News update
  • Russia’s Vladimir Putin defends global food crisis stance     |     
  • US Supreme Court ends constitutional right to abortion     |     
  • US ending abortion right a 'huge blow' to human rights : UN     |     
  • Bonn talks- Agenda fight over Glasgow Dialogue on Loss, Damage     |     
  • BB releases Tk100 commemorative notes to mark Padma Bridge opening     |     

ইউক্রেন সংকট এলপিজির দামে উল্লম্ফন অব্যাহত রাখতে পারে

error 2022-03-06, 7:36pm

ep-talks-d1f9115e4034d022177797fa4639de991646573815.jpg

EP Talks. 05 March 2022



রান্নার কাজে জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ভোক্তাদের স্বাধীনতা মানে যার যেমন ইচ্ছা পাইপ লাইন গ্যাস, এলপিজি, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য ব্যবহারের সুযোগ নীতিগতভাবে নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন এনার্জি এন্ড পাওয়ার আয়োজিত ওয়েবনারের বক্তারা। তারা বলেন, নিজস্ব জ্বালানি অনুসন্ধান ও ব্যবহারে ধারাবাহিক ব্যর্থতার কারণে দেশের আমদানি নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলপিজি পুরোটাই আমদানি নির্ভর এজন্য তাতে প্রভাব আরো বেশি। ইউক্রেন সংকট জ্বালানি সরবরাহে কোনো প্রভাব না ফেললেও তেল ও গ্যাসের দাম বিশ্বব্যাপী বৃদ্ধি পাচ্ছে। এলপিজির ক্ষেত্রে তার প্রভাব ভোক্তাদের উপর চলতি মাস থেকেই পড়তে শুরু করেছে। বক্তারা মনে করেন, এলপিজির আমদানি দাম ৭০০ ডলারের বেশি হলে সাবসিডি দিয়ে এবং আপাতত ৭ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করে তা ভোক্তাদের জন্য সহনীয় করার নীতি নেওয়া যেতে পারে। তবে সকলেই মনে করছেন, উচ্চ জ্বালানি দামের চাপ কমাতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে রান্নায় জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

“ইউক্রেন ক্রাইসিস: ইমপ্যাক্ট অন কুকিং ফুয়েল এন্ড ওয়ে আউট” শিরোনামের ইপি টকসে প্রধান অতিথি হিসাবে যুক্ত  ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জনাব আবদুল জলিল। মুখ্য বক্তা হিসাবে আস্ট্রেলিয়ার ব্রিজবেন থেকে যুক্ত ছিলেন এনার্জি এন্ড পাওয়ারের কন্ট্রিবিউটিং এডিটর ইঞ্জি খন্দকার আবদুস সালেক। প্যানেলিস্ট হিসাবে কথা বলেছেন বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) জনাব মকবুল ই এলাহী চৌধুরী, বুয়েটের সাবেক প্রফেসর ড. ইজাজ হোসেন, বিইআরসির সাবেক সদস্য জনাব আবদুল আজিজ খান, সাসটেনেবল এন্ড রিনিয়েবল এনার্জি অথরিটির সদস্য (পলিসি এন্ড রিসার্স) জনাব সালিমা জাহান, বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেডের হেড অব ডিভিশন ইঞ্জি জাকারিয়া জালাল এবং যমুনা টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি মাহফুজ মিশু। ওয়বেনারটি সঞ্চালনা করেন এনার্জি এন্ড পাওয়ার সম্পাদক মোল্লাহ  আমজাদ হোসেন।

বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বলেন, করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানির চাহিদা কমে গিয়েছিল, সেই সাথে মূল্যও কমেছিল। বর্তমানে করোনার প্রকোপ কমলেও ইউক্রেন যুদ্ধ আমাদের মতো দেশের জন্য আঘাত হয়ে দেখা দিয়েছে। যদিও করোনা মহামারীর প্রকোপ কমায় জ্বালানির চাহিদা এবং মূল্য এমনিতেই কিছুটা বাড়ছিল। বর্তমান সঙ্কটে জ্বালানির মূল্য অস্থির হয়ে পড়েছে। জ্বালানিনির্ভর বর্তমান পৃথিবীতে জ্বালানিনিরাপত্তা অত্যন্ত জরুরি। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যে সমস্যাগুলো আমাদের সামনে এসেছে তা হলো- জ্বালানির বর্ধিত মূল্য, জ্বালানি প্রাপ্যতা এবং জ্বালানি সরবরাহ। বর্তমানে সরবরাহে তেমন ব্যাঘাত ঘটেনি। অর্থাৎ জ্বালানি সরবরাহে সমুদ্র পথ অবশ্যই নিরাপদ রাখতে হবে। তবে কোনো কারণে বর্তমান জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কিভাবে সঙ্কট মোকাবেলা করা যায় তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

জ্বালানি চাহিদা যদি আরও বেড়ে যায় তাহলে মূল্য আরও বেড়ে যেতে পারে। তবে রান্নার জ্বালানি নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার তেমন কোনো কারণ নেই। বর্তমানে দেশের ৭৭ ভাগ মানুষ ‘সলিড’ জ্বালানি (কাঠ, লাকড়ি ইত্যাদি, যাকে আমরা ট্র্যাডিশনাল জ্বালানি বলতে পারি) ব্যবহার করে। বাকি ২৩ ভাগ পাইপ লাইন গ্যাস, এলপিজি এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্না করে। বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ পরিবার রান্নার কাজে পাইপ লাইনে প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ২৫ থেকে ৩০ লাখ পরিবার এলপিজি যুক্ত হয়েছে। মানে দেশের ৩৩ মিলিয়ন পরিবারের মাত্র ৬.৫ থেকে ৭ মিলিয়ন পরিবার রান্নায় পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহার করছে।

শুধু ট্যারিফ বা সরবরাহ র্যাশনালাইজেশন করলে হবে না তথাকথিত সিস্টেম লস অবশ্যই এখনই বন্ধ করতে হবে। সঙ্কট কাটাতে নিজস্ব গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে ব্যবস্থা নিতে হবে। সংকটময় সময়ের জন্য নিজস্ব তহবিল তৈরিতে মনযোগ দিতে হবে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান বলেন, এলপিজির দাম সহনীয় রাখতে সাময়িকভাবে ট্যাক্স কমান যেতে পারে। তবে ভ্যাট ১৫ ভাগ থেকে ৭ ভাগে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে জরুরি বিষয় হলো ৭৭ ভাগ ব্যবহারকারীদের কিভাবে ক্লিন জ্বালানি সরবরাহ করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করা। সেফটি নেটওয়ার্কের আওতায় বস্তিবাসি বা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সুলভ মূল্যে বা বিনামূল্যে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। স্রেডা উন্নত, জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব চুলা ব্যবহার উদ্বুদ্ধ করছে তা ভালো উদ্যোগ।

প্রধান বক্তা হিসাবে ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার আবদুস সালেক সূফি বলেন, করোনার প্রকোপ শেষে নতুন বিশ্ব শুরু হওয়ার পর জ্বালানি চাহিদা অনেক বেড়েছে। উত্তর গোলার্ধে শীতের কারণে জ্বালানির চাহিদা এবং মূল্য দুইই বেড়ে গেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে রান্নার জ্বালানি হিসাবে কেরোসিন, এলপিজি, বিদ্যুৎ এবং শহর এলাকায় পাইপ লাইনে গ্যাস ব্যবহার হয়। এছাড়া ট্র্যাডিশনাল জ্বালানি ব্যবহার রয়েছে। এসডিজির আওতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য পরিবেশবান্ধব রান্নার জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।

সৌদি আরামকোর সর্বশেষ কন্ট্রাক্টক প্রাইস অনুসারে এলপিজির দাম আগের মাসের তুলনায় ২০০ ডলার বেড়ে যাওয়ায় দেশীয় বাজারেও তা প্রভাব পড়েছে। মার্চে প্রতিটি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানির বাজার অস্থির। আজ ক্রুড অয়েলের মূল্য ১১৩ ডলার। ফলে আগামী মাসে দেশীয় বাজারে আবারো এলপিজির দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে আমি মনে করি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বেশিদিন স্থায়ী হবে না। এর প্রধান কারণ ইউক্রেন ইউরোপে শুধু জ্বালানি সরবরাহ করে না বরং খাদ্য সরবরাহের অন্যতম উৎস এ দেশ।

সালেরক সূফি দাবি করেন, প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার প্রাকৃতিক গ্যাস ‘ডাকাতি’ হচ্ছে। মিটার ছাড়া ব্যবহার, মিটার টেম্পারিং করা এবং অবৈধ পাইপ লাইন করে ব্যবহার করে এ ডাকাতি চলছে। এই অবৈধ ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

বিইআরসিকে এ বিষয় নিয়ে পেট্রোবাংলাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করতে হবে। অন্যদিকে বৈদুত্যিক রান্নার সামগ্রী জনপ্রিয় করতে প্রয়োজনে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে হবে।

সালেক সূফি বলেন, বর্তমানে শহরে রান্নার জন্য পাইপ লাইনে গ্যাস, সিলিন্ডারে এলপিজি সরবরাহ করা হচ্ছে। আর বাকি সবাই রান্নার জন্য ট্র্যাডিশনাল জ্বালানি ব্যবহার করে। ফলে সমান সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রয়োজনে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে অথবা জ্বালানি পাওয়ার জন্য সবাইকে সমান সুযোগ করে দিতে হবে। তবে গৃহস্থালিতে ব্যবহারের জন্য সবরকম জ্বালানি ব্যবহারের ব্যবস্থা উন্মুক্ত রাখতে হবে।

দেশে নতুন এক্সপ্লোরেশন অবশ্যই বাড়াতে হবে। বেশ কিছু গ্যাস ক্ষেত্র থেকে আরও গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর সুযোগ আছে। জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এখন একমাত্র বিকল্প হলো নিজস্ব কয়লা উত্তোলন করা।

মকবুল ই এলাহী চৌধুরী বলেন, ১৯৭৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু জ্বালানি তেলের অস্থির বাজার মূল্য থেকে অর্থনীতিকে বাঁচাতে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তেল অনুসন্ধানে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্ত বর্তমানে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে কারণ অনুসন্ধানের জন্য যে নীতিমালা করা প্রয়োজন তা ঠিকমতো করা হয়ে উঠেনি। অনুসন্ধানের জন্য টাকার তেমন প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন যথাযথ নীতিমালা- বিশ্বজুড়ে তেমনটাই দেখা যাচ্ছে।

বর্তমানে আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে এলএনজি কেনা। তবে সিস্টেম লস কমিয়ে তা মোকাবেলা করা যায়। বর্তমানে বিদ্যুতে সিস্টেম লস ১০ ভাগ, এক সময় তা ছিল ৪৭ ভাগ। কিন্তু গ্যাসের সিস্টেম লস আগের তুলনায় ব্যাপকভিত্তিক কমিয়ে আনা যায়নি। এখন প্রয়োজন গ্যাস সরবরাহে এলাকা ভিত্তিক মিটার বসান। বাসাবাড়িতে খুব দ্রুত প্রিপেইড মিটার বসাতে হবে। এছাড়া আগামীতে এমন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তহবিল গড়ে তুলতে হবে।

তিনি মনে করেন, আবাসিক খাতে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহে সকলের জন্য ন্যায্যতা নিশ্চিত করার জন্য যতটুকু ব্যবহার কতটুকু বিল নীতি নিশ্চিত করতে সকলকে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনতে হবে।

ড. ইজাজ হোসেন বলেন, রাশিয়া থেকে যেহেতু তেল-গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়নি তাই বলা যায়, বর্তমান মূল্য বৃদ্ধি অনেকটা মনস্তাত্ত্বিক। এর আগেও জ্বালানির মূল্য অনেক বেড়ে গেছে বা অনেক কমে গেছে। এটা নতুন কিছু নয়। তবে বর্তমানে তেল এবং গ্যাস দুইটারই মূল্য একসঙ্গে বাড়ছে। আগে এমনটা দেখা যায়নি।

করোনার সময় জ্বালানির মূল্য কম থাকায় বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে বেশকিছু অর্থ সাশ্রয় করেছে। তবে সে অর্থ ব্যয় করে ফেলা হয়েছে। এধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য একটা বিশেষ তহবিল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে আমরা দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে পারিনি। এখন এলএনজির যে মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে কথা হচ্ছে তা স্পট মার্কেটে থেকে কেনা। এলপিজির মূল্য যদি অনেক বেড়ে যায় তাহলে সাময়িক ভাবে ট্যাক্স কমান যেতে পারে। এছাড়া বাল্ক আমদানির দিকে নজর দিতে হবে। বর্তমানে এলপিজি কিন্তু পরিবহন খাতেও ব্যবহার হচ্ছে। বিষয়টি নিয়েও ভাবতে হবে।

আব্দুল আজিজ খান বলেন, তিতাস ৫০ বছর পুরানো বিতরণ নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করছে। নতুন নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য কাজ শুরু করা জরুরি হয়ে পড়েছে। গ্যাস পাইপ লাইনে অসংখ্য ছিদ্র হয়ে গেছে। সিস্টেম লস কমানোর জন্য অন্যান্য উদ্যোগের পাশাপাশি এটাও জরুরি।

ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য এলপিজির যে মূল্য বাড়ছে তা মোকাবেলার জন্য ৬ মাস বা এক বছরের জন্য নতুন পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে। পুরো জ্বালানি ব্যবস্থা নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ বেশ কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ফার্নেস অয়েল দিয়ে হয়। সেটিও আমদানি নির্ভর।

আজ থেকে ১০/১২ বছর আগেও এলপিজি সিলিন্ডার ১২০০-১৩০০ টাকায় বিক্রি হতো। বর্তমানে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। বর্তমান এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য খুব বেশি না। তবে পাইপ লাইনে সরবরাহ করা গ্যাসের মূল্য অনেক গ্রাহক কম ব্যবহার করেও পুরো বিল দিচ্ছেন এটা যুক্তিসঙ্গত নয়। ফলে দুই চুলার জন্য গ্যাসের পরিমাণ পুননির্ধারণ করে ট্যারিফ সমন্বয় করা দরকার।

সেলিমা জাহান বলেন, শতভাগ বাড়িতে সনাতন চুলার পরিবর্তে জ্বালানি দক্ষ চুলা ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে স্রেডা কাজ করে যাচ্ছে। এটা নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি সাশ্রয় এমনিতেই হবে। এছাড়া পরিবেশ দূষণ আরও কমবে।

বর্তমানে রাইস কুকার, ইনডাকশন কুকার স্টার্ডাজাইশেনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেখানে সম্ভব সেখানে সোলার ও গ্রিড হাইব্রিড পদ্ধতিতে রান্নার জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যেহেতু অফপিকে রান্না হয়, রান্নার জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে ট্যারিফ কমান যায় কি-না তা দেখা প্রয়োজন। নেট মিটারিংয়ে রুফটপ সোলার থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ প্রথমত রান্নার কাজে ব্যবহার করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে রান্না করা গেলে এবং প্রিপেইড মিটার চালু হলে প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় করা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিপেউড মিটার ব্যবহার করলে বিল প্রায় অর্ধেক দিতে হচ্ছে এবং অর্ধেক প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে।

গ্রাহক যে যেটা ব্যবহার করে স্বাচ্ছন্দ্য পাবেন সেটাই ব্যবহার করতে পারবেন। জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সাশ্রয়ই আমাদের লক্ষ্য। ই-কুকিং পলিসি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে রান্নার কাজে মাত্র ১০ ভাগ পরিবার বায়োমাস ব্যবহার করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের জন্য উন্নত চুলা ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাকিরা পরিবেশবন্ধাব জ্বালানি ব্যবহারের আওতায় আসবে।

জাকারিয়া জালাল বলেন, রান্নার জন্য এলপিজি ছাড়া বিকল্প জ্বালানি আসলে তেমন নেই। ২০০৭, ২০১৪ সালেও এলপিজির মূল্য বেড়েছিল। এবারও সারাবিশ্বের যে পরিস্থিতি তাতে মনে হচ্ছে, জ্বালানির মূল্য বাড়তেই থাকবে। আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য যা থাকবে তা দিয়েই আমাদের এলপিজি কিনতে হবে। বাল্ক এলপিজির সরবরাহ পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।

বর্তমানে এলপিজি আমদানিতে ভ্যাট ৭ শতাংশ ধার্য আছে। সাময়িক ভাবে তা মওকুফ করা যেতে পারে। যা আসলে গ্রাহককে স্বাচ্ছন্দ্য দিবে। এছাড়া কয়েকজন মিলে বড় জাহাজে করে বাল্ক এলপিজি আমদানি করলে মূল্য কিছুটা কম পড়বে। অন্য জ্বালানিতে যেখানে ৭০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয় সেখানে এলপিজির জন্য প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রাহকের জন্য ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। যদি এলপিজির মূল্য প্রতিটন ৬৫০-৭০০ ডলার হয়ে যায় তখন এ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। এলপিজি ব্যবহারের বড় সাফল্য হলো রান্নার জন্য ক্লিন ফুয়েল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া।

মাহফুজ মিশু বলেন, মাসের প্রথমে এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে। তা নিয়ে গ্রাহকদের তেমন কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু ডিজেল, পেট্রোল ইত্যাদির মূল্য যেভাবে নির্ধারণ হয় তা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

১০ দিনের ইউক্রেন যুদ্ধে ক্রুড অয়েলের মূল্য ১১৮ ডলার হলে ১০০ দিন যুদ্ধ চললে তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? গার্মেন্ট খাতের কী হবে? জ্বালানি খাতে সুশাসন কবে আসবে? বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি বিক্রির ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকদের কাছে ইউরোপ বেশি গুরুত্ব পাবে না বাংলাদেশ? এমন সব প্রশ্ন গুরুত্ব দিতে হবে।

আমরা নিজেদের জ্বালানি ঠিকভাবে অনুসন্ধান করতে পারিনি। নিজস্ব জ্বালানি সম্পদ না থাকায় টাকা থাকলেও জ্বালানি কিনতে পাওয়া যাবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ আছে।

উৎসঃ ইপি টকস।