News update
  • PM Stresses Education, Health for Nation-Building     |     
  • Australia hold off Bangladesh fightback to seal T20I series     |     
  • Brahmaputra erosion leaves 30 families homeless in Kurigram char     |     
  • Held 30 years after murder: Prime accused in Netrokona jail     |     
  • Govt approves draft of Gambling Prevention Act, 2026     |     

উপকূল সংকট মোকাবিলায় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

স্টাফ করেস্পন্ডেন্ট জলবায়ু 2026-05-24, 4:14pm

bd049f8f-6eea-46b3-afde-54c41689fd4c-e0ae799eeca026b7f559388b30a950921779618104.jpg




জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার মানুষের জীবন-জীবিকা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এ কারণে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম (সিএএফ) ও লিডার্স আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বক্তারা। ফোরামের আহ্বায়ক আমিনুর রসুল বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সিরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সুমন, সচেতন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাকিলা পারভীন, লিডার্সের ন্যাশনাল অ্যাডভোকেসি কোঅর্ডিনেটর শাকিল আহমেদ এবং ইয়ুথ ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক সাদিয়া সুলতান শাপলাসহ অনেকে।

সংবাদ সম্মেলনে সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল দেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবন দেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি কার্বন শোষণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একই সঙ্গে চিংড়ি, কাঁকড়া ও সামুদ্রিক মৎস্য রফতানি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে।

তিনি বলেন, জাতীয় বাজেটে জলবায়ু খাতে বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় এখনও অপ্রতুল। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য আলাদা ও লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। এ বিষয়ে সরকারের আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে আমিনুর রসুল বলেন, উপকূলীয় পরিবেশগত সংকট নিরসনে জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করা, টেকসই বাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সুন্দরবন সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, নাগরিক সমাজ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ২১ দফা দাবি উপস্থাপন করে বলা হয়, দেশের ১৯টি উপকূলীয় জেলার সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য একটি উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিম, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জন্য পৃথক দপ্তর প্রতিষ্ঠারও দাবি জানানো হয়।

এছাড়া সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকাগুলোকে জলবায়ু ও দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা, পরিবেশবান্ধব অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার, প্রত্যন্ত অঞ্চলে সুপেয় পানি নিশ্চিত করা এবং ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণবান্ধব করার দাবি জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, শুধু অবকাঠামো নয়, প্রতিটি বাড়িকে দুর্যোগ সহনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াও সময়ের দাবি।