
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আজ এক চূড়ান্ত নাটকীয় মুহূর্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। অভিনেতা থেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়া থালাপতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল ‘তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) বিধানসভায় আস্থা ভোটের মুখোমুখি হচ্ছে। মাত্র দুই বছরের পুরনো একটি রাজনৈতিক দলের জন্য আজকের এই দিনটি যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনি এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষাও বটে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, সংখ্যার বিচারে বিজয় আজ বৈতরণী পার হয়ে যেতে পারেন, তবে জয়ের ব্যবধান হতে পারে অত্যন্ত সামান্য। খবর এনডিটিভির।
বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার হলো ১১৮। বর্তমানে বিজয়ের দলের হাতে রয়েছে ১০৭ জন বিধায়ক, কারণ তিনি নিজে দুটি আসনের একটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। বিজয়ের জোটসঙ্গী কংগ্রেসের রয়েছে ৫ জন বিধায়ক এবং সিপিআই, সিপিএম, আইইউএমএল ও ভিসিকের মতো ডিএমকে জোটের শরিকরা বাইরে থেকে সমর্থন দিচ্ছে, যাদের মোট বিধায়ক সংখ্যা ৮। সব মিলিয়ে বিজয়ের পক্ষে ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একটি আসন নিয়ে এখনও আইনি লড়াই চলছে সুপ্রিম কোর্টে। শ্রীনিবাস সেতুপাথি নামের এক বিধায়কের ভোটদান নিয়ে উচ্চ আদালতের রায় বিজয়ের পক্ষে না গেলে তার মোট সমর্থন একজনের ভোটে কমে যাবে। যদিও তাতে সরকার টিকে থাকার পথে বড় কোনো বাধা আসার কথা নয়।
এই আস্থা ভোটের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে এআইএডিএমকের ৩০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের অবস্থান। যদিও তারা সরাসরি বিজয়ের পক্ষে ভোট দিতে পারবেন না, তবে তারা ভোটদান থেকে বিরত থাকলে বিজয়ের জয়ের পথ আরও সুগম হবে। এই বিদ্রোহের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান নেতা ই পালানিস্বামীর হাত থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়া। বিদ্রোহীরা দাবি করছেন, পালানিস্বামী চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকের সঙ্গে আঁতাত করে দলের আদর্শের অবমাননা করেছেন। সব মিলিয়ে আজকের এই ফ্লোর টেস্ট কেবল বিজয়ের সরকারের স্থায়িত্বই নয়, বরং তামিলনাড়ুর কয়েক দশকের পুরোনো দ্রাবিড় রাজনীতির ভবিষ্যৎও নির্ধারণ করে দেবে।