News update
  • Sri Lanka urges Pakistan to reconsider India match     |     
  • Centre of World Cup storm Mustafizur lands PSL deal with Lahore     |     
  • BNP and Jamaat election camps vandalized in Gazipur     |     
  • Dhaka requests UN rights office investigation into Hadi murder     |     
  • Bangladesh establishes formal diplomatic ties with Grenada     |     

ওমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনা ‘আপাতত’ শেষ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক কৌশলগত 2026-02-07, 8:28am

17f587980f7156dbe2261162f62a4d4ce642f2e00ffbecf5-39a4c2c22027bee7f5dac2ea539ae0ab1770431282.jpg




ওমানের রাজধানী মাসকটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনা আপাতত শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্মকর্তারা। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এবং সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আলোচনায় বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

আল জাজিরার প্রতিবেদন মতে, ইরানের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জামাতা জারেড কুশনার।

বৈঠকে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেন। বৈঠকের আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, বৈঠকের লক্ষ্য হল ‘পারমাণবিক ইস্যুতে একটি ন্যায্য, পারস্পরিক সন্তোষজনক এবং সম্মানজনক চুক্তিতে পৌঁছানো’।

আর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি বলেন, ইরান ‘চোখ খোলা রেখে’ এবং ‘গত এক বছরের অভিজ্ঞতা’ নিয়ে কূটনীতির পথে এগোচ্ছে। এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা সৎ উদ্দেশে আলোচনায় বসছি এবং আমাদের অধিকার নিয়ে দৃঢ় থাকব। প্রতিশ্রুতি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।’

ইরানি সূত্রগুলোর মতে, দ্বিতীয় দফার বৈঠক দীর্ঘ সময় ধরে চলা একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত। তাদের ধারণা, যদি আলোচনা পুরোপুরি অচলাবস্থায় পড়ত, তাহলে দ্বিতীয় বৈঠকই হতো না।

তবে এই সীমিত আশাবাদের মাঝেও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরান বলছে, আলোচনা শুধুমাত্র তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েই হবে। তারা জোর দিয়ে বলছে, নিজ দেশে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার ইরানের রয়েছে এবং ৪০০ কিলোগ্রামের বেশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো হবে না।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইছে আরও বিস্তৃত একটি সমঝোতা। এর মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, চীনে জ্বালানি রপ্তানি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন।

ইরান এসব বিষয়কে আলোচনার বাইরে বলে স্পষ্ট করেছে। এই অবস্থায় আলোচনা আপাতত শেষ হলেও ভবিষ্যতে আবার সংলাপ শুরু হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। 

আলোচনার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, আলোচনাটি একটি ‘ভালো শুরু’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আরাঘচি জানান, বৈঠকে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি একে অপরের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আলোচনায় ইরানের উদ্বেগ, স্বার্থ এবং ইরানি জনগণের অধিকার নিয়ে কথা হয়েছে। তার ভাষায়, ‘খুব ভালো পরিবেশে আলোচনা হয়েছে এবং অপর পক্ষের বক্তব্যও শোনা হয়েছে।’ 

ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি জানিয়েছেন, তার দেশ আজ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘খুবই গুরুতর’ পরোক্ষ আলোচনার মধ্যস্থতা করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই আলোচনা দুই দেশের চিন্তাভাবনা পরিষ্কার করতে সহায়ক হয়েছে এবং সম্ভাব্য অগ্রগতির ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করা গেছে।

তিনি লেখেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় পক্ষের অবস্থান পরিষ্কারভাবে বোঝা গেছে, যা অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।’ ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, পরবর্তী সময়ে আবার আলোচনা বসানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে পরবর্তী দফার আলোচনার সুনির্দিষ্ট সময়সূচি তিনি উল্লেখ করেননি। আলবুসাইদি বলেন, আলোচনার ফলাফল তেহরান ও ওয়াশিংটনে সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা হবে। আল জাজিরা।