News update
  • Dhaka’s air quality moderate on Sunday morning     |     
  • Special prayer held at DU on 45th death anniv of Ziaur Rahman     |     
  • 55-year-old dies in Chuadanga as fibrous mango bit blocks throat     |     
  • Dhaka's air quality ‘moderate’ during Eid holiday     |     
  • Thousands of tourists flock to Kuakata during Eid festival     |     

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আশার আলো

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক খবর 2026-05-31, 12:56pm

img_20260531_125247-9b8a961fea46ec57e97b1165c3a4eb4d1780210607.jpg




সমুদ্রসীমা জয়ের এক যুগ পর সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান করেছে পেট্রোবাংলা। উৎপাদন বণ্টন নীতি বা পিএসসি অনুযায়ী, কোনো ব্লকে সাফল্য পেলে সেখান থেকে জ্বালানি মিলতে পারে সর্বোচ্চ ৩০-৩৫ বছর ধরে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আগের তুলনায় আকর্ষণীয় আর বিনিয়োগবান্ধব হয়েছে এবারের উৎপাদন বণ্টন নীতি।

সুনীল জলরাশির তলে বিপুল সম্পদের হাতছানি। ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্র সীমা জয়ের পর বাংলাদেশের কেটে গেছে এক যুগেরও বেশি সময়। তবুও শুরু হয়নি বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান।

২০২৪ সালের মার্চে দরপত্র আহ্বান করলে, নথি সংগ্রহ করেছিল সাতটি বহুজাতিক কোম্পানি। তবে সে বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হলেও শেষ পর্যন্ত দরপত্র জমা দেয়নি কোনো প্রতিষ্ঠানই। সে অভিজ্ঞতা থেকে উৎপাদন বণ্টন চুক্তি বা পিএসসি সংশোধন করে, দু বছর পর আবারো দরপত্র ডাকলো পেট্রোবাংলা।

জ্বালানি খাতের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এবারের পিএসসি বিদেশি কোম্পানিগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয়। যেখানে থাকছে গ্যাসের দাম বাড়ানো, পাইপলাইন ট্যারিফ, শর্তসাপেক্ষে রফতানির সুযোগসহ বেশ কিছু নতুন সুবিধা। পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতিও রাখবে ইতিবাচক ভূমিকা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনোভাবে আস্থা পায়নি। এখন সম্পূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে, একটি নির্বাচিত সরকার এসেছে। এখন পিএসসিটা অনেক বেশি বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব করা হয়েছে। এখন তারা আগ্রহ পাবে।’    

উৎপাদন বণ্টন চুক্তি (পিএসসি) মূল্যায়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. ম. তামিম বলেন, ‘বিডিং দিয়ে আর বসে থাকা যায় না। ইনফরমালি বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে কথা বলা দরকার। এটা যথেষ্ট আকর্ষণীয় একটা চুক্তি। যেকোনো বিদেশি কোম্পানি যদি গ্যাস পায়, সে পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ভালো মুনাফা ভালো হবে এবং বাংলাদেশও লাভবান হবে।’    

তবে সমুদ্রবক্ষ থেকে তেল-গ্যাস পেতে পেরোতে হবে জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। দরপত্র জমার সময় ৬ মাস। এরপর বিড মূল্যায়ন, আলোচনা ও চুক্তি সইয়ে সময় লাগতে পারে বছরখানেক। আর অনুসন্ধান প্রক্রিয়া চলবে ৬ থেকে ৯ বছর। সঙ্গে পাইপলাইন নির্মাণে লাগবে বছর দুয়েক। সব ঠিকঠাক এগোলেও সাগরের তলদেশের সম্ভাবনা ঘরে তুলতে অপেক্ষা করতে হবে এক দশক।

ড. তামিম বলেন, ‘প্রথমত কোম্পানি সার্ভে করবে। বিডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিবে। বিডিং করে যদি না পায়, তাহলে পরবর্তীতে আবার বিডিং করবে। গ্যাস পাওয়ার পরেও এটাকে ডেভলপ করতে সময় লাগবে। সবকিছু যদি ঠিকঠাক থাকে আট-দশ বছরের আগে গ্যাস সরবরাহ করা যাবে না।’

ড. ইজাজ বলেন, ‘এটা একটা দীর্ঘ মেয়াদি জিনিস। আমাদের সাগরটা অত শান্ত না। এখানে সব কাজ করার মধ্যে সক্ষমতার একটা ব্যাপার রয়েছে। আশা করছি সবকিছু বুঝেশুনে সামনের দিকে এগোবে।

পিএসসি অনুযায়ী, সাগরের তলদেশে সাফল্য পাওয়া গেলে গ্যাসক্ষেত্রে ২৫ বছর, আর তেলক্ষেত্রে ২০ বছর ধরে চলবে বাণিজ্যিক উৎপাদন। সম্ভাবনা থাকলে তা বাড়ানো যাবে আরও ১০ বছর।