
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সাড়ে ৮ টায়) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শুরু হয়েছে এই ভোট গণনা।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। অনিয়মের অভিযোগে একটি আসনের ভোট বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। তাই আজ ২৯৩ আসনে ভোট গণনা চলছে।
২৯৪ আসনের এই বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য যেকোনো দলের প্রয়োজন হবে ১৪৮ আসনে জয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী অবশ্য ইতোমধ্যেই দুই শতাধিক আসন পেয়ে ফের সরকার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তবে, প্রাথমিক ফলাফলে এখন পর্যন্ত রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেস ও প্রধান বিরোধী বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল সিপিএম পিছিয়ে আছে বেশ বড় ব্যবধানে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির তথ্য অনুযায়ী, ভোটগণণা শুরুর প্রথম সোয়া ঘণ্টায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে মমতার তৃণমূল এগিয়ে আছে ১০৬টি আসনে। আর শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি এগিয়ে আছে ১৫২টি আসনে।
অন্যদিকে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের তথ্য অনুযায়ী, ১১২টি আসনের ফলাফল ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। এই ১১২টি আসনের মধ্যে ৫৬টিতে বিজেপি, ৫৩টিতে তৃণমূল কংগ্রেস, ২টিতে কংগ্রেস এবং একটিতে ‘অন্যান্য’ প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। রাজ্যের তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল সিপিএম এখনও কোনো আসনে জয় পায়নি।
কোন দল জিতছে, কারা বসতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে— তা সবই স্পষ্ট হবে ভোট গণনার পর। তবে, রাজ্যবাসী কার হাতে পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার তুলে দিলেন তার একটা প্রাথমিক ধারণা সোমবার দুপুর একটার মধ্যেই মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতের ইতিহাস অবশ্য বলছে, কিছু কিছু কেন্দ্রের গণনা শেষ হতে রাতও গড়িয়ে যেতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গে এবার মোট দুইটি দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। প্রথম দফায় নির্বাচন হয়েছে গত ২৩ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন হয় গত ২৯ এপ্রিল। প্রথম (৯৩.১৯ শতাংশ) ও দ্বিতীয় দফা (৯২.৬৭ শতাংশ) মিলিয়ে এবার রেকর্ড সংখ্যক ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
গত নির্বাচনে কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৮টি থাকলেও এবার ভোট গ্রহণ হয়েছে ৭৭টি কেন্দ্রে। অর্থাৎ, এবারের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা কমানো হয়েছে ৩১টি। সেইসঙ্গে ভোট গণনা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তিন স্তরের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে গণনাকেন্দ্র। গণনাকেন্দ্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাউন্টিং এজেন্টদের (গণনাকারী প্রতিনিধি) ঢোকার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে এবং অনুমোদনপ্রাপ্ত এই এজেন্টদের ‘কিউআর কোড’–সংবলিত পরিচয়পত্র দেওয়া হয়েছে। কোনো ‘কাউন্টিং এজেন্ট’কে গণনাকেন্দ্রে মুঠোফোন নিয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। কেবল নির্বাচনী কর্মকর্তাদেরকে মুঠোফোন ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভোটের ফল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি— দুই শিবিরের মধ্যেই ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ হতেই বিভিন্ন সংস্থা যে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করেছিল, তার বেশিরভাগেই ইঙ্গিত মিলেছিল রাজ্যে ‘পরিবর্তন’ হতে চলেছে। ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। তবে, তৃণমূল দাবি করেছে, ২০২১ এবং ২০২৪ সালের ভোটেও বুথফেরত সমীক্ষা মেলেনি। এবারও মিলবে না। সরকারের তারাই আসছে।