News update
  • Dhaka, Beijing sign 13 MoUs to deepen cooperation across key areas     |     
  • China Eyes Teesta Project, Trade Boost With Bangladesh     |     
  • PM Tarique, Li Qiang Hold Bilateral Talks in Beijing     |     
  • Bangladesh’s external debt stands at $78.22 billion: Khosru     |     
  • PM invites Chinese cos to expand value chains into Bangladesh     |     

আহমেদিনেজাদকে ইরানের নেতা বানানোর পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

সংঘাত 2026-05-21, 7:25am

ahmedinezad_1-b066caaf4871de747699372f8f8a74c31779326729.jpg




ইরানের শাসনব্যবস্থার নেতৃত্বে কট্টরপন্থি সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদকে বসানোর উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল-জাজিরার। 

এই ‘দুঃসাহসিক পরিকল্পনা’ সম্পর্কে অবহিত মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি বলেছে, পরিস্থিতি দ্রুতই বিগড়ে যায় এবং আহমেদিনেজাদের বর্তমান অবস্থা ও তার অবস্থান অজানা।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের ‘ভেতর থেকেই কেউ’ দেশটির দায়িত্ব নিলে সবচেয়ে ভালো হবে।

পত্রিকাটি বলেছে, আহমেদিনেজাদ যে (নেতা হিসেবে) অস্বাভাবিক পছন্দ ছিলেন, এ কথা বললে কম বলা হবে।

যদিও শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে আহমেদিনেজাদের দ্বন্দ্ব ক্রমশ বাড়ছিল এবং ইরানি কর্তৃপক্ষ তাকে কড়া নজরদারিতে রেখেছিল। ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি ‘ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ আহ্বান জানিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির একজন শক্তিশালী সমর্থক এবং যুক্তরাষ্ট্রের একজন কঠোর সমালোচক। এ ছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ভিন্নমতের ওপর সহিংস দমনপীড়নের জন্য তার দুর্নাম ছিল।

তবে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে, ২০১৯ সালের একটি সাক্ষাৎকারে আহমেদিনেজাদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করেছিলেন এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন। 

ওই সময় আহমেদিনেজাদ বলেছিলেন, ট্রাম্প একজন কর্মঠ মানুষ। তিনি একজন ব্যবসায়ী এবং তাই তিনি লাভ-ক্ষতির হিসাব করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। আমরা তাকে বলি, আসুন আমাদের দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি লাভ-ক্ষতির হিসাব করি। আমরা দূরদৃষ্টিহীন না হই।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ভেনিজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণকারী বিশেষ বাহিনীর অভিযানের সাফল্য এবং তার অন্তর্বর্তীকালীন উত্তরসূরি ডেলসি রদ্রিগেজের হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায়ে ট্রাম্প উৎফুল্ল ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একই মডেল ইরানেও অনুকরণ করা যেতে পারে।

‘একটি জেল ভাঙার অভিযান’

তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পনাটি নিয়ে আহমেদিনেজাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়েছিল, যা দ্রুতই ভেস্তে যায়। 

মার্কিন কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে জানান, যুদ্ধের প্রথম দিনেই তেহরানে আহমেদিনেজাদের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তিনি আহত হন। এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল তাকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা। তারা বলেন, আহমেদিনেজাদ সেই হামলা থেকে বেঁচে যান, কিন্তু অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার পর তিনি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন এবং তারপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

গত মার্চে আটলান্টিকে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আহমেদিনেজাদের সহযোগীদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, বাড়িতে হামলাটি ছিল কার্যত একটি জেল ভাঙার অভিযান।

ওই প্রতিবেদনের পর নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, তারা আহমেদিনেজাদের এক সহযোগীর কাছ থেকে নিশ্চিত খবর পেয়েছে যা, তিনি বুঝতে পেরেছিলেন বিমান হামলাটি ছিল তাকে মুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা। ওই সহযোগী বলেন, আমেরিকানরা বিশ্বাস করত, আহমেদিনেজাদ দেশটিকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন এবং ইরানের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সামরিক পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা তার রয়েছে।

আহমেদিনেজাদ ওই হামলায় আঘাত পাওয়া সত্ত্বেও গৃহবন্দি দশা থেকে পালাতে সক্ষম হন, তবে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়ে তার মোহ কেটে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহযোগিতা বন্ধ করে দেন।

আহমেদিনেজাদ ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তবে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তার বিরোধ ক্রমশ বাড়ছিল।

নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, আহমেদিনেজাদ ইরানের শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন এবং নানা গুজব ছড়িয়েছিলেন। তাকে বেশ কয়েকটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা এবং তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। একপর্যায়ে আহমাদিনেজাদের চলাফেরা ক্রমশ তার বাড়ির ভেতরে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আহমেদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের সঙ্গে অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখা, এমনকি ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিরও অভিযোগ উঠেছে।