। তবে, চশমা ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন না করলে হতে পারে মারাত্মক বিপদ।

Spectacles should be used properly.

আসুন, জেনে নেই চশমা ব্যবহারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা।

প্রথমেই, চশমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক পাওয়ারের চশমা নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। অপ্রয়োজনীয় বা ভুল পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী চশমা নির্বাচন করা উচিত।

দ্বিতীয়ত, চশমা পরিষ্কার রাখা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়মিত চশমা পরিষ্কার না করলে ময়লা জমে যায় এবং তা চোখের সংক্রমণের কারণ হতে পারে। পরিষ্কার করার জন্য মৃদু সাবান ও পানি ব্যবহার করা উত্তম। এছাড়া, সফট কাপড় দিয়ে চশমা মুছতে হবে যাতে লেন্সে কোনো দাগ না পড়ে।

তৃতীয়ত, চশমা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও জরুরি। চশমা ব্যবহারের পর এটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে যেন তা ভেঙ্গে না যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। চশমার জন্য নির্ধারিত বাক্সে সংরক্ষণ করা উত্তম।

চতুর্থত, চশমার ফ্রেম এবং লেন্স নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। যদি ফ্রেমে কোনো সমস্যা দেখা দেয় অথবা লেন্সে দাগ পড়ে, তবে তা দ্রুত ঠিক করিয়ে নেওয়া উচিত। নতুবা, দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি হতে পারে।

সবশেষে, দীর্ঘ সময় ধরে চশমা ব্যবহার করলে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। বিশেষ করে যারা কম্পিউটার বা মোবাইল স্ক্রিনের সামনে অনেক সময় কাটান, তাদের প্রতি ২০ মিনিট পর পর ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তু দেখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এই নিয়ম মেনে চললে চোখের ওপর চাপ কমে এবং চোখের ক্লান্তি দূর হয়।

চশমার লেন্স দৃষ্টি সংশোধনের মূল উপাদান। একটি ভালো মানের লেন্স না থাকলে দৃষ্টির স্পষ্টতা কমে যেতে পারে এবং চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। নিম্নমানের লেন্স ব্যবহার করলে চোখে খারাপ প্রভাব পড়তে পারে, যেমন:

চোখের ক্লান্তি

মাথাব্যথা

দৃষ্টির অস্বচ্ছতা

চশমার লেন্সের গুরুত্ব

চশমার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর লেন্স। লেন্সের গুণগত মান এবং সঠিক ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে আপনার দৃষ্টিশক্তি। নিম্নমানের বা ক্ষতিগ্রস্ত লেন্স ব্যবহার করলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি স্থায়ীভাবে চোখের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই উচ্চ মানের এবং আপনার চোখের জন্য উপযোগী লেন্স নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

চশমার লেন্স শুধু আপনার দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে না, এটি আপনার চোখকে সুরক্ষাও প্রদান করে। ভালো মানের লেন্স নির্বাচন করলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়:

সঠিক লেন্স নির্বাচন করুন: চশমার লেন্সের ক্ষমতা আপনার চোখের সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে ঠিক করা উচিত। সঠিক ক্ষমতার লেন্স ব্যবহার না করলে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এজন্য নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চশমার লেন্স পরিবর্তন করা উচিত।

ঠিকমতো ফিটিং করান: চশমার ফ্রেম যদি ঠিকমতো ফিট না হয় তাহলে তা আপনার চোখ এবং কানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এটি মাথাব্যথা, চোখের যন্ত্রণা এবং অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। তাই চশমা কিনে নেয়ার সময় ফিটিং ভালোভাবে চেক করে নিন।

স্পষ্ট দৃষ্টি: উচ্চমানের লেন্স স্পষ্ট এবং পরিষ্কার দৃষ্টি প্রদান করে, যা আপনার দৈনন্দিন কাজকে সহজ করে।

রশ্মি প্রতিরোধক: অনেক লেন্সে বিশেষ প্রলেপ থাকে যা ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি প্রতিরোধ করে। এটি আপনার চোখকে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।

স্ক্র্যাচ প্রতিরোধক: ভালো মানের লেন্স স্ক্র্যাচ প্রতিরোধক হয়, যা লেন্সের স্থায়িত্ব বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমায়।

কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহারে আরাম: ব্লু লাইট প্রতিরোধক লেন্স কম্পিউটার ও মোবাইল ব্যবহারকালে চোখের চাপ কমায় এবং আরামদায়ক দৃষ্টি প্রদান করে।

চশমার লেন্স নির্বাচন করার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:

চোখের পরীক্ষা:নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করানো উচিত যাতে আপনার দৃষ্টির পরিবর্তন সম্পর্কে জানা যায় এবং সেই অনুযায়ী লেন্স পরিবর্তন করা যায়।

লেন্সের প্রকার: আপনার দৃষ্টির সমস্যা অনুযায়ী কনকাভ, কনভেক্স, বা সিলিন্ড্রিক্যাল লেন্স বেছে নিন।

