News update
  • Ctg Port’s historic milestone in 2025 container handling, revenue     |     
  • NBR Probes Bank Records of 100 Exporters Over Bond Abuse     |     
  • Hadi murder case: Sanjay, Faisal give ‘confessional’ statements     |     
  • Islami Bank organizes orientation for 1000 Trainee Assistant officers     |     
  • 2025: People’s Resistance Against Hydro Projects in Himalaya     |     

আয়ের হিসাবে নাহিদ এগিয়ে, সম্পদে তারেক ও শফিকুর

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক রাজনীতি 2026-01-02, 9:05am

92228f858aa52e4d2dc2e51b8fcbaaa00c19d736f5e48463-0634c761a372f9203c518c2c7b0c398d1767323118.jpg

(ডান দিক থেকে) এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফাইল ছবি



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে জমা পড়া হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন রাজনৈতিক নেতার আয় ও সম্পদের চিত্র। বার্ষিক আয়ের হিসাবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের চেয়ে এগিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তবে মোট সম্পদ বেশি তারেক রহমানের।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বার্ষিক আয় ১৬ লাখ টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তার আয় দেখানো হয়েছে ১৩ লাখ ৫ হাজার ১৫৮ টাকা, বিপরীতে তিনি আয়কর দিয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২৭৪ টাকা। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৬ হাজার ১২২ টাকা।

২৭ বছর বয়সী নাহিদ বর্তমানে পেশায় একজন পরামর্শক। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে ছয় মাস উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। হলফনামায় তিনি জানিয়েছেন, তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। তবে তার নামে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে সাড়ে ৩ লাখ টাকার ঋণ রয়েছে।

অস্থাবর সম্পদের হিসাবে নাহিদের নিজের নগদ অর্থ ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নগদ অর্থ ২ লাখ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তার জমা রয়েছে ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৩৬৩ টাকা ৫৭ পয়সা। নিজের অর্জনের স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য ১০ লাখ টাকা। এছাড়া তার ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ১ লাখ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

হলফনামায় তার স্থায়ী ঠিকানা দেখানো হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটির বাড্ডার বড় বেরাইদ এলাকায়। বর্তমানে তিনি থাকছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির গোড়ান এলাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে।

তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৫৩ টাকা। তার আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও ব্যাংকের আমানত।

তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং কন্যা জায়মা জারনাজ রহমান। তার জন্ম ১৯৬৮ সালের ২০ নভেম্বর। শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক এবং পেশা রাজনীতি। বর্তমানে তার ঠিকানা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গুলশান অ্যাভেনিউয়ের এন ই-ডি-৩/বি নম্বর বাসা।

অস্থাবর সম্পদের হিসাবে তার নিজের নামে নগদ ও ব্যাংক জমা রয়েছে ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা। তার নিজের নামে শেয়ার রয়েছে ৫ লাখ টাকার এবং কোম্পানির শেয়ার রয়েছে ৪৫ লাখ টাকা ও ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার। তার নিজের নামে সঞ্চয়পত্রে আমানত ২০ হাজার টাকা এবং এফডিআর রয়েছে ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকা। স্ত্রীর নামে সঞ্চয়ী আমানত ২০ হাজার টাকা এবং এফডিআর ৩৫ লাখ টাকা।

এছাড়া তার অর্জনকালীন স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য ২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার রয়েছে অর্জনকালীন ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ২ দশমিক ০১ একর ও ১ দশমিক ৪ শতাংশ জমি। নিজের নামে ২ দশমিক ৯ শতাংশ জমি এবং যৌথ মালিকানায় ১১১ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি ও ৮০০ বর্গফুটের একটি দোতলা ভবন রয়েছে।

ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৩০ হাজার টাকা। তার আয় এসেছে কৃষিখাত থেকে ৩ লাখ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৬০ হাজার টাকা।

৬৭ বছর বয়সী শফিকুর রহমানের জন্ম মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়। তার বাবা আবরু মিয়া এবং মা খাতিবুন্নেছা। হলফনামায় তিনি পেশা হিসেবে চিকিৎসক উল্লেখ করেছেন। তার স্ত্রী আমেনা বেগম গৃহিণী এবং অষ্টম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

তার স্থায়ী ঠিকানা সিলেট শহরে হলেও বর্তমানে তিনি মিরপুর বড়বাগ এলাকায় বসবাস করছেন। জামায়াতের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৪ সালে এসএসসি, ১৯৭৬ সালে এইচএসসি এবং ১৯৮৩ সালে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকা। তার কৃষিজমি রয়েছে ২১৭ শতক, যার অর্জনকালীন মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অকৃষি জমি রয়েছে ১৩ শতক, যার মূল্য ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩৪ টাকা। এছাড়া ১১ দশমিক ৭৭ শতকের একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার অধিগ্রহণকালীন মূল্য ২৭ লাখ টাকা।

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে তার নগদ অর্থ ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ৪ লাখ ৯০ হাজার ২৬৩ টাকা। তার বন্ড, ঋণপত্র ও শেয়ার রয়েছে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকার। এছাড়া রয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি গাড়ি, ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার (অর্জনকালীন মূল্য ১ লাখ টাকা), ২ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ২ লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র। সব মিলিয়ে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ১ কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা।

হলফনামায় তার তিন সন্তানের আয়ের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। মেয়ে সালওয়া সাফীর সম্পদ ৫ লাখ টাকা। আরেক মেয়ে সাবরীন রাদীর সম্পদের পরিমাণ ১৭ লাখ ৭৫ হাজার ১৭৯ টাকা এবং তিনি ২৫ হাজার ১৭৯ টাকা আয়ের বিপরীতে আয়কর দিয়েছেন ৩ হাজার ৭৯৯ টাকা। ছেলে রাফাত সাদিক সাইফুল্লাহ গত অর্থবছরে আয় করেছেন ৬৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং তার সম্পদ রয়েছে ৩০ হাজার টাকার।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী হতে আড়াই হাজারের বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দুই হাজারের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন, বাকিরা স্বতন্ত্র।

মনোনয়নপত্র জমার সময় প্রার্থীদের হলফনামায় ১০ ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। এসব হলফনামা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। হলফনামায় অসত্য তথ্য প্রমাণিত হলে ভোটের পরও সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিধান রয়েছে।

বাছাই, আপিল ও নিষ্পত্তি শেষে ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা চূড়ান্ত হবে। পরদিন রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।