
Injured college teacher in Kalapara.
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এবার এক কলেজ শিক্ষকের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান নামের একই কলেজের অপর শিক্ষক চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে কলাপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপর কলাপাড়া থানা পুলিশের একটি টিম কলেজে এসে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেন বলে জানিয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ ড. ফাতেমা হেরেন।
সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে কলাপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের লাইব্রেরী কক্ষে ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ইনকোর্স পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় সাধারণ ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক মো. বাদল মাতুব্বর তাকে হঠাৎ চেয়ার দিয়ে পেটাতে শুরু করেন। একপর্যায়ে মোস্তাফিজ'র মাথায় আঘাত করতে উদ্যত হলে তিনি আত্মরক্ষার জন্য বাম হাত দিয়ে প্রতিহত করায় প্লাস্টিকের চেয়ার ভেঙে তার বাম হাতের কব্জির নিচের অংশ কেটে যায় এবং রক্তক্ষরণে পরিধেয় পোশাক ভিজে যায়। ঘটনার পরপর গণিত বিভাগের শিক্ষক মোজাম্মেল তাকে চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগ সূত্র জানায়, দুপুর ১ টার দিকে একজন কলেজ শিক্ষককে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে আহত শিক্ষক তার অধীনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত শিক্ষকের বাম হাতের কব্জির নিচের অংশের চামড়া কেটে যাওয়ায় চার পাঁচটি সেলাই দেয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কা মুক্ত ।
আহত শিক্ষক মোস্তাফিজ জানান, ২৪ এর ৫ আগস্টের পর থেকে বাদল মাতুব্বর তাকে কলেজে আসতে নিষেধ করেন। কিন্তু তিনি কলেজে এসে নিয়মিত ক্লাস করায় এর আগেও তাকে মারধর করেন বাদল। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান আহত শিক্ষক মোস্তাফিজ।
এ বিষয়ে কলেজ শিক্ষক বাদল মাতুব্বরের সাথে কথা বললে তিনি শিক্ষক মোস্তাফিজকে মেরে আহত করার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফাতেমা হেরেন বলেন, দুই শিক্ষকের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে শিক্ষক লাউঞ্জে তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে জেনেছি । এ বিষয়ে কোনো পক্ষই আমার কাছে অভিযোগ জানায়নি। থানায় অভিযোগ করা হয়েছে কিনা জানি না, তবে বিকেলে পুলিশ এসে খোঁজখবর নিয়েছে।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, কলেজে দুই শিক্ষকের মধ্যে মারামারির বিষয়টি জেনেছি। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়া হবে। - গোফরান পলাশ