
আইপিএলে প্রথমবারের মতো কলকাতা নাইট রাইডার্সের জার্সি গায়ে খেলবেন বলে ৯.২০ কোটি রুপিতে নিলাম থেকে দলে নেওয়া হয়েছিলো বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে। তবে হঠাৎ করেই কলকাতা স্কোয়াড থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
ভারতজুড়ে কয়েকটি কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আইপিএলে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালায়। এর প্রভাবেই বিসিসিআই মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই ঘটনাটি শুধু ক্রিকেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং বাংলাদেশ-ভারতের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের ভবিষ্যতকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
মুস্তাফিজ আইপিএলে খেলতে না পারার বিষয়টি নিয়ে আজ বিকেলে সিলেটে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি জানান, রাত সাড়ে ৯টায় বিসিবি জরুরি সভা ডেকেছে এবং সভার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
বুলবুল বলেন, আমাদের কাছে যতটুকু তথ্য এসেছে তা বিসিসিআই থেকে এসেছে। আমরা আইসিসির অধীনে ইভেন্ট খেলি এবং মুস্তাফিজুর রহমানের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে যাওয়ার কথাই আমাদের জানা। এর বাইরে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য এখনো পাইনি। পাওয়ার পর সবার সঙ্গে শেয়ার করব।
মূলত ভারত সরকার নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে মুস্তাফিজকে আইপিএলে খেলার অনুমতি দেয়নি। কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা অনুসারে অভ্যন্তরীণ পরামর্শের ভিত্তিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আইপিএলের নীতিমালা অনুযায়ী কলকাতাকে বদলি ক্রিকেটার নেওয়ার অনুমতিও দেয়া হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই জানানো হবে।
বাংলাদেশি এই পেসারের নিরাপত্তা সংক্রান্ত শঙ্কা এখন কেবল ক্রিকেটের সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতীয় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ক্রিকেটীয় বিষয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করছে, যা দুই দেশের ক্রিকেট বন্ধনে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে।