News update
  • Dhaka's air 5th worst in the world this morning     |     
  • Around 7,500 Bangladeshis imprisoned in Saudi Arabia: Shama Obaed     |     
  • Bangladesh Outperforms India in Global Hunger Index 2026     |     
  • Covered van hits Gazipur police patrol team, killing SI, BNP leader     |     
  • Korean City scrambles to rescue dusky shark after it returns to canal     |     

ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে শত শত টন ইলিশ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক মৎস 2026-09-15, 7:23am

img_20260915_072413-d5134a37d3330d0d4c774f32b3ffe7431789435478.jpg




ইলিশের দেশ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ। অথচ দেশের বাজারের চাহিদা মেটাতে এখন ভারত থেকে টনে টনে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। গত দুই মাসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ৩ লাখ কেজির বেশি ইলিশ আমদানি করেছে ১৯টি প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ভারতের তুলনামূলক কম দামে বড় আকারের ইলিশ পাওয়ার কারণেই আমদানিতে আগ্রহ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের।

আমদানিকারক, কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারত থেকে আরও ইলিশ বাংলাদেশে আসছে। এসব মাছের বেশিরভাগই ভারতের গুজরাট থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে।

যশোর জেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস, জুলাই ও আগস্টে ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৪ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে। আমদানি করা এসব মাছের মূল্য প্রায় সাত কোটি টাকা। বেনাপোল স্থলবন্দরের মৎস্য কোয়ারেন্টাইন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলমও এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গ চিল্ড ফিশ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদের দাবি, গত প্রায় দুই মাসে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশে প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানি হওয়া এসব মাছের প্রায় পুরোটাই গুজরাট থেকে সংগ্রহ করা।

বাংলাদেশে কেন ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে জানতে চাইলে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মনিরুল মামুন বলেন, মৎস্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়েই কিছু প্রতিষ্ঠান ইলিশ আমদানি করছে। তবে আমদানির সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই।

তিনি বলেন, ‘এর সঠিক কারণ জানা নেই। হয়তো ভারতে বেশি ইলিশ ধরা পড়েছে, সে কারণে হতে পারে। আমাদের কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমদানির অনুমতি নিয়ে ব্যবসায়ীরা আমদানি করছেন।’

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক বলেন, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইলিশ আমদানি নিষিদ্ধ নয়। বিভিন্ন সময় অল্প পরিমাণে ইলিশ এসেছে। এবার বাজারে ইলিশ কম দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে কিছু আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’

মহাপরিচালকের ভাষ্য, ইলিশ মূলত সাগরের মাছ। প্রজননের জন্য নদীতে আসে। ভারত হয়তো সমুদ্র থেকে বেশি ইলিশ ধরে ফেলছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ইলিশের মজুত কমে আসায় বাজারের চাহিদা পূরণে সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে ইলিশের বাজারমূল্যের তুলনায় ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশের দাম কয়েকগুণ কম। ফলে আমদানি শুল্কসহ অন্যান্য খরচ যোগ করার পরও ব্যবসায়ীদের ভালো লাভ থাকছে।

মৎস্য বিভাগ ও আমদানিকারকদের কয়েকজনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানি করা ইলিশের সর্বোচ্চ ক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি প্রায় দুই ডলার বা ২৪৬ টাকার কাছাকাছি। দেশে কাস্টমস শুল্কসহ অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ার পরও একই ওজনের দেশি ইলিশের তুলনায় আমদানি করা মাছের দাম কম পড়ে।

ইলিশ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর হয়ে কাজ করা একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মো. কামরুজ্জামান বলেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম থাকায় ব্যবসায়ীরা আমদানি করছেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই তো তারা আমদানি করছেন। আবার লাভ না থাকলে ব্যবসায়ীরা আমদানি করবেন কেন?’

