News update
  • Democrats Take Congress: Five Possible Shifts in Trump’s Foreign Policy     |     
  • COP31: Can Nations Turn Climate Promises Into Action?     |     
  • UN Warns Climate Adaptation Funding Falls Far Short     |     
  • Bangladesh on The Verge of a Solar Energy Revolution     |     
  • Bangladesh Bank Injects $100 Million Into Forex Market     |     

সৌরশক্তি বিপ্লবের দোরগোড়ায় বাংলাদেশ

সৌর 2026-11-05, 10:37am

a-volunteer-responding-to-queries-of-visitors-at-the-solar-expo-2026-on-wednesday-4-november-2026-a96cc3b194cdba4829efe7dfba2522161793853470.jpg

A volunteer responding to queries of visitors at the Solar Expo 2026 on Wednesday 4 November 2026.



মোস্তফা কামাল মজুমদার

২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে সরকার দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। সৌরশক্তি-সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে অধিকাংশ শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক, বিশেষায়িত সংস্থা এবং বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে স্বল্পসুদে সবুজ অর্থায়নের ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন এক সম্ভাবনাময় সৌরশক্তি বিপ্লবের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে।

রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মঙ্গলবার ও বুধবার অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপো ২০২৬’-এ সেই সম্ভাবনারই প্রাণবন্ত প্রতিফলন দেখা গেল। ৯০টি স্টলের এ প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আগতদের মধ্যে ছিলেন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্ভাব্য ক্রেতা, খাতটির বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করতে আসা উদ্যোক্তা এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী। অনেকেই দলবদ্ধভাবে প্রদর্শনীতে অংশ নেন।

প্রদর্শনীতে সৌরযন্ত্রপাতি আমদানিকারকদের পাশাপাশি অংশ নেয় সৌর হোম সিস্টেম স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী সৌরসমাধান প্রদানকারী উদ্যোক্তা, শিল্পখাতে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, দেশীয় সৌর প্যানেল প্রস্তুতকারক, বৈদ্যুতিক কেবল নির্মাতা, সাবমারসিবল পাম্পসহ সৌরসেচ ব্যবস্থা সরবরাহকারী কোম্পানি এবং বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। এমনকি সৌরচালিত বাতি ও পাখাও ছিল বেশ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বল্পমূল্যের তহবিল ব্যবহার করে ৫ শতাংশ সুদে সবুজ ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে কয়েকটি ব্যাংক স্টল স্থাপন করে। বিশেষায়িত কিছু বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ৬ শতাংশ সুদে ঋণসুবিধা দিচ্ছিল। প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিল দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান আইডিকল (IDCOL), স্রেডা (SREDA) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর মধ্যে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনও ছিল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) স্টলে প্রদর্শিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌরশক্তি সরঞ্জাম আমদানিতে বর্তমানে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের জন্য এটি একটি যুগান্তকারী প্রণোদনা। অন্যদিকে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন, সম্প্রসারণ ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গত ১৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির জারি করা বিশেষ অধ্যাদেশের গেজেট কপি দর্শনার্থীদের মধ্যে বিতরণ করে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এমন সব সৌরবিদ্যুৎ প্যাকেজ উপস্থাপন করে, যা মাত্র ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট এবং ব্যাংকঋণের সহায়তায় সংগ্রহ করা সম্ভব। একই সঙ্গে এমন কয়েকটি কোম্পানিও অংশ নিয়েছিল, যারা ইতোমধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছে বিক্রি করছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা ১৯ থেকে ১০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, সৌরশক্তি খাতে বিনিয়োগ এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি লাভজনক ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। ফলে বেসরকারি করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্রমশ এই খাতে এগিয়ে আসছে। তবে স্বল্পসুদী ঋণ যেন প্রকৃত উদ্যোক্তারাই পান এবং ঋণের অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে কেউ যেন এ উদ্যোগকে ব্যর্থ না করতে পারে, সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোর সতর্ক থাকা জরুরি।

প্রদর্শনীর দ্বিতীয় দিন বুধবার স্টলগুলোতে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যস্ততা ছিল তুঙ্গে। বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর প্রশ্নের উত্তর দেওয়া, ব্রোশিওর বিতরণ এবং ভিজিটিং কার্ড সরবরাহ করতে গিয়ে তাদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। এরপরও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনেক প্রতিষ্ঠান কফি, পপকর্ন ও চকলেটের আপ্যায়নের ব্যবস্থা রেখেছিল।

বাংলাদেশের জ্বালানি খাত এখনও অনেকাংশে আমদানিনির্ভর। আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের অস্থিরতার কারণে এ খাত নানা ধরনের চাপের মুখে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় দেশের জন্য সবচেয়ে টেকসই ও নিরাপদ বিকল্প হতে পারে সৌরশক্তি, কারণ এ সম্পদের প্রাচুর্য বাংলাদেশে রয়েছে।

সোলার এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, আগামী গ্রীষ্মের আগেই ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। লক্ষ্যটি নিঃসন্দেহে উচ্চাভিলাষী। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জন করতে হলে এ ধরনের মধ্যবর্তী লক্ষ্য পূরণের বিকল্পও নেই।

প্রদর্শনী ইতোমধ্যে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। এখন প্রয়োজন দক্ষ তদারকি ও মাননিয়ন্ত্রণ। সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণে নিম্নমানের সরঞ্জাম, কারিগরি দুর্বলতা কিংবা অব্যবস্থাপনা যেন এ সম্ভাবনাময় খাতের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত না করে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে হবে। তাহলেই সৌরশক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠতে পারবে।