News update
  • Up to 13 million set to leave Dhaka for Eid despite rainy weather     |     
  • ATM Cash Shortage Hits Dhaka Customers During Eid Break     |     
  • Measles Claims 17 More Lives in 24 Hours     |     
  • Jungle Salimpur RAB, police camp attack; joint operation on     |     
  • Islami Bank Chairman Resigns Amid Internal Pressure     |     

চুক্তি না হলে বোমা পড়বে—ট্রাম্প, ‘নতুন কার্ড’ নিয়ে আমরা প্রস্তুত—ইরান

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক খবর 2026-04-21, 2:39pm

51414a05845eabacc51876e3ff51f7881e37fc74e34d9d37-c4a88ae2b23db5ae5d257bcb217e304f1776760792.jpg




যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হতে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ অবরোধ ও ট্রাম্পের প্রকাশ্য হুমকির মধ্যে পাকিস্তানে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলাচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) ব্লুমবার্গ নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ‘বুধবার সন্ধ্যা (ওয়াশিংটন সময়)’ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এ মেয়াদ আর বাড়ানোর সম্ভাবনা খুব কম এবং এর পরই আবার বোমাবর্ষণ শুরু হতে পারে। তবে তিনি এ-ও বলেন, ‘একটি খারাপ চুক্তির জন্য আমি তাড়াহুড়ো করব না। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।’

ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর তেহরান অভিযোগ করেছে, অবরোধ আরোপ করে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের শীর্ষ আলোচক এবং দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স-এ দেয়া পোস্টে বলেছেন, আমরা হুমকির মধ্যে আলোচনায় অংশ নেব না।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোরে দেয়া পোস্টে গালিবাফ আরও লিখেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তেহরানের কাছে ‘নতুন কার্ড’ রয়েছে। আমরা হুমকির মধ্যে আলোচনায় বসব না। গত দুই সপ্তাহ ধরে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কার্ড দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

হরমুজ  সমস্যা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই যুদ্ধ অবসানে আলোচনার আশা প্রকাশ করেছে। তবে হরমুজ প্রণালি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে দুই দিন আগে ওমান উপসাগরের কাছে ইরানের একটি পণ্যবাহী জাহাজ মার্কিন বাহিনী জব্দ করলে তেহরান একে যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। ফলে দুই পক্ষের শান্তি আলোচনার জন্য হরমুজ প্রণালি অন্যতম প্রধান ইস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

শান্তি আলোচনা নিয়ে কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র

ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদল এই সপ্তাহে ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে বলেছিলেন, মঙ্গলবার ইসলামাবাদে আলোচনা হবে, তবে মঙ্গলবার আলোচনা শুরু হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ কোনো পক্ষই এখনও পাকিস্তানে পৌঁছায়নি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, ইরান আলোচনায় রাজি হলে আজ মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের উদ্দেশে রওনা হতে পারে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। প্রতিনিধিদলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্টের জামাতা জারেড কুশনারও সফরে ভ্যান্সের সঙ্গে থাকবেন।

আলোচনার নিয়ে অনিশ্চয়তা মাঝে ট্রাম্প তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যদি কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়ে যায়, ‘তাহলে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু হবে’।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কী হবে পিবিএস নিউজের সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এরপর প্রচুর বোমা পড়বে। তিনি আরও বলেন, ‘আমি বলতে চাই, তাদের সেখানে থাকার কথা। আমরা সেখানে থাকার জন্য সম্মত হয়েছিলাম, যদিও তারা বলে আমরা হইনি। কিন্তু না, এটা ঠিক করা হয়েছিল। এখন দেখা যাক তারা সেখানে থাকে কি না। যদি তারা সেখানে না থাকে, তাতেও সমস্যা নেই।’

মূল বিরোধ যেসব বিষয়ে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ইরানি কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের সুর ও হরমুজ প্রণালিতে চলমান মার্কিন অবরোধই আলোচনাকে অনিশ্চয়তা মধ্যে ফেলেছে।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, উভয় পক্ষ একটি চুক্তির রূপরেখার বিষয়ে একমত হয়েছিল, কিন্তু ট্রাম্পের প্রকাশ্য ‘চরমপন্থা’ অবস্থান কূটনৈতিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকে আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে জনসমক্ষে বাগাড়ম্বর বা কঠোর ভাষা ব্যবহার না করার জন্য সতর্ক করেছে। সূত্র: এনডিটিভি