News update
  • RMG exports to UK almost $1bn in first two fiscal months     |     
  • Trump Rejects Iran Proposal to Reopen Strait of Hormuz     |     
  • Govt to Buy Rooftop Solar Power at Tk 10.50 Per Unit     |     
  • Over 30 tourism clusters being developed in country: PM      |     
  • Bangladesh, US sign strategic civil nuclear cooperation agreement     |     

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে চীনের সমর্থন বিরোধী পক্ষে?

গ্রীণওয়াচ ডেক্স সংঘাত 2023-12-22, 10:13am

oafjiaufuaiuik-91973e0abb950358638c633d141edf8a1703218389.jpg




মিয়ানমারের অস্থিতিশীল সেই সময়েও জান্তা সরকারের পাশে ছিল চীন। এ সময় জান্তা সরকারের ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনাও করে বেইজিং। শুধু তাই নয়, মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে দেশটির সেনাবাহিনীর কাছে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অস্ত্র বিক্রি করে বেইজিং।

জান্তা সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের জাতিগত মিলিশিয়া গ্রুপের একটি জোট, যার নাম ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স’। এই জোটটি সাধারণত চীন সীমান্তবর্তী এলাকার জঙ্গল, যা অনানুষ্ঠানিকভাবে চীনের প্রভাব বলয়ের মধ্যে পড়ে সেসব এলাকায়  অভিযান পরিচালনা করত। এবং দ্রুতই তারা জান্তা সরকারের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে হাজির হয়।  

তারপরও চীন এই বিরোধী জোটকে দমানোর বা নিরুৎসাহিত করার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এমনকি এই বিদ্রোহী জোট দাবি করে যে তারা জান্তা সরকারের প্রায় ২০০ ঘাঁটি ও চারটি সীমান্ত ক্রসিং দখল করে নিয়েছে, যা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, একের পর এক ‘সফল’ অভিযানের পর জান্তা সরকারের বিরোধী বিভিন্ন জাতিগত ও রাজনৈতিক দলের নেতারাও সেনা শাসনের বিরুদ্ধে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন শুরু করে। তাদের পর আরও দ্বিগুণ গতিতে হামলা চালানো শুরু করে বিরোধীরা। এতে করে মিয়ানমারের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। 

থ্রি ব্রাদারহুডের গত ২৭ অক্টোবরের হামলা ‘অপারেশন ১০২৭’ নামে পরিচিত। এই অভিযান শুরু হওয়ার পর থ্রি ব্রাদারহুড জোট ঘোষণা দেয় যে, মিয়ানমার-চীন সীমান্তে গত তিন বছর ধরে যে অনলাইন প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য কাজ করবে তারা; যা চীনের নিরাপত্তার জন্য অনেক বড় হুমকি। এই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে মিয়ানমারে ১ লাখ ২০ হাজার অবৈধ শ্রমিক ঢুকেছে, যাদের অনেকেই চীনের নাগরিক।

মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে চীনের ভূমিকা নিয়ে আপাতদৃষ্টিতে সবার এমন একটা ধারণা হয় যে, জান্তা সরকার ও বিরোধী জোটগুলোর সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে চীন তার অবস্থান পাল্টে ফেলেছে এবং বিরোধী পক্ষের প্রতি তার সমর্থন বাড়াচ্ছে। মিয়ানমারের প্রতি চীনের এমন ‘অসন্তোষ’ বাড়ার কারণে গেল নভেম্বরে চীন-বিরোধী প্রতিবাদ সভা বা সমাবেশ খুব একটা হয়নি নেপিদোতে। চীনের অসন্তোষকে আমলে নিয়ে জান্তা সরকার চীন-বিরোধী এই প্রতিবাদ নিয়ন্ত্রণ করেছে। 

বেইজিংও সেই সময় জান্তা সরকারকে আশ্বস্ত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। বার্মিজ জাহাজের সঙ্গে যৌথভাবে তারা নৌ মহড়ার আয়োজন করেছে। ডিসেম্বরের শুরুতে চীনা কূটনীতিক ওয়াং ই মিয়ানমারের উপ-প্রধানমন্ত্রী থান সোয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৪ ডিসেম্বর দেশটি ঘোষণা করে, মিয়ানমার সরকারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে জাতিগত মিলিশিয়া গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে একটা সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে, যার মধ্যস্থতা করেছে বেইজিং।

যদিও ভারত এবং রাশিয়া জান্তা সরকারের সঙ্গে ব্যবসা করছে। চীনেরও মিয়ানমারের সঙ্গে গভীর অর্থনৈতিক সংযোগ আছে। চলমান সংঘাত থাকার পরও মিয়ানমারের ভেতর দিয়ে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত রেলওয়ে, পাইপলাইন, বন্দর করার পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে চীন। এই প্রকল্পে ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার অঙ্গীকার করেছে চীন। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত একটি সংযোগ সড়ক তৈরির প্রকল্পে ৫০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার কথা ভাবছে ভারত।

এটা ঠিক যে, চীনের এই দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ও দেশটির গণতন্ত্রপন্থিদের প্রতি বিদ্বেষ থেকে জান্তা সরকারের ঘনিষ্ঠ হতে পেরেছে চীন। কিন্তু চীনের নিরাপত্তা ইস্যু আরও কৌশলগত হতে পারে। মিয়ানমার ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, কিন্তু মিয়ানমার-চীন সীমান্তে যে জঙ্গল রয়েছে তা নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে দেশটির সরকার। 

এ কারণে দুই দেশের সীমান্তবর্তী প্রায় দুই হাজার কিলোমিটার এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে বরাবরই চীন উদ্বিগ্ন ছিল এবং এই বিষয়টি তাদের অবকাঠামোগত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেকটাই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এর মধ্য দিয়ে শরণার্থী ও মাদক চোরাচালানকারীদের দৌরাত্ম্য বাড়ে সীমান্তে।


মিয়ানমারের এ অপরাধ চক্রের সঙ্গে চীনা নাগরিকদের জড়িত থাকার বিষয়টি; সেটা অপরাধের শিকার হোক বা তারা নিজে অপরাধী হোক, বিষয়টি চীনের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়েছে। গত মে মাসে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিন গ্যাং মিয়ানমারে গিয়েছিলেন জান্তা সরকারের পতনের দাবিতে। সে সময় কয়েক হাজার চীনা নাগরিককে মিয়ানমারে পাচার করা হয়। একটা বড় অংশকে বন্দি করা হয় এবং জোর করে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। যারা তা করতে অস্বীকার করে, তাদের হয় নির্যাতন করা হয় নয়তো মেরে ফেলা হয়। কিন্তু মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই অপরাধচক্র ঠেকাতে বা তাদের নির্মূল করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।  

এখন চীন আবার জান্তা সরকারের সঙ্গে ‘স্বাচ্ছন্দ্যবোধ’ করছে, যারা এখনও রাজধানী নেপিদোসহ তাদের বেশিরভাগ বিমানবন্দর, ব্যাংক, বড় বড় শহরগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও চীন ও রাশিয়া থেকে যুদ্ধবিমান কিনেছে মিয়ারমার, যা তাদেরকে বেসামরিক মানুষদের ওপর নির্বিচার বোমা হামলা চালাতে সক্ষম করেছে। 

চীনও মিয়ানমার সরকারকে কোনো না কোনোভাবে তা ফেরত দেবে। হয়তো এর বিনিময়ে মিয়ানমার থেকেও কিছু না কিছু কিনবে বেইজিং। আবার কখনও কখনও তারা মিয়ানমারের শক্রদের সমর্থন দেবে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা। নিউজ সময়