
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেছেন, সরকার সারা দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনে বদ্ধপরিকর। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বরাদ্দকৃত অনুদান পূজা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে দেশের সব মণ্ডপে সুষ্ঠুভাবে পৌঁছানো নিশ্চিত করার তাগিদ দেন।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও নিরাপদ পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে এই আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সারা দেশে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার বলেন, মণ্ডপের সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি সুদৃঢ় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আজান ও নামাজের সময় প্রয়োজনীয় নীরবতা বজায় রেখে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যগত চর্চা ধরে রাখার আহ্বান জানান। পবিত্র কোরআনের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি অন্য ধর্মের উপাস্য সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে অপরাধীকে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরোনো বা সম্পাদিত ঘটনার অপব্যবহারের মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিকভাবে সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার। একই সঙ্গে সচেতন যুবসমাজকে গুজব প্রতিরোধে সঠিক তথ্য প্রচারে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তা আড়াল না করার বিষয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডিনায়েল স্টেজে আমরা থাকতে চাই না। ডিনায়েল স্টেজ বলতে কেউ ধরা পরলেই আমি বলব সে পাগল এবং না বুঝে অঘটন ঘটিয়েছে এটা মনে হয় ঠিক হবে না, তাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়। বরঞ্চ শুরুতে একটু ধাক্কা এলেও তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক পানিশমেন্ট হলে কিন্তু মন থেকে কষ্টটা মুছে যায়।
প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার অপরাধীর পরিচয় আড়াল না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক), ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধি, গোয়েন্দা সংস্থা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, কল্যাণ ট্রাস্ট এবং পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।