News update
  • July Mass Uprising Day Today     |     
  • PM Inaugurates July Mass Uprising Memorial Museum     |     
  • BGMEA, OCAIB move to attract Chinese investment in RMG sector     |     
  • BSTI finds dangerously high mercury levels in 8 skin creams     |     

কেনিয়ায় ১৫ হাতির রহস্যজনক মৃত্যু

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক জীববৈচিত্র 2026-08-05, 11:06am

img_20260805_110050-9b08a2e34f62ec7a2fe96af655ffd7291785906428.jpg




কেনিয়ার অ্যাম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্কসংলগ্ন এলাকায় এক মাসের ব্যবধানে ১৫টি হাতির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে টমেটো ক্ষেতে ব্যবহৃত সায়ানাইডযুক্ত কীটনাশকের বিষক্রিয়ার ইঙ্গিত মিললেও, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংরক্ষণবাদী, বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিসের (কেডব্লিউএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে অ্যাম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানের বাইরে হাতিগুলোর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত কয়েকটি হাতির শরীরে আংশিক পক্ষাঘাতের লক্ষণ দেখা যায়। পরে তাদের পাকস্থলীর নমুনা পরীক্ষায় সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

কেডব্লিউএসের প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ড. আইজ্যাক লেকোলুল বলেন, হাতিগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগে মারা গেছে নাকি দুর্ঘটনাবশত বিষক্রিয়ার শিকার হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে পার্শ্ববর্তী টমেটো ক্ষেতে ছিটানো কীটনাশকের মাধ্যমে বিষক্রিয়া হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অ্যাম্বোসেলি ও সাভো জাতীয় উদ্যানের মাঝামাঝি কিমানা এলাকা হাতিদের গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ। এখানকার উর্বর জমিতে ব্যাপক টমেটো চাষ হয়, যার উৎপাদন কেনিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন অনেক বিশেষজ্ঞ। প্রায় তিন দশক ধরে হাতি নিয়ে গবেষণা করা সংরক্ষণবাদী পাউলা কাহুম্বু বলেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে শুধু কীটনাশককে দায়ী করা যায় না। তার মতে, একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির প্রাণঘাতী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হতে বিপুল পরিমাণ দূষিত খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজন হয়, যা বর্তমান তথ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে কয়েকজন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞের মতে, সাধারণত পুরুষ হাতিরাই বেশি ঝুঁকি নিয়ে কৃষিজমিতে প্রবেশ করে। অথচ মৃত ১৫টি হাতির মধ্যে মাত্র একটি ছিল পূর্ণবয়স্ক পুরুষ, যা কীটনাশক তত্ত্বকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

স্থানীয় ভূমিমালিকদের প্রতিনিধি ড্যানিয়েল নিনা বলেন, অতীতে বিষক্রিয়ার ঘটনায় জেব্রা ও অ্যান্টিলোপের মতো প্রাণী আক্রান্ত হলেও এবার শুধু হাতির মৃত্যু হয়েছে। একই এলাকায় ঘাস খাওয়া অন্য প্রাণীগুলো কীভাবে অক্ষত থাকল, সেটিও তদন্তের বিষয় হওয়া উচিত।

এদিকে ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে কিমানা এলাকায় সায়ানাইড-ভিত্তিক রাসায়নিকযুক্ত একটি নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছিল। অভিযোগ রয়েছে, তানজানিয়া সীমান্ত দিয়ে এসব অবৈধ কৃষি রাসায়নিক চোরাইপথে কেনিয়ায় প্রবেশ করছে।

সংরক্ষণ সংস্থা সেভ দ্য এলিফ্যান্টস-এর প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক পোপ বলেন, বর্তমানে হাতিদের সবচেয়ে বড় হুমকি দাঁতের জন্য শিকার নয়, বরং দ্রুত পরিবর্তিত ভূমি ব্যবহার। কৃষিজমি ও পর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণের কারণে মানুষ ও হাতির সংঘাত দিন দিন বাড়ছে।

হাতিগুলোর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কারণ দ্রুত শনাক্ত করা না গেলে ভবিষ্যতে হাতি এবং স্থানীয় মানুষের জন্যও একই ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সূত্র: বিবিসি