লেন্সের প্রলেপ:অ্যান্টি-রিফ্লেকটিভ বা অ্যান্টি-স্ক্র্যাচ প্রলেপযুক্ত লেন্স নির্বাচন করুন যাতে লেন্স দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং দৃষ্টির স্বচ্ছতা বজায় থাকে।

বিভিন্ন প্রকারের চশমার লেন্স

চশমার লেন্স বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। মূলত, দুটি প্রধান প্রকারের লেন্স ব্যবহৃত হয়: একক দৃষ্টি লেন্স এবং বহুমুখী দৃষ্টি লেন্স।

একক দৃষ্টি লেন্স: এই লেন্সগুলো শুধুমাত্র এক ধরনের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সমাধান করতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মায়োপিয়া (দূর দৃষ্টি সমস্যা) বা হাইপারমেট্রোপিয়া (নিকট দৃষ্টি সমস্যা) সমাধানে একক দৃষ্টি লেন্স ব্যবহার করা হয়।

বহুমুখী দৃষ্টি লেন্স: এই লেন্সগুলো বিভিন্ন দূরত্বে দৃষ্টি সমস্যা সমাধান করতে ব্যবহৃত হয়। প্রেসবাইওপিয়া (বয়সজনিত দৃষ্টি সমস্যা) সমাধানে এই লেন্সগুলো অত্যন্ত কার্যকরী।

সঠিক লেন্স নির্বাচন

চশমার লেন্স নির্বাচন করার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি:

অপটোমেট্রিস্টের পরামর্শ: আপনার চোখের পরীক্ষা করে একজন বিশেষজ্ঞ অপটোমেট্রিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী লেন্স নির্বাচন করুন।

মানসম্মত লেন্স: সর্বদা মানসম্পন্ন লেন্স ব্যবহার করুন যা আপনার দৃষ্টিশক্তি এবং চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

ফ্রেমের আরাম: এমন ফ্রেম নির্বাচন করুন যা আরামদায়ক এবং আপনার মুখের সাথে মানানসই।

চশমার লেন্সের আধুনিক প্রযুক্তি

বর্তমানে চশমার লেন্সে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে। ব্লু লাইট ফিল্টার লেন্স, ফটো ক্রোমেটিক লেন্স, অ্যান্টি-রিফ্লেকটিভ লেন্স ইত্যাদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখা যায় এবং চোখের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা যায়।

ভালো লেন্স নির্বাচন করার কিছু টিপস

চিকিৎসকের পরামর্শ: চশমার লেন্স কেনার আগে অবশ্যই একজন চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকিৎসক চোখ পরীক্ষা করে সঠিক লেন্সের পরামর্শ দেবেন।

গুণগত মান: লেন্সের মান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া খুবই জরুরি। ভালো মানের লেন্স চোখের জন্য নিরাপদ এবং আরামদায়ক।

অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ কোটিং: আজকাল অনেক লেন্সেই অ্যান্টি-রিফ্লেক্টিভ কোটিং থাকে, যা গ্লেয়ার কমায় এবং দৃষ্টি পরিষ্কার করে।

ইউভি প্রোটেকশন: সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করার জন্য লেন্সে ইউভি প্রোটেকশন থাকা উচিত।

যদি চশমার লেন্স ঠিকমতো না হয় তাহলে চোখের কিছু সমস্যা হতে পারে যেমন:

দৃষ্টিশক্তির কমতি: চশমা ঠিকমতো না থাকলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হতে পারে। এটি বিশেষত দূরদৃষ্টি বা কাছদৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রকাশযুক্ত হয়।

অস্বচ্ছ দৃষ্টি: চশমা যদি মধ্যে মধ্যে সাফ না থাকে বা মন্দ হয়ে যায়, তবে দৃষ্টি অস্বচ্ছ হয়ে যেতে পারে।

চোখের অবশ্যতা: অন্ধকার বা মন্দ আলোয় সঠিকভাবে দেখা যাবে না।

চোখের অস্থিরতা: চশমা সঠিকভাবে না হলে চোখের অস্থিরতা অনুভব হতে পারে, যা দৃষ্টিশক্তিতে ভার তুলে দেয়।

পরামর্শ

নিয়মিত চক্ষু পরীক্ষা করান এবং চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লেন্স পরিবর্তন করুন।

চশমা ব্যবহারে কোনো অসুবিধা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

চশমা ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন এবং শিশুদের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর দিন।

চশমার লেন্স শুধু দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে না, বরং চোখের সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই, সঠিক লেন্স নির্বাচন এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো আমাদের সকলের জন্যই জরুরি। সুস্থ ও সুন্দর দৃষ্টি উপভোগ করতে ভালো মানের লেন্স ব্যবহার করা উচিত। চশমা আপনার দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। সঠিকভাবে চশমা ব্যবহার করলে এবং নিয়মিত যত্ন নিলে আপনি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে পারেন। তাই চশমার সঠিক ব্যবহারে সতর্ক থাকুন এবং আপনার চোখের সুস্থতা নিশ্চিত করুন।

(ডক্টর মোঃ মিজানুর রহমান , পিএইচডি , দৃষ্টি বিজ্ঞান, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ম্যানেজমেন্ট এন্ড সাইন্স ইউনিভার্সিটি , মালয়শিয়া)