
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের নামফলক সরানোর অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অবস্থান পরিষ্কার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের নাম বাতিল কিংবা পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং নামফলকও সরানো হয়নি।
সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়ার একটি ফেসবুক পোস্টের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যান্ডটির নামফলক সরিয়ে নেওয়ার দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
তবে বিসিবির দাবি, যাচাই-বাছাই ছাড়াই পুরোনো ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডের নামফলক আগের জায়গাতেই রয়েছে।
এ বিষয়ে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দাবি করা হয়, বর্তমান বোর্ড প্রশাসন মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জুলাই ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের নামে নামকরণ করা স্ট্যান্ডটি বাতিল করেছে। তবে এ দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছে ক্রিকেট বোর্ড।
বিসিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম কিংবা দেশের অন্য কোনো আন্তর্জাতিক ভেন্যুর কোনো স্ট্যান্ডের নাম পরিবর্তন বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে বোর্ড কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বোর্ড আরও জানায়, চলতি বছরের শুরুতে বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর মিরপুরে তিনটি আন্তর্জাতিক সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব ম্যাচে শহীদ আবু সাঈদ স্ট্যান্ডসহ সব স্ট্যান্ডের নাম মাঠে উপস্থিত দর্শক এবং টেলিভিশন সম্প্রচারে দৃশ্যমান ছিল। ম্যাচের টিকিট ও প্রচারসামগ্রীতেও স্ট্যান্ডগুলোর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে কোনো স্ট্যান্ডের নামসংবলিত সাইনেজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছে বিসিবি। এ ধরনের কাজ সাধারণত ম্যাচ না থাকার সময়ই করা হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তার নামে স্ট্যান্ডটির নামকরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে বিসিবি বলেছে, এ বিষয়ে বিভ্রান্তি বা জল্পনার কোনো সুযোগ নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা প্রচারণা হিসেবে দেখছে ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবির দাবি, এসব প্রচেষ্টার উদ্দেশ্য বর্তমান বোর্ডের ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন করা। বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার বিসিবি সংরক্ষণ করে।