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, গত দুই মাসে দেশের বাজারে ইলিশের সরবরাহ খুবই কম ছিল। ফলে আমদানি করা মাছ বিশেষ করে যশোর অঞ্চলের বাজারে ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে দেশের বাজারেও ইলিশের দাম এখনো চড়া। ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ৫০০ গ্রামের বেশি ওজনের ইলিশ কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা, ৭০০ গ্রামের মাছ ১ হাজার ৮০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রামের মাছ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা এবং এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ প্রায় ২ হাজার ৮০০ টাকা বা তার কাছাকাছি দামে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশে গত কয়েক বছর ধরে ইলিশের উৎপাদনও কমছে। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ৫ লাখ ৭১ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদন হয়েছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৫ লাখ ২৯ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়ায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন আরও কমে হয় ৫ লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আনুষ্ঠানিক হিসাব পাওয়া না গেলেও কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই বছর উৎপাদন ৫ লাখ টনের নিচে নেমেছে।

বাংলাদেশে প্রায় দুই দশক ধরে ইলিশের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও গত তিন বছর ধরে উৎপাদন কমার পাশাপাশি মাছটির গড় ওজনও কমতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষকরা।

ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে ২০২০ সালে ছয় বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটিতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল বলে জানিয়েছেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক। তবে প্রকল্পটি কতটা কার্যকর হয়েছে এবং কোথাও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ইলিশের উৎপাদন কমল কেন, সেটি বের করতে হবে। আগের প্রকল্প কতটা কাজে লাগল কিংবা কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সবকিছু খতিয়ে দেখা দরকার।’

ইলিশ বিশেষজ্ঞ ড. আনিসুর রহমান মনে করেন, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণগুলো দ্রুত চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তার মতে, সাগর থেকে নদীতে ইলিশের আসার পথ বা মাইগ্রেটরি রুট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও উৎপাদন কমার অন্যতম কারণ হতে পারে। পাশাপাশি ক্ষতিকর উপায়ে মাছ ধরা এবং পানিতে কীটনাশক ব্যবহারের কারণে ইলিশের প্রজনন ও বেড়ে ওঠার পরিবেশ হুমকির মুখে পড়ছে।

এদিকে গুজরাটে চলতি মৌসুমে ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মাছ রপ্তানিকারক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ। তার দাবি, সেখানে উদ্বৃত্ত সরবরাহ তৈরি হওয়ায় ইলিশের দামও কমেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে শুধু ইলিশ নয়, ইলিশের ডিমেরও ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। গুজরাটের ইলিশ আকারে বড় এবং ডিমে ভরা হওয়ায় বাংলাদেশের বাজারে এসব মাছের চাহিদা বেশি।

তার তথ্য অনুযায়ী, গুজরাটের ভারুচ থেকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি বাজার হয়ে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত পর্যন্ত ইলিশের এই বাণিজ্যিক পথ বিস্তৃত হয়েছে।

ভারুচের ভাদভূত এলাকার মাছ ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সভাপতি চিমন ট্যান্ডেল জানান, গত পাঁচ বছর ধরে ওই এলাকায় ইলিশের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশেও এ মাছ পাঠানো হচ্ছে। ভাদভূত থেকে রেফ্রিজারেটেড ট্রাকে সরাসরি বাংলাদেশে মাছ পাঠানো হয়।

গুজরাটে সবচেয়ে বেশি ইলিশ পাওয়া যায় ভাদভূতের কাছে, যেখানে নর্মদা নদী সাগরে মিশেছে। এ ছাড়া জম্বুসার ও হানসোট এলাকাতেও ইলিশ পাওয়া যায়।

অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গত অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ১১০ টনেরও কম ইলিশ রপ্তানি হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সব মিলিয়ে দেশে ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ কমে যাওয়া, বাজারে চাহিদা থাকা এবং ভারতের গুজরাটে তুলনামূলক কম দামে বড় আকারের ইলিশ পাওয়ার কারণেই বাংলাদেশে ভারতীয় ইলিশের আমদানি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে দেশের ইলিশ উৎপাদন কেন ধারাবাহিকভাবে কমছে, তার কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। সূত্র: বিবিসি বাংলা