
রাজধানীতে জমে উঠেছে 'জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬'। কংক্রিটের এই শহরে এক টুকরো সবুজের খোঁজে দিনভর বৃষ্টির পরেও প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমাচ্ছেন বৃক্ষপ্রেমীরা।
এবারের মেলায় নার্সারিগুলো পসরা সাজিয়েছে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলদ, বনজ, ঔষধি এবং বাহারি সব আলংকারিক গাছের। বিশেষ করে নজর কাড়ছে দৃষ্টিনন্দন বনসাই, ছাদবাগানের জন্য উপযুক্ত বিভিন্ন জাতের রঙিন আম, মাটি ছাড়াই বেড়ে ওঠা এয়ার প্ল্যান্ট এবং পরিবেশবান্ধব নান্দনিক টবের কালেকশন।
নাগরিক জীবনে সবুজের ছোঁয়া পৌঁছে দেয়ার এই আয়োজনের কিছু খণ্ডচিত্র নিয়ে আমাদের আজকের এই ফটোস্টোরি।
এই গাছটির বয়স ৪০ বছর! নাম পডোকার্পাস (Podocarpus)। বনসাইটির দাম চাওয়া হচ্ছে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
মাটি ছাড়াই বেঁচে থাকে এই গাছ! বাতাস থেকে পুষ্টি নিয়ে এই অদ্ভুত সুন্দর 'এয়ার প্ল্যান্ট' (Air Plant)। ঘরের ভেতর বা বারান্দার সৌন্দর্য ও আভিজাত্য বাড়াতে মেলায় এই ঝুলন্ত গাছের বেশ কদর।
নিখুঁত বুননে তৈরি বিশালাকার 'লাকি ব্যাম্বু' (Lucky Bamboo)। ইনডোর প্ল্যান্ট হিসেবে এর বেশ চাহিদা। মেলায় বিশালাকৃতির এই 'লাকি ব্যাম্বু' সবার নজর কাড়ছে।
ছোট গাছেই থোকা ধরে ঝুলছে থাইল্যান্ডের বিখ্যাত 'চিয়াংমাই' জাতের আম। ফলের ভারে নুয়ে পড়া ছোট গাছগুলো মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
প্লাস্টিকের বদলে পরিত্যক্ত ডাবের খোসার তৈরি ঝুলন্ত টবে পূর্ণ সতেজতায় দুলছে লতানো ইনডোর প্ল্যান্ট। ডাবের আঁশ দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা ধরে রেখে উদ্ভিদের বৃদ্ধিতে সাহায্য করায় এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ মেলায় দর্শনার্থীদের বেশ প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
অর্কিডের স্নিগ্ধ সৌন্দর্য আর মায়াবী আভা মেলা প্রাঙ্গণকে করে তুলেছে অনন্য। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের অর্কিডের পাপড়ির রঙের বৈচিত্র্য মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের।
`ফাস্ট লাভ‘ (first love) এই ফুল বা গাছের প্রতি আকর্ষণের প্রধান কারণে এর এই নামকরণ।
টিনের ড্রামে উন্নত জাতের (১২ মাসি) পিংক কাঁঠাল। ছোট্ট গাছটি ফলের ভারে যেন নুয়ে পড়ছে। ছাদবাগানে বা শৌখিন বাগানীদের আগ্রহ বেশ প্রবল।
মাটি ছাড়াই ঝুলন্ত শিকড় নিয়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে ভ্যান্ডা অর্কিড (Vanda Orchid)। অদ্ভুত সুন্দর এই ফুলটি ঘরের আভিজাত্য ও নান্দনিকতা বাড়াতে ঘর সাজাতে প্রথম পছন্দের তালিকায়।
লিপস্টিকের মতো বাহারি রঙে রাঙানো এই গাছগুলো মূলত 'সিলিন্ড্রিক্যাল স্নেক প্ল্যান্ট' (Sansevieria cylindrica)। মখমলের মতো লাল, বেগুনি ও হলুদ রঙের এই ভেলভেট টপ স্নেক প্লান্টগুলো ইনডোর প্লান্ট হিসেবে দর্শনার্থীদের কৌতূহলের কমতি নেই।
যান্ত্রিক জীবনে ঘরের কোণে একটু সতেজতা আনতে ক্যাকটাস, ফার্ন ও পাতাবাহারের মতো ইনডোর প্ল্যান্টের চাহিদা এখন সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ঘর সাজাতে গৃহিণীদের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠেছে এগুলো।
টবজুড়ে হাসছে সবুজ ‘আন্না আপেল’, তার ওপর থেকে উঁকি দিচ্ছে রঙিন বিদেশি আম—নার্সারির এমন নান্দনিক দৃশ্য মেলায় সবার মন কাড়ছে।