News update
  • Japan views Bangladesh as key dev partner: Jamaat Ameer     |     
  • Credit cards emerge as a financial lifeline for middle-class     |     
  • Call for a radical shift to solar, LNG to overcome energy crisis     |     
  • Measles Death Toll in Children Surpasses 350     |     
  • Global Eid on Same Day ‘Not Practical’: Mufti Malek     |     

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা, তেলের দাম কী আবারও বাড়ছে?

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক জীবাশ্ম 2026-01-03, 8:46pm

erttreter-3947410185fa43a5682efe28682cc8181767451564.jpg




বিশ্বের বৃহত্তম তেলের মজুত থাকা দেশ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিশেষ বাহিনী ‘ডেল্টা ফোর্স’-এর আকস্মিক হামলা এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সামরিক অভিযানের ঘোষণার পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। যদিও গত কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী ছিল, তবে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন এই আগ্রাসনের ফলে সেই ধারা অব্যাহত থাকবে কি না, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ওপেকের সদস্য ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলনের সক্ষমতা গত কয়েক বছরে নিষেধাজ্ঞার কারণে কমলেও তাদের খনিগুলোতে থাকা অপরিশোধিত তেলের গুরুত্ব অপরিসীম। মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ফলে দেশটির তেল ক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন ও রপ্তানি প্রক্রিয়া যদি দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি বড় ধরণের লাফ দিতে পারে। এর আগে ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে তেলের বাজার যেভাবে অস্থিতিশীল হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি সেই স্মৃতিকেই নতুন করে উসকে দিচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর মূলত চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো অনেকটা নির্ভরশীল। মার্কিন এই অভিযানের ফলে যদি সমুদ্রপথে তেল পরিবহন বা নতুন করে অবরোধ আরোপ করা হয়, তবে বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রাশিয়া ইতিমধ্যেই এই হামলার নিন্দা জানিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, একক শক্তির এমন পদক্ষেপ বিশ্ব অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট করবে। অন্যদিকে, মার্কিন ডেপুটি সেক্রেটারি অফ স্টেট ক্রিস্টোফার ল্যান্ডউ এই ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার জন্য একটি অর্থনৈতিক মুক্তির পথ হিসেবে দেখলেও বাজার পরিস্থিতির অস্থিরতা সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার অর্থ হলো সরাসরি পরিবহণ ও উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া। এটি কেবল উন্নত দেশগুলোতেই নয়, বরং আমদানিনির্ভর উন্নয়নশীল দেশগুলোর মূল্যস্ফীতিকেও উসকে দিতে পারে। তেলের বাজারের এই অস্থিরতা যদি স্থায়ী হয়, তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন যদি গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তেলের বাজার দীর্ঘদিন অস্থিতিশীল থাকতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